হাওরে ধান কাটার শ্রমিকসংকট মোকাবিলায় সুনামগঞ্জের সব বালুমহাল ও শুল্ক স্টেশন বন্ধ ঘোষণা

· Prothom Alo

সুনামগঞ্জের হাওরে বোরো ধান কাটার শ্রমিকসংকট মোকাবিলায় সব বালুমহাল ও শুল্ক স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ২০ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জেলার সব বালুমহালে বালু উত্তোলন, পরিবহন বন্ধ এবং একই সঙ্গে শুল্ক স্টেশনের কার্যক্রমও বন্ধ থাকবে।

Visit bettingx.bond for more information.

রোববার বিকেলে সুনামগঞ্জের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বালুমহাল বন্ধের বিষয়টি জানানো হয়। এ ছাড়া তাহিরপুর উপজেলা সীমান্তে থাকা তিনটি শুল্ক স্টেশন বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ খসরুল আলম।

এর আগে শনিবার বিকেলে মাইকিং করে জেলার বৃহৎ বালুমহাল যাদুকাটা নদীতে বালু উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। সুনামগঞ্জ–১ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের নির্দেশনায় যাদুকাটা নদী ও শুল্ক স্টেশন বন্ধের এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সুনামগঞ্জের হাওরে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে অনেক হাওরে বৃষ্টির পানি জমে আছে। যে কারণে কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটতে সমস্যা হচ্ছে। অনেক স্থানে পানির কারণে মেশিন ব্যবহার করা যাচ্ছে না। আরও রয়েছে ধান কাটার শ্রমিকের সংকট। এসব মোকাবিলায় ও কৃষকদের সুবিধার্থে পর্যাপ্ত শ্রমিক সরবরাহের জন্য জেলার সব বালুমহালে বালু উত্তোলন ও অন্যান্য স্থানের বালু, মাটি ও মাটিমিশ্রিত বালু উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

কৃষকেরা জানান, হাওরের অনেক ধান পানিতে ডুবে গেছে। জেলার বেশ কয়েকটি হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করেছেন কৃষকেরা। আবার কোথাও কোথাও নিজেদের উদ্যোগে তাঁরা পাম্প বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করেছেন। হাওরে একসময় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ধান কাটার শ্রমিকেরা আসতেন। আবার স্থানীয়ভাবেও শ্রমিক ছিলেন। দিন দিন বাইরের শ্রমিকদের আসা কমে গেছে। আবার ধান কাটার যন্ত্র চালু হওয়ায় স্থানীয় শ্রমিকেরাও আর আগের মতো ধান কাটেন না।

সদর উপজেলার দেখার হাওরপাড়ে ইছাগড়ি গ্রামের কৃষক আবদুল কাইউম বলেন, ‘এখন মেশিন ছাড়া উপায় নেই। একটা মেশিনে এক দিনে যে পরিমাণ জমির ধান কাটা ও মাড়াই করা যায়, ১০০ জন শ্রমিকের দ্বারা সেটা সম্ভব নয়।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের ১৩৭টি হাওরে এবার ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরের গভীর অংশে ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৫ হেক্টর এবং হাওর ছাড়া তুলনামূলক উঁচু অংশে ৫৮ হাজার ২৩৬ হেক্টর। ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জে ধান কাটার জন্য ৫৭৭টি কম্বাইন হারভেস্টার সচল রয়েছে। এ ছাড়া ১০৮টি হারভেস্টার আছে যেগুলো সংস্কার করলে কাজে লাগানো যাবে। এগুলোর মালিক ও কোম্পানিকে যন্ত্রগুলো সচল করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রিপার আছে ১৪৬টি। এবার হাওরে হারভেস্টার দিয়ে এক বিঘা (৩৩ শতক) জমির ধান কাটা ও মাড়াইয়ের জন্য মেশিনমালিকেরা ১ হাজার ৯০০ টাকা করে নেবেন বলে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। কোনো মেশিনমালিক কৃষকদের কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি টাকা নিতে পারবেন না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, যেসব হাওরে বেশি পানি আছে, সেখানে মেশিন দিয়ে ধান কাটতে সমস্যা হবে। ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি পানি থাকলে সেখানে মেশিনে ধান কাটা সম্ভব।

Read full story at source