চোখের পাপ থেকে বাঁচার ৫ আমল

· Prothom Alo

মানবজীবনে চোখ আল্লাহ-তাআলার এক মহান নিয়ামত। এই চোখ দিয়েই মানুষ পৃথিবীর সৌন্দর্য দেখে, জ্ঞান অর্জন করে এবং সত্য-মিথ্যা উপলব্ধি করে। তবে চোখ যদি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে, তবে তা বহু পাপের পথ খুলে দিতে পারে। তাই ইসলাম দৃষ্টির হেফাজতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

Visit rouesnews.click for more information.

বর্তমান যুগে মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নানা ধরনের অনিয়ন্ত্রিত কনটেন্টের কারণে চোখের পাপ থেকে বাঁচা আরও কঠিন হয়ে গেছে। তাই একজন মুমিনের জন্য দৃষ্টি ও অন্তর সংযত রাখা অত্যন্ত জরুরি।

অনিচ্ছাকৃতভাবে হারাম কোনো কিছুর দিকে দৃষ্টি পড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সেই দৃষ্টি যদি বারবার ফিরে যায় কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘায়িত হয়, তখন তা পাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

১. দৃষ্টি নত রাখা

চোখের পাপ থেকে বাঁচার প্রথম ও প্রধান উপায় হলো দৃষ্টি নত রাখা। এটি নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য। আল্লাহ-তাআলা বলেন, (হে নবী,) আপনি মুমিন পুরুষদের বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে।…এবং আর মুমিন নারীদেরও বলে দিন, তারা যেন নিজেদের দৃষ্টি সংযত রাখে।” (সুরা নুর, আয়াত: ৩০-৩১)

তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে হারাম কোনো কিছুর দিকে দৃষ্টি পড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সেই দৃষ্টি যদি বারবার ফিরে যায় কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘায়িত হয়, তখন তা পাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

মহানবী (সা.) বলেছেন, “প্রথম দৃষ্টির পর দ্বিতীয়বার আর তাকাবে না। কারণ প্রথমটি তোমার জন্য ক্ষমাযোগ্য, কিন্তু দ্বিতীয়টি নয়।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২১৪৯)

ইসলামে ধ্যান করার কার্যকর ৫ পদ্ধতি

২. নির্জনে আল্লাহর ভয়

মানুষের প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ পায় নির্জনে। যখন কেউ একা থাকে, মোবাইল ব্যবহার করে কিংবা গোপনে কোনো হারাম কাজের সুযোগ পায়, তখনই তার ইমান ও তাকওয়ার বাস্তব পরীক্ষা হয়। যে ব্যক্তি এই মুহূর্তে নিজেকে সংযত রাখতে পারে, সেই-ই প্রকৃত মুত্তাকি।

সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২১৪৯প্রথম দৃষ্টির পর দ্বিতীয়বার আর তাকাবে না। কারণ প্রথমটি তোমার জন্য ক্ষমাযোগ্য, কিন্তু দ্বিতীয়টি নয়।

আল্লাহ-তাআলা বলেন, “নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে বেশি সম্মানিত, যে সবচেয়ে বেশি খোদাভীরু।” (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ১৩)

৩. পাপের পরিবেশ এড়িয়ে চলা

যে পরিবেশে অশালীনতা ও লজ্জাহীনতা বেশি, সেখানে চোখকে সংযত রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ইসলাম তাই শুধু গুনাহ নয়; পাপের পরিবেশ থেকেও দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। বলা হয়েছে, “তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না।”(সুরা ইসরা, আয়াত: ৩২)

বর্তমানে অনেক পাপের সূচনা হয় স্ক্রিনের মাধ্যমে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক হওয়া অত্যন্ত জরুরি। যেসব পেজ, ভিডিও বা অ্যাকাউন্ট অন্তরকে পাপের দিকে টানে, সেগুলো থেকে দূরে থাকাই নিরাপদ।

কোরআনের প্রভাব কতটা শক্তিশালী

৪. কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক

কোরআন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এক মহিমান্বিত গ্রন্থ, যা মানবজাতিকে পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা প্রদান করে। তাই শুধু কোরআন পাঠ নয়; বরং এর অর্থ বোঝা, অন্তরে ধারণ করা এবং বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আল্লাহ-তাআলা বলেন, “নিশ্চয়ই এই কোরআন সেই পথ দেখায়, যা সবচেয়ে সরল ও সঠিক।” (সুরা ইসরা, আয়াