জুলাই অভ্যুত্থানের কঠিন সময়ে প্রথম আলোর চেষ্টাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে চাই: সারজিস আলম
· Prothom Alo

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় যখন ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়ে নির্বিচার ছাত্র–জনতাকে হত্যা করা হচ্ছিল, যখন গণমাধ্যমকে প্রভাবিত করে সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল; তখন প্রথম আলোর মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য জানতে পেরেছেন বলে জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম।
উগ্রবাদীদের দেওয়া আগুনে দগ্ধ প্রথম আলো ভবনে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী ‘আলো’ ঘুরে দেখে আজ শনিবার সাংবাদিকদের এ কথা বলেন সারজিস আলম।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
সারজিস আলম বলেন, ‘জুলাইয়ের সময়ে যখন ইন্টারনেট শাটডাউন ছিল, তখন আমরা প্রথম আলোর মাধ্যমে জানতে পারতাম যে আজকে আমরা আমাদের কয়জন ভাইকে হারিয়েছি, কয়টা লাশ পড়েছে, কয়জন মানুষ শহীদ হয়েছেন। কঠিন সময়ে যখন অসংখ্য মিডিয়াকে প্রভাবিত করে তাদের নিউজ আসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, তখন প্রথম আলোর যে চেষ্টা ছিল, তা আমরা আজকের দিনে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে চাই।’
প্রথম আলো কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের বিষয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা আমাদের জায়গা থেকে চাই যে এই অন্যায়ের যেন সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বর্তমান সরকার উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। যারা প্রকৃত পক্ষে এটার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং দোষী, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে যেন উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আবার এই বিষয়টিকে যেন কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়েও আমাদের আহ্বান থাকবে।’
প্রদর্শনী ঘুরে দেখছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম। প্রদর্শনী দেখছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও। কারওয়ান বাজার, ঢাকা; ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬সারজিস আলম বলেন, ‘আমাদের প্রত্যেকের— ব্যক্তির হোক, প্রতিষ্ঠানের হোক কিংবা রাজনৈতিক বা দলীয় পর্যায় থেকে হোক—মতপার্থক্য থাকবেই। যেকোনো একটা বিষয়ের পক্ষে-বিপক্ষে আমাদের মতামত থাকতে পারে, কিন্তু সেটা যেন কোনোভাবেই এ ধরনের অপ্রত্যাশিত ভ্যান্ডালিজমের (ধ্বংসযজ্ঞ) পর্যায়ে না যায়।’
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার, মনিরা শারমিন প্রমুখ।
উল্লেখ্য, প্রথম আলোর পুড়িয়ে দেওয়া ভবন ঘিরে শিল্পী মাহ্বুবুর রহমানের তৈরি করা ‘আলো’ শীর্ষক এই প্রদর্শনী শুরু হয় ১৮ ফেব্রুয়ারি। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অগ্নিদগ্ধ ভবনটিতে প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে ১টা এবং বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে। প্রাথমিকভাবে প্রদর্শনী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলার কথা ছিল। পরে প্রদর্শনীর সময় দুই দিন বাড়ানো হয়েছে। ২ মার্চ পর্যন্ত এই প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।