কার্যকারিতা হারাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের ২০ অধ্যাদেশ
· Prothom Alo

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগের অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ এবং স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। এই দুটিসহ চারটি অধ্যাদেশ বাতিল করতে (রহিত) সংসদে বিল আনার সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি।
Visit xsportfeed.life for more information.
এ ছাড়া গণভোট অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ক্ষমতা বাড়িয়ে করা অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধে করা অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশসহ ১৬টি অধ্যাদেশ এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করার সুপারিশ করা হয়েছে। এগুলোর ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে যাচাই–বাছাই করে অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। এটি হলে এ অধ্যাদেশগুলো বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। ১০ এপ্রিলের পর এগুলো কার্যকারিতা হারাবে। সব মিলিয়ে মোট ২০টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাচ্ছে।
বাকি ১১৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দিয়ে করা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশসহ ৯৮টি অনুমোদনের জন্য হুবহু বিল আকারে সংসদে উত্থাপনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। আর সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশসহ ১৫টি সংশোধিত আকারে বিল উত্থাপনের জন্য সুপারিশ করেছে বিশেষ কমিটি।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই–বাছাই করে গতকাল বৃহস্পতিবার এসব সুপারিশসহ সংসদে প্রতিবেদন দেয় জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। গতকাল সন্ধ্যায় কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন সংসদে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টির বিষয়ে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) দিয়েছেন বিশেষ কমিটিতে থাকা জামায়াতে ইসলামীর তিন সংসদ সদস্য। প্রতিবেদনে তাঁদের ভিন্নমতের উল্লেখ করা হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বৈঠকে অধ্যাদেশগুলো (১২ মার্চ) উপস্থাপন করা হয়। পরে এগুলো যাচাই করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের সমন্বয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করে সংসদ। আগামী সোমবার অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে উপস্থাপনের কার্যক্রম শুরু হবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সুপারিশ অনুযায়ী যে ২০টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাতে যাচ্ছে, তাতে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগের হোঁচট খাবে। অন্য দিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়েও চলছে রাজনৈতিক বিতর্ক। সব মিলিয়ে সংস্কার প্রশ্নে সামনের দিনে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হতে পারে।
এর মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট করার লক্ষ্যে গণভোট অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। এ অধ্যাদেশের বিষয়ে সুপরিশেও জামায়াতের ভিন্নমত আছে।
যে চারটি রহিত করার সুপারিশ
চারটি অধ্যাদেশ রহিতকরণে বিল আনার সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬।
সংবিধানে বিচারক নিয়োগে আইন করার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন এটা হয়নি। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার প্রথমবারের মতো সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ করে। তাতে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে বিচারক নিয়োগের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি বাছাই করবে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে স্বতন্ত্র এই কাউন্সিল যোগ্য ব্যক্তির নাম রাষ্ট্রপতি বরাবর সুপারিশ করবে।
অন্যদিকে অধস্তন আদালতের তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধান এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ করা হয়। এ অধ্যাদেশ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা হলে অধস্তন আদালত ও প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত সব প্রশাসনিক ও সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবে এই সচিবালয়।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বিচারকাজে নিয়োজিত বিচারকদের পদায়ন, পদোন্নতি, বদলি, শৃঙ্খলা ও ছুটিবিষয়ক সব সিদ্ধান্ত ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় এই সচিবালয়ের হাতে থাকবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রধান বিচারপতির ওপর ন্যস্ত থাকবে এবং সচিবালয়ের সচিব প্রশাসনিক প্রধান হবেন।
এ দুটি অধ্যাদেশ হুবহু রাখার পক্ষে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা। তাঁরা নোট অব ডিসেন্টে বলেছেন, এ দুটি অধ্যাদেশ বিচার বিভাগকে আরও শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ করার ক্ষেত্রে এবং বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
