ঘাটের ইজারা নিয়ে সড়ক বানিয়ে টোল আদায়, বর্ষায় নদীর পানিপ্রবাহ ব্যাহত

· Prothom Alo

বংশী নদীর পূর্ব প্রান্তে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের পাথরঘাটা। পশ্চিম প্রান্তে বাসাইল উপজেলার সিংগারডাক গ্রাম। পাথরঘাটা খেয়াঘাট নামে পরিচিত ঘাটটি ইজারা নিয়ে শুষ্ক মৌসুমে নদীতে সড়ক নির্মাণ করেন ইজারাদার। ওই সড়ক দিয়ে এলাকার মানুষকে টোল দিয়ে পারাপার হতে হয়। এখন ওই সড়কের কারণে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।

জেলা পরিষদ প্রতি অর্থবছরে এই ঘাট ইজারা দেয়। স্থানীয় লোকজন জানান, ঘাটটি কয়েক বছর ধরে মির্জাপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য ও ব্যবসায়ী ইব্রাহিম খান পরিচালনা করছেন। এ বছর ইজারা নেওয়া হয়েছে তাঁর ছোট ভাই সুমন খানের নামে। চলতি বছর জেলা পরিষদ ৭ লাখ ৩২ হাজার টাকায় সুমন খানকে ঘাট ইজারা দিয়েছে।

Visit palladian.co.za for more information.

মঙ্গলবার দুপুরে পাথরঘাটা খেয়াঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটের দুই প্রান্তে ইজারাদারের নির্মিত সড়কটি জেগে আছে। মাঝখানে সড়ক উপচে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকা দিয়ে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে।

যাত্রী পারাপারের দায়িত্বে থাকা মিন্টু মিয়া জানান, ১৫-২০ দিন আগে নদীতে পানি এসেছে। এর পর থেকে নৌকা দিয়ে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে রাস্তা তৈরি করে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হয়। তখনো নৌকা দিয়ে পারাপারের মতো টোল আদায় করা হয়। বেশ কয়েক বছর ধরে ইব্রাহিম খানের তত্ত্বাবধানে তাঁরা নদী পারাপারের টোল আদায় করছেন বলে জানান তিনি।

সিংগাইরডাক গ্রামের বাসিন্দা আজিম উদ্দিন বলেন, প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে তিন-চার মাস নদীতে রাস্তা তৈরি করে মানুষ পারাপার করা হয়। একই গ্রামের আবুল কাশেম বলেন, শুকনা নদী দিয়ে পার হতে হলেও ১০ টাকা দিতে হয়। এর জন্য কোনো রসিদ দেওয়া হয় না।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসের দিকে নদীর পানি পুরোপুরি শুকিয়ে যায়। তখন ইজারাদাররা নদীর ভেতর রাস্তা তৈরি করেন। রাস্তা দিয়ে পার হতে জনপ্রতি ১০ টাকা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ৩০ টাকা এবং জিপ, ট্যাক্সি ও মাইক্রোবাস থেকে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা টোল নেওয়া হয়। শুষ্ক মৌসুম শেষে নদীতে পানি এলেও সড়ক কেটে দেওয়া হয় না। তাঁরা (ইজারাদাররা) রাস্তার জন্য পাকা একটি কালভার্টও নদীর ভেতর তৈরি করে রেখেছেন।

এ বিষয়ে ওই ঘাট পরিচালনাকারী উপজেলা বিএনপির সদস্য ইব্রাহিম খান বলেন, রাস্তাটি সেখানে সেতু নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে। তিনি বলেন, অনেক টাকা দিয়ে ঘাটটি নেওয়া হয়। লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পেতে শুষ্ক মৌসুমেও পারাপারে টোল আদায় করা হয়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সহিদ মাহমুদ বলেন, নদীতে বাঁধ দিয়ে বা রাস্তা নির্মাণ করে পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা ঠিক না। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়। জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয়। এটি একটি অপরাধ। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এদিকে দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রবিউল আওয়াল বলেন, শুষ্ক মৌসুমে জনস্বার্থে কেউ রাস্তা তৈরি করলেও পানি আসার মৌসুমে তা সরিয়ে নেওয়া উচিত। কোনো অবস্থাতেই নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ব্যাহত করা যাবে না।

এ বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবিব বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Read full story at source