পল্লবীর শিশু হত্যার বিচার যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করবে সরকার: আইনমন্ত্রী

· Prothom Alo

রাজধানীর পল্লবীতে নৃশংসভাবে শিশু হত্যার ঘটনায় করা মামলার বিচার দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘এই মামলা যত দ্রুত শেষ করা সম্ভব, আমরা সে সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করব।’

Visit sport-tr.bet for more information.

রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার অডিটোরিয়ামে আজ শনিবার সকালে অনুষ্ঠিত ‘আইনগত সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ, দায়িত্ব ও বাস্তবায়ন কৌশল’ শীর্ষক কর্মশালায় আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন। বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর এবং ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি এ কর্মশালার আয়োজন করে।

১৯ মে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পল্লবীতে তিনতলা ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে আট বছরের এক শিশুর খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ওই দিন রাতে পল্লবী থানায় ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা, তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ও অজ্ঞাতপরিচয় একজনকে আসামি করে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এনে মামলা করেন। পুলিশ সোহেল ও স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করেছে।

পল্লবীর শিশু হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিলের পর বিচার শেষ করতে কত দিন সময় লাগতে পারে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, মাগুরার আট বছরের শিশু হত্যা মামলায় চার্জশিট দাখিলের পর বিচার শেষ করতে এক মাস সময় লেগেছিল। ১৯৪৮ সালের মুলুক চাঁদ মামলার উদাহরণ উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, সে মামলায় এক দিনেই বিচারকাজ সম্পন্ন হয়েছিল।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বিদ্যমান আইনের বিধান অনুসরণ না করে চার্জশিট (অভিযোগ) দাখিল করা হলে প্রসিকিউশনের ক্ষেত্রে “ফ্যাটাল ইনজুরি” (দুর্বলতা) থেকে যেতে পারে। এ ধরনের মামলায় ডিএনএ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। যখন ডিএনএ পরীক্ষা করার সুযোগ রয়েছে, তখন তা অবশ্যই করা উচিত।’

সাধারণত ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে কয়েক সপ্তাহ কিংবা কয়েক মাস সময় লাগলেও এ মামলার রিপোর্ট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাওয়ার চেষ্টা চলছে এবং বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে বলে জানান আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ২৫ মে থেকে ঈদ উপলক্ষে সরকারি ছুটি শুরু হবে। এর আগেই যদি ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়া যায় এবং ঈদের আগেই চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হয়, তাহলে ঈদের পরপরই বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সাধারণ মানুষ এবং দেশ-বিদেশের মানুষের যে প্রত্যাশা, সেই প্রত্যাশা পূরণে আমরা সক্ষম হব বলে আশা করি। যদি আমরা কোনো ভুল পথে এগিয়ে যাই, তাহলে আপনারা আমাদের সমালোচনা করবেন, গাইড করবেন (পথ দেখাবেন)। এ বিষয়ে আমাদের কোনো কার্পণ্য থাকবে না।’

শিশু ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান বলেন, এটি সামাজিক অবক্ষয়ের অংশ। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিলেও তা কার্যকর করতে উচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।

এ সময় নেত্রকোনায় একটি মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনাটি নজরে আনা হলে আইনমন্ত্রী জানান, সরকার এটা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার সরকারি আইনগত সহায়তাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চায়। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে গরিব, অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন।’

বৈষম্যবিরোধী আইন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আইনে কোনো বৈষম্য থাকলে তা দূর করার চেষ্টা করা হবে। আমরা সমান্তরালভাবে কাজ করতে চাই।’

বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনজুরুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদেম উল কায়েস প্রমুখ বক্তব্য দেন। মুক্ত আলোচনায় বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি-ইউএনডিপিসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

Read full story at source