উত্তরসত্য দুনিয়ায় একনায়কের যুদ্ধ–উন্মাদনা ও মানবিক সংহতির চ্যালেঞ্জ
· Prothom Alo

আমেরকিা, ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধে পাকিস্তানের মধ্যস্ততায় আমেরিকা ও ইরানের শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির খবর ইতিমধ্যে বিশ্ববাসী জেনেছে। ইসরায়েল এ যুদ্ধবিরতির পক্ষ নয় বলে জানা যাচ্ছে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরায়েল ইরানে ও লেবালনে হামলা অব্যাহত রেখেছে। ইরানও ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। হরমুজ প্রণালি বর্তমানে কেবল 'আংশিকভাবে' সচল রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। কারণ, ট্রাম্প ইরানের চারপাশে স্থল সেনা মেতায়েনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। কার্যকর যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনাস্থা, সংশয় ও অবিশ্বাস কাটছে না। কিছু যুদ্ধের প্রভাব তো আর থেমে নেয়।
‘রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়’। ইরান যুদ্ধ এক ভয়াবহ বাস্তবতা তৈরি করেছে। যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানিসংকটে বৈশ্বিক জনজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে। জ্বালানিসংকটের কারণে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ ধুঁকছে।
Visit rouesnews.click for more information.
বিশ্ব গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, এমন অবস্থা চলতে থাকলে অল্প কিছুদিনের মধ্যে পৃথিবীর অনেক দেশ তীব্র তেলসংকট পড়বে। এমনকি তেলশূন্যও হয়ে পড়তে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাও রয়েছে সেই কাতারে। সংকট মোকাবিলায় সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে।
তবে সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সহজ হবে না। কারণ, খাদ্য-সেবা উৎপাদন, বাণিজ্য, পরিবহনসহ জনজীবনের সব ক্ষেত্র জ্বালানি ইস্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত। এ সংকটের পেছনে রয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানিব্যবস্থার ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা। তথ্য দেখা যাচ্ছে, পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি তেল রিজার্ভ রয়েছে ভেনেজুয়েলার। হয়তো ভেনেজুয়েলার জ্বালানি সম্পদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য ট্রাম্প দেশটির প্রেসিডেন্টকে তুলে আনলেন। অন্যদিকে তেল উত্তোলনে বৈশ্বিক চার্টে ইরানের অবস্থান ষষ্ঠ। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি এবং পরাশক্তি, বিশেষত চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক ট্রাম্পের জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র যে পথে হাঁটছে, তা চলতে থাকলে পৃথিবী আরও অশান্ত হয়ে পড়বে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধ ভিন্নমাত্রা নিয়ে হাজির হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের জন্য ক্ষান্ত দিয়েছে। অগ্রগতির এ যুগে শাসকেরা যুদ্ধের জন্য এতটা মরিয়া হয়ে উঠবেন, তা ভাবা যায় না। যদিও রাষ্ট্রগুলো যুদ্ধ বা আগ্রাসন ঠেকাতে সমবেত উদ্যোগে নানা ধরনের কাঠামো ও বিধিবিধান তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব কাঠামো বা বিধিবিধান কাজ করলেও আজ সেগুলো অসার প্রমাণিত হচ্ছে।
