পুলিশের অভিযানের সময় মাটিতে গড়াগড়ি, হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু যুবলীগ কর্মীর
· Prothom Alo

যন্ত্রণাকাতর ভঙ্গিতে মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছিলেন যুবক। গায়ে জামা নেই, এপাশ–ওপাশ করতে করতে মাটি চাপড়াচ্ছিলেন। কথাবার্তাও অসলগ্ন। একপর্যায়ে বলে ওঠেন, ‘আমার দুইটা বাচ্চা আছে স্যার।’
Visit fish-roadgame.online for more information.
গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ৩৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিওর দৃশ্য এটি। জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার আমবাগান আনসার ক্লাব এলাকায় পুলিশের অভিযানের সময় ভিডিওটি ধারণ করা হয়। ভিডিওতে মাটিতে গড়াগড়ি খাওয়া যুবকের নাম দিদারুল আলম। পুলিশের অভিযানের সময় অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিলে সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। পুলিশের দাবি, একাধিক মামলার আসামি দিদারুলকে গ্রেপ্তার করতে গেলে তিনি সঙ্গে থাকা কিছু ইয়াবা বড়ি চিবিয়ে খেয়ে ফেলেন। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে মারা যান।
নিহত দিদারুল আলম পাহাড়তলী থানা যুবলীগের কর্মী। গতকাল রাতে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি হয়।
এম মিজানুর রহমান নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারীর পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, ‘মাটিতে শুয়ে গড়াগড়ি করছেন দিদারুল। এ সময় যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন তিনি। দিদারুলকে বলতে শোনা যায়, ‘মোবাইল দেন, টাকা দেন, আমার দুইটা বাচ্চা আছে স্যার।’
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নগর পুলিশের এস ড্রাইভ নামের বিশেষ অভিযান চলছে। এরই অংশ হিসেবে মাদক ও খুনের মামলার আসামি দিদারুলকে ধরতে অভিযান শুরু করে পুলিশ। অভিযানের কথা টের পেয়ে দিদারুল তাঁর সঙ্গে থাকা ইয়াবা চিবিয়ে খেয়ে ফেলেন। পুলিশ যখন তাঁর সন্ধান পায়, তখন মাটিতে গড়াগড়ি করছিলেন তিনি। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন প্রথমে তাঁকে আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
জানতে চাইলে নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, অতিরিক্ত ইয়াবা চিবিয়ে খাওয়ার কারণে দিদারুল আলমের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ঘটনায় খুলশী থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
জানতে চাইলে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নিহত দিদারুলের ময়নাতদন্ত হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে। তবে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, অতিরিক্ত ইয়াবা চিবিয়ে খাওয়ার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। নিহত দিদারুলের বিরুদ্ধে খুন ও মাদকের মামলা রয়েছে বলে তিনি জানান।