এ বিষয়ে জামায়াতের সদস্যরা ভিন্নমত জানিয়ে বলেছেন, তাঁরা অধ্যাদেশটি হুবহু পাসের পক্ষে। সরকারি দলের পক্ষ থেকে এ অধ্যাদেশ বাতিল করার প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু এই অধ্যাদেশ দুর্নীতি দমন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
যে ১৬টি এখনই সংসদে বিল নয়
এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করে পরবর্তী সময়ে অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে ১৬টি অধ্যাদেশের বিষয়ে।
সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ সালের রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গণভোট অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ সালের গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ ও তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ। এগুলো নিয়ে সুপারিশেও জামায়াতের সংসদ সদস্যদের নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত আছে।
পরবর্তী সময়ে বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করা অন্য অধ্যাদেশগুলো হলো মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ। এগুলো নিয়ে জামায়াতের ভিন্নমত নেই।
এর মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট করার লক্ষ্যে গণভোট অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। এ অধ্যাদেশের বিষয়ে সুপরিশেও জামায়াতের ভিন্নমত আছে।
এতে গুমকে ‘চলমান অপরাধ’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। এর সর্বোচ্চ শাস্তি নির্ধারণ করা হয় মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। পরে সংশোধনী এনে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি অন্তত পাঁচ বছর ধরে গুম থাকলে ট্রাইব্যুনাল তাঁর সম্পত্তি বৈধ উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টনযোগ্য ঘোষণা করতে পারবে।
দুদক অধ্যাদেশ ও জামায়াতের ভিন্নমত
দুদকের তদন্ত ও গোপন অনুসন্ধান ক্ষমতা বাড়িয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ জারি করা হয় ২০২৫ সালে। এতে সরাসরি এজাহার দায়েরের বিধান, বিদেশে সংঘটিত অপরাধসহ গুরুতর আর্থিক অপরাধকে আইনের আওতায় আনা, কমিশনের সদস্য বাড়ানোর বিধান করা হয়।
এ বিষয়ে জামায়াতের সদস্যরা ভিন্নমত জানিয়ে বলেছেন, তাঁরা অধ্যাদেশটি হুবহু পাসের পক্ষে। সরকারি দলের পক্ষ থেকে এ অধ্যাদেশ বাতিল করার প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু এই অধ্যাদেশ দুর্নীতি দমন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
গুম প্রতিরোধ আইন এখনই হচ্ছে না
বহুল আলোচিত গুম প্রতিরোধে প্রথমবারের মতো ২০২৫ সালে একটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। গুম থেকে সব ব্যক্তিকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক কনভেনশনের বিধানাবলি বাংলাদেশের আইনি কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এ অধ্যাদেশ করা হয়। এতে গুমকে ‘চলমান অপরাধ’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। এর সর্বোচ্চ শাস্তি নির্ধারণ করা হয় মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। পরে সংশোধনী এনে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি অন্তত পাঁচ বছর ধরে গুম থাকলে ট্রাইব্যুনাল তাঁর সম্পত্তি বৈধ উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টনযোগ্য ঘোষণা করতে পারবে।
বিশেষ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, এই অধ্যাদেশ চলতি অধিবেশনে পাসের জন্য তোলা না হলে তা কার্যকারিতা হারাবে। এ সিদ্ধান্তে জামায়াতের সদস্যদের ভিন্নমত আছে। তাতে বলা হয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে এই অধ্যাদেশ ল্যাপস (বাদ দেওয়া) করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারে যুক্তি হচ্ছে, নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তে সরকারের পূর্বানুমতি লাগবে। জাতীয় নিরাপত্তার কারণে আটক গুমের সংজ্ঞা থেকে বাদ দিতে হবে। তবে বিরোধী দলের যুক্তি হচ্ছে, গত ১৫ বছরে গুমের শিকার পরিবারগুলো সরকারের কাছে ন্যায়বিচার পায়নি। সরকারের কাছে অনুমতি চাইলে অনুমতি কখনো মেলে না। অনুমতির চাওয়া দায়মুক্তি।
মানবাধিকার অধ্যাদেশ
কমিশনকে প্রকৃত স্বাধীন ও কার্যকর সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বেশ কিছু মৌলিক পরিবর্তন এনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ করা হয়। এ–সংক্রান্ত মোট তিনটি অধ্যাদেশ এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তেও জামায়াতের সদস্যদের ভিন্নমত আছে। তাঁরা বলেছেন, এখানে কমিশনকে একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রে বাছাই কমিটি করার কথা বলা আছে। কমিশনকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কমিশনকে গুমসংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্র অনুসন্ধান ও তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া আছে। এই অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি হচ্ছে কমিশন কোনো মন্ত্রণালয়ের আওতায় না থাকায় তদারকি কীভাবে হবে। নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তের আগে সরকারের অনুমতি লাগবে। গ্রেপ্তারে আদালতের পরিবর্তে সরকারের অনুমতি লাগবে। বাছাই কমিটিতে আরও সরকারি প্রতিনিধি যোগ করতে হবে। প্রতিটি পদে দুটি নাম প্রস্তাব করতে হবে।