যেভাবে একের পর এক পরাজয় আড়াল করছেন ট্রাম্পযুক্তরাষ্ট্র এসব নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা, এমনকি জাতিসংঘকেও উপেক্ষা করে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ বিস্ময়কর এক শাসক নির্বাচন করেছেন। কেন এ নির্বাচন তার গূঢ় রসায়ন বোঝা সহজ নয়? এ শাসক কেবল নিজ দেশের শুভবোধসম্পন্নদের নয়, সারা দুনিয়ার মানুষদের অস্বস্তিতে ফেলেছেন। তাঁর পরিশীলনবোধের অভাব চোখে পড়ে। তাঁর হাতে অনেক রক্ত। তিনি অন্য দেশের শাসকদের ধরে আনেন, হত্যা করেন এবং উল্লাস প্রকাশ করেন।
ট্রাম্প নামের এ শাসককে দেখা হচ্ছে উত্তরসত্য দুনিয়ার মূল চরিত্র হিসেবে। যেখানে সত্যের চেয়ে অসত্যের জোগান বেশি। তিনি ফ্যাক্টের তুলনায় ফিকশনে বেশি আসক্ত। জনমনস্তত্ত্বের ওপর তাঁর রয়েছে বিশেষ প্রভাব। জার্নালিজম ইন দ্য পোস্ট–ট্রুথ এরা: এথিক্যাল, পলিটিক্যাল অ্যান্ড সোশ্যাল পারস্পেকটিভ (২০২৫) গ্রন্থে এরিন একিন আরকেন উল্লেখ করেছেন ‘ট্রাম্প কোনো ভয় বা অসত্য কথার প্রভাব বিবেচনা ছাড়াই নিঃসংকোচে মিথ্যা বলেন।’ একই গ্রন্থে ওয়াশিংটন পোস্ট–এর ফ্যাক্ট চেকের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, আগের শাসনামলের চার বছরে ট্রাম্প মোট ৩০ হাজার ৫৭৩টি মিথ্যা বলেছেন। ট্রাম্প ও তাঁর রাজনৈতিক নেক্সাস যুদ্ধমুক্ত পৃথিবী গড়তে বড় বাধা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলতাহলে চলমান সংকট উত্তরণের উপায় কী? কারণ, বৈশ্বিক চেক অ্যান্ড ব্যালান্সব্যবস্থা কাজ করছে না । এ অবস্থায় শান্তিপূর্ণ, সহনশীল ও মানবিক পৃথিবীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে বিপুলসংখ্যক মানবিক, বোধসম্পন্ন, চিন্তাশীল একাডেমিক, শিল্পী, সাহিত্যিক, মানবাধিকারকর্মী, অ্যাকটিভিস্ট রয়েছেন। রয়েছে শক্তিশালী গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজ। প্রেসার গ্রুপ হিসেবে তাদের ভূমিকা আগামীর পৃথিবীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ পারেন বেপরোয়া শাসককে নিয়ন্ত্রণে রাখতে। কারণ, বিষয়টি দেশটির গৌরবগাথার সঙ্গে সম্পৃক্ত। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সব ভালো অর্জন মাটিতে মিশিয়ে দিচ্ছেন। দেশটিকে বিশ্ববাসীর সামনে হেয় করে উপস্থাপন করছেন।
পৃথিবীজুড়ে বিবেকবোধসম্পন্ন মানুষদের সংহতি আরেকটি বিশেষ দিক। পৃথিবীজুড়ে এ নাগরিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মানুষে মানুষে এ বৃহৎ অ্যালায়েন্স গড়ে তোলা গেলে তা হবে যুদ্ধ বন্ধে একটি উন্নত বিকল্প। ওয়ার্ল্ড হিউম্যান অ্যালায়েন্স ফর পিসের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে। মানুষের ভেতর থেকে নতুন নেতৃত্ব বেরিয়ে আসুক। সত্যি সত্যি মানুষ দাঁড়িয়ে গেলে কোনো অশুভ শক্তির পক্ষে টেকা সম্ভব হবে না।
তিলে তিলে গড়া নৈতিক বিশ্বব্যবস্থা ভাঙতেই কি এই ‘ধর্মযুদ্ধ’যুদ্ধের কারণে গরিব মানুষ বা গরিব দেশগুলো ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। সম্প্রতি ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের এক খবর দেখানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে ডিজেলের অভাবে হাতিয়ার জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না। নদীপাড়ে তাঁরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। জীবন ও জীবিকা সংকটের মুখে পড়েছেন। রাজধানীতে যাঁরা পাঠাও চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন, তাঁরাও পড়েছেন মহাসংকটে! পাঁচ-ছয় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত।
