স্রোতে মেশা ঘরে ফেরার গান

· Prothom Alo

সন্ধ্যা তখন সাড়ে সাতটা। সদরঘাট যেন একটা আলাদা পৃথিবী।
ঈদের ছুটি শুরু হতেই মনটা যেন পাখির মতো উড়াল দিয়েছে—বাড়ির দিকে, প্রিয় মানুষগুলোর কাছে। প্রতিবারের মতো এবারও বেছে নিয়েছি লঞ্চের পথ। বরিশালের মানুষের জন্য এই যাত্রা শুধু গন্তব্যে পৌঁছানোর মাধ্যম নয়, এটা একটা অনুভূতি, ঘরে ফেরার সেই চিরচেনা টান।

Visit saltysenoritaaz.com for more information.

ঈদের আগের রাতে এই ঘাটের চেহারা দেখলে বুকের ভেতরে একটা অদ্ভুত অনুভূতি জাগে। হাজারো মানুষ চারদিকে হইচই, হকারের ডাক, লঞ্চের হর্ন, কুলির ছুটে চলা—এই ঘাট যেন বাংলাদেশের এক জীবন্ত নাড়ির স্পন্দন।
টিকিট কাটা, সিঁড়ি বেয়ে লঞ্চে ওঠা, নিজের কেবিন বা আসন খুঁজে নেওয়া—সবকিছুর মধ্যেও একটা উত্তেজনা থাকে। কারণ, জানা আছে এই রাতটা একটু অন্য রকম হবে।

ছবি: লেখক

রাত ৯টায় লঞ্চ ছাড়ে। বুড়িগঙ্গার বুক চিরে যখন ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় বিশাল লঞ্চ, তখন পেছনে সরে যেতে থাকে ঢাকার আলোর ঝলমলানি। শহরের কোলাহল মিলিয়ে যায় ইঞ্জিনের একঘেয়ে ছন্দে। জানালার পাশে হেলান দিয়ে বসলে সামনে কালো জলের বুকে চাঁদের আলো ভেঙে ভেঙে পড়তে দেখা যায়। দুই পাশে ঘুমন্ত গ্রাম, মাঝেমধ্যে জেলেনৌকার একলা প্রদীপ জ্বলছে অন্ধকারের বুকে। বাতাসে নদীর চিরচেনা গন্ধ, রাতের নিস্তব্ধতা।

কোলের ওপর হুমায়ূন আহমেদের একটি প্রেমের উপন্যাস খোলা। তাঁর লেখায় যেমন সহজ কথার আড়ালে গভীর অনুভূতি লুকিয়ে থাকে, এই নদীপথটাও ঠিক তেমনই; দেখতে সরল; কিন্তু বুকের কোথাও এক অব্যক্ত টান জাগিয়ে রাখে।

রাত গভীর হলে লঞ্চের ডেকে ভিড় কমে আসে। কেউ কেউ ঘুমিয়ে পড়ে আসনেই, কেউ চুপ করে নদীর দিকে তাকিয়ে। ইঞ্জিনের ছন্দটা তখন আরও স্পষ্ট লাগে, একটা ঘুমপাড়ানি সুরের মতো।

ঈদের ছুটি শুরু হতেই মনটা যেন পাখির মতো উড়াল দেয়।

আকাশভরা তারা। হাতে বই। চোখের সামনে বয়ে চলা অন্তহীন নদী। এর চেয়ে শান্তির যাত্রা আর কী হতে পারে?

ভোরের আলো ফোটার আগেই টের পাওয়া যায়, বরিশাল আসছে। নদীর দুই পাশের দৃশ্য বদলাতে থাকে। পরিচিত গাছপালা, পরিচিত বাঁক। ফজরের আজানের সুর ভেসে আসে দূর থেকে। আর তখনই বুকের ভেতরে একটাই কথা এসে ভিড় করে—বাড়ি যাচ্ছি।

এই একটা কথাতেই যেন সারা রাতের ক্লান্তি উধাও হয়ে যায়। বরিশালের মানুষের জন্য লঞ্চ জার্নি শুধু যাওয়ার মাধ্যম নয়, এটা আবেগ, ঐতিহ্য ও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বয়ে চলা এক নদীর গল্প।

শিক্ষার্থী, সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়

Read full story at source