‘চাকরির আশায় গিয়েছিল, ওরা আমার ছেলেকে কষ্ট দিয়ে মেরে ফেলল’

· Prothom Alo

৩০ জানুয়ারি ঢাকা থেকে বিমানে দক্ষিণ আফ্রিকার পথে রওনা হন মো. ফাহাদ। প্রথমে ইথিওপিয়া, সেখান থেকে আরেকটি বিমানে জিম্বাবুয়ে হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার কথা ছিল তাঁর, কিন্তু তা আর হয়নি। দালালেরা ইথিওপিয়া থেকে জঙ্গলের পথ ধরে জিম্বাবুয়ে নিয়ে যায় তাঁকে।

‘আমার ছেলে চাকরির আশা নিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু ফিরল লাশ হয়ে। ওরা আমার ছেলেকে কষ্ট দিয়ে মেরে ফেলল। এখন আমি ছেলে কই পাব।’

Visit asg-reflektory.pl for more information.

ছেলের ছবি বুকে নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিলেন নুর মোহাম্মদ (৪৫)। তিনি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার জোয়ারা ইউনিয়নের উত্তর জোয়ারা গ্রামের বাসিন্দা। ১৫ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকায় তাঁর ছেলে মোহাম্মদ ফাহাদের (১৮) মৃত্যু হয়েছে। পরে লাশ দেশে এনে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে।

ছেলের লাশ দাফন শেষে বাড়িতে যাওয়ার পথে নুর মোহাম্মদের সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের। দুর্বল শরীর, বিমর্ষ মুখ নিয়ে মুঠোফোনে নিজের ছেলের ছবি দেখছিলেন তিনি। কখনো ছবি বুকে জড়িয়ে, কখনো চুমু দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন । কাঁপা কাঁপা গলায় তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের লাশ দাফন করে এসেছি। আমার ছেলে আর নেই।’

৩০ জানুয়ারি ঢাকা থেকে বিমানে দক্ষিণ আফ্রিকার পথে রওনা হন মো. ফাহাদ। প্রথমে ইথিওপিয়া, সেখান থেকে আরেকটি বিমানে জিম্বাবুয়ে হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার কথা ছিল তাঁর, কিন্তু তা আর হয়নি। দালালেরা ইথিওপিয়া থেকে জঙ্গলের পথ ধরে জিম্বাবুয়ে নিয়ে যায় তাঁকে। সেখান থেকে সড়কপথে দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছান ১৫ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন সকালে ছেলে দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছেছেন—এমন খবর পান ফাহাদের বাবা নুর মোহাম্মদ (৪৫)। কিন্তু সেই রাতেই আরেকটি টেলিফোনে ছেলের মৃত্যুর খবর আসে।

‘আপনার ছেলে আর নেই, ইন্না লিল্লাহ পড়েন’মো. ফাহাদ

পরিবারের ধারণা, দীর্ঘ পথযাত্রা, অনাহার, অসুস্থতা ও চিকিৎসার অভাবেই ফাহাদের মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা ফাহাদকে ২০০ ডলার দিয়েছিলেন। ব্যাগেও পর্যাপ্ত শুকনা খাবার দিয়েছিলেন। তবে জঙ্গলে তাঁর থেকে সবকিছু ছিনতাই হয়েছে। এ কারণে ফাহাদকে কষ্ট ভোগ করতে হয়েছে।

এ ঘটনার পর ফাহাদের লাশ দেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ফাহাদের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছায়। পরে সকাল ১০টায় চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার জোয়ারা ইউনিয়নের উত্তর জোয়ারা গ্রামের জামে মসজিদ মাঠে জানাজা হয়। জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় স্বজনদের পাশাপাশি এলাকার বিপুল মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

নুর মোহাম্মদ বলেন, তিনি দালালের মাধ্যমে ছেলেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঠান। তবে দালালেরা ইথিওপিয়া পর্যন্ত বিমানের টিকিট দেয়। এরপর আর বিমানে নিতে চায়নি। এ কারণে তাঁর ছেলেকে মরতে হয়েছে।

লাশ দেশে আসার পর বাড়িতে স্বজনদের ভিড়। আজ সকালে চট্টগ্রাম চন্দনাইশেরজোয়ারা ইউনিয়নের উত্তর জোয়ারা গ্রামে

ফাহাদের মরদেহ দেশে আনতে সহযোগিতা করেন দক্ষিণ আফ্রিকার মুসিনা শহরের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শামীম। জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার যেখানে ফাহাদকে রাখা হয়েছিল, এর আশপাশে তিনি এক দালালকে ঘুরতে দেখেছিলেন। এরপর তাঁর সন্দেহ হয়। এ কারণে তিনি ওই বাসার কক্ষে যান। এরপর ফাহাদের মরদেহ দেখতে পান। পরে পাসপোর্ট ও কাগজপত্র দেখে পরিচয় নিশ্চিত করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

মোহাম্মদ শামীমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ফাহাদের বাবা নুর মোহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘শামীম ভাই না থাকলে ছেলের লাশটাও পেতাম না। দালালেরা আমার ছেলের লাশটি লুকিয়ে ফেলত। আপনারা সবাই আমাকে সাহায্য করেছেন। আমি আপনাদের সবার কাছেই কৃতজ্ঞ।’

Read full story at source