একদিকে যেমন জ্বালানি তেলের সরবরাহ কম, অন্যদিকে ক্রেতারা আতঙ্কিত হয়ে বাড়তি তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। ময়মনসিংহের এক পেট্রলপাম্পের মালিকের বক্তব্য থেকে জানা গেছে, সংকটের আগে তিনি প্রতিদিন ৫-৬ হাজার লিটার পেট্রল বিক্রি করতেন, এখন তাঁর পাম্পে প্রতিদিন চাহিদা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার লিটার। আরও রয়েছে অসাধু চক্রের জ্বালানি তেল চুরি ও মজুত করার প্রবণতা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অবৈধভাবে মজুত তেল উদ্ধারের খবরও পাওয়া যাচ্ছে।
গরিবেরা যেমন, গরিব দেশগুলোও তেমন। গরিবেরা দিন আনে দিন খায়, গরিব দেশগুলোও ঠিক তা–ই। যেমন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের ১৪-১৮ দিনের জ্বালানি তেলের রিজার্ভ রয়েছে। জ্বালানি তেল না পেলে কী হবে, সেই আতঙ্ক সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে। যার প্রাথমিক ভুক্তভোগী গরিব মানুষেরা।
বাস্তবতা হলো, মানুষ মেরে শেষ করা যাচ্ছে না। কোনো যুদ্ধে মানুষ মেরে শেষ করা যায়নি। মানুষ বা মনুষ্যত্ব নিঃশেষ করা যায় না। মৃত্যু মাড়িয়ে মানুষ আবার জীবন ও স্বপ্ন ছিনিয়ে আনে। মানুষ অজেয়, মানুষের মৃত্যু নেই। গাজা, ফিলিস্তিন, ইরান, কাশ্মীরসহ পৃথিবীর অগ্নিগর্ভা কোনো স্থানই মানুষ নিশ্চিহ্ন করা যাচ্ছে না। তবে বাড়ছে কবরের সংখ্যা ও পরিধি।
যেকোনো সংকট মোকাবিলায় সরবরাহ ও বণ্টনব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় সম্পদের স্বল্পতা নয়, ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটির কারণে সংকট তীব্রতর হয়। অমর্ত্য সেন তাঁর পোভার্টি অ্যান্ড ফেমেইন: অ্যান্ডে এছে অন ইন্টাইটেলমেন্ট অ্যান্ড ফিপ্রাইভেশন (১৯৮১) গ্রন্থে দেখিয়েছেন, ১৯৪৩-এর বাংলা মন্বন্তর বা ১৯৭৪ বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষের মূল কারণ খাদ্যাভাব ছিল না, পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত থাকা সত্ত্বেও ত্রুটিপূর্ণ বণ্টনব্যবস্থা, মুদ্রাস্ফীতি এবং মানুষের খাদ্য কেনার সক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ঘটেছিল। উভয় দুর্ভিক্ষে খাদ্য উৎপাদন কমেছিল, সঙ্গে সঙ্গে কমেছিল মানুষের ক্রয়ক্ষমতা।
১৯৪৩-এর মন্বন্তরে প্রায় ৩০ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল এবং ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে সরকারি হিসাবমতে, ৭০০ থেকে ৪০ হাজার মানুষ অনাহারে মারা যান। অন্যান্য বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার মতে, এ মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১০ থেকে ১৫ লাখের মতো। অমর্ত্য সেনের তত্ত্বের মূল বিষয় ছিল, দুর্ভিক্ষ মূলত একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বণ্টনব্যবস্থার ব্যর্থতার ফলাফল, কেবল প্রাকৃতিক কোনো ঘটনা নয়।