সরকারের এই যুক্তির জবাবে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুদক, নির্বাচন কমিশন, মহা-হিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয় কোনো মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেই। মানবাধিকার কমিশনের নিয়োগ ও অপসারণের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া হয়েছে। অনুমতি নিয়ে তদন্ত দায়মুক্তি। আদালতের পরিবর্তে সরকারের অনুমতি নিয়ে গ্রেপ্তার বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপ।
রাজস্বসংক্রান্ত
রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। এতে বিদ্যমান কাঠামো পুনর্গঠন করে রাজস্ব নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম পৃথক করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন রাজস্ব নীতি বিভাগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ নামে দুটি পৃথক বিভাগ প্রতিষ্ঠার বিধান করা হয়। এটি নিয়ে কর্মকর্তারা আন্দোলনে নেমেছিলেন।
২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ জারি করে সরকার। মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্দেশে এটি করা। এটি এখনো কার্যকর হয়নি।
সংশোধিত আকারে বিল আসবে ১৫টি
১৫টি অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে সংশোধিত আকারে বিল উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে কোথায় কী সংশোধনী আনা হবে, তা বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। এগুলো হলো ২০২৫ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ, সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ, কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট), জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ, মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ সালের মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ।
এর মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ সংশোধন করে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এই অধ্যাদেশে কোনো নির্দিষ্ট সত্তার কার্যক্রমকে নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করা হয় এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ সত্তার মিছিল-মিটিং, প্রকাশনাসহ যেসব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা যাবে, তার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এটি সংশোধিত আকারে সংসদে পাস করার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে কী সংশোধন করা হবে, তার উল্লেখ করা হয়নি।
বিশেষ কমিটির একটি সূত্র জানায়, এখানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় নিষেধাজ্ঞা না মানলে তার সাজা যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। সংশোধনীতে এ ধরনের ক্ষেত্রে সাজার বিধান যুক্ত করার বিষয়টি থাকতে পারে।
পুলিশ কমিশন
বাছাই কমিটির মাধ্যমে একটি পুলিশ কমিশন গঠন এবং কমিশন পুলিশের মহাপরিদর্শক নিয়োগের সুপারিশ করবে, নাগরিকদের অভিযোগ ও পুলিশের অভ্যন্তরীণ সংক্ষোভ নিয়ে কাজ করবে—এই লক্ষ্যে পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এটি সংশোধিত আকারে সংসদে পাস করার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে কী সংশোধনী আনা হবে, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এখানে সংশোধনী আনার বিষয়ে বিরোধী দলের ভিন্নমত আছে। তারা বলেছে, এ অধ্যাদেশের ফলে পুলিশ বাহিনীকে একটি দক্ষ, জবাবদিহিমূলক এবং আধুনিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।
৯৮টি হুবহু বিল তোলার সুপারিশ
যে অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের জন্য হুবহু বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে, তার মধ্যে আছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কিছু অধ্যাদেশ আছে। এগুলোতে বিশেষ পরিস্থিতি ও জনস্বার্থে প্রশাসক নিয়োগের বিধান করা হয়। এ ক্ষেত্রে বিরোধী দলের আপত্তি আছে।
এ ছাড়া এ তালিকায় আছে বাংলাদেশ ব্যাংক অ্যামেন্ডমেন্ট অর্ডিন্যান্স ২০২৪, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, জাতির পিতার পরিবার-সদসদ্যগণের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, বিশ্ববিদ্যালয়–সংক্রান্ত কতিপয় আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ (বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যায়ের আইনে উল্লেখিত বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা, শেখ হাসিনা ইত্যাদি নামের পরিবর্তন)। গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনাল) (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট), জাতীয় সংসদের সীমানা নির্ধারণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ। এ ছাড়া আরও বেশ কিছু অধ্যাদেশ আছে, যেগুলো নাম পরিবর্তনসংক্রান্ত।