কঠিন বাস্তবতা মোকাবিলা সহজ কাজ নয়। এ জন্য দরকার বিশেষায়িত জ্ঞান। ওরিয়েন্টালিজমখ্যাত তাত্ত্বিক অ্যাডওয়ার্ড সাঈদের বক্তব্য হলো, যেকোনো ভীতিকর বাস্তবতা মোকাবিলায় মানুষের জ্ঞান অপর্যাপ্ত প্রমাণিত হয়েছে। সুতরাং পেশাদারি উৎকর্ষের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা অধিকতর মনোযোগী ও কৌশলী হতে হবে।
ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের দাবিতে যুক্তরাজ্যের রচেষ্টারের কেন্টে বিএই সিস্টেমসে যাওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়ে বিক্ষোভকী ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য এ যুদ্ধ, মানুষ তা জানে না? কত ঠুনকো অভিযোগে এসব যুদ্ধ! যেমন কেউ জীবনঘাতী অস্ত্র বানাচ্ছে কি না (যেমন ইরান), কিংবা কেউ কোনো সামরিক জোটে যোগ দিচ্ছে কি না? (যেমন ইউক্রেন ন্যাটো জোটে যোগদান প্রসঙ্গ)। যুদ্ধ ন্যায্য কর্মকাণ্ড নয়, বরং সবচেয়ে হিংসাত্মক তৎপরতা; যা কেবল ভয়াবহ নয়, মানবসমাজের সবচেয়ে কুৎসিত দিক।
যেসব সৈন্য যুদ্ধে লিপ্ত, তাঁরাই–বা কতটুকু জানেন কী কারণে তাঁরা যুদ্ধ করছেন? একজন মার্কিন বা ইসরায়েলি সৈন্য নির্বিচারে ইরানে শিশুদের স্কুলে বোমা ফেলছেন, অথচ তাঁর ঘরেও রয়েছে একটি শিশু। হত্যার নেশায়, ধ্বংসের নেশায় মাতিয়ে তোলা হচ্ছে প্রশিক্ষিত ও সুসজ্জিত সৈন্যদের।
দুঃখজনক ব্যাপার হলো, তাঁরাও দেখতে মানুষের মতো, শাসকেরাও মানুষরূপী; কিন্তু তাঁরা হৃদয়হীন। মৃত্যু ও ধ্বংস তাঁদের আনন্দিত করছে, জীবনের অস্তিত্ব করছে বিক্ষুব্ধ। পৃথিবীতে শুধু তাঁরাই থাকতে চান, থাকবে তাঁদের শাসন ও শাসনপ্রণালি। তাঁরা বুঝতে চাচ্ছেন না, মানুষ না থাকলে তাঁদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের কেউ অবশিষ্ট থাকবে না!
বাস্তবতা হলো, মানুষ মেরে শেষ করা যাচ্ছে না। কোনো যুদ্ধে মানুষ মেরে শেষ করা যায়নি। মানুষ বা মনুষ্যত্ব নিঃশেষ করা যায় না। মৃত্যু মাড়িয়ে মানুষ আবার জীবন ও স্বপ্ন ছিনিয়ে আনে। মানুষ অজেয়, মানুষের মৃত্যু নেই। গাজা, ফিলিস্তিন, ইরান, কাশ্মীরসহ পৃথিবীর অগ্নিগর্ভা কোনো স্থানই মানুষ নিশ্চিহ্ন করা যাচ্ছে না। তবে বাড়ছে কবরের সংখ্যা ও পরিধি।
আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা মানুষের মৌলিক আকাঙ্ক্ষা। এটি মানুষের রুহানিয়াত বা আধ্যাত্মিকতা এবং অস্তিত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি কেবল ধর্মীয় চেতনার বিষয় নয়, এটিই বিজ্ঞান। এ জন্য মানুষকে মূল্য দিতে হচ্ছে, ভবিষ্যতেও দিতে হবে।
প্রযুক্তির কল্যাণে কোনো যুদ্ধ এখন নির্দিষ্ট ফ্রন্টিয়ার্সে হয় না, হয় পৃথিবীব্যাপী। কারণ, এটা কানেকটিভিটির যুগ। যুদ্ধ বা সহিংসতার ভার্চ্যুয়াল সংস্করণও দেখা যাচ্ছে। সামনাসামনি যুদ্ধ উঠে আসছে মোবাইল ও টেলিভিশনের স্ক্রিনে, সংবাদপত্রের পাতায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সবাই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুদ্ধ দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি পৃথিবীর সার্বিক গতিপ্রবাহ বদলে দিচ্ছে। দেশে দেশে, মানুষে মানুষে সম্পর্ক পুনর্নির্ধারিত হচ্ছে।
শান্তি না সংঘাত, কোনো পথে হাঁটবে পৃথিবী, দুনিয়াজুড়ে সেই সমর্থন যাচাই করলে নিশ্চয়ই জিতবে শান্তি। শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বাসযোগ্য পৃথিবীর দাবি উঠুক সবার কণ্ঠে। দুই সপ্তাহ নয় চাই বিশ্বব্যাপী স্থায়ী শান্তির বন্দোবস্ত।
খান মো. রবিউল আলম যোগাযোগবিশেষজ্ঞ ও শিক্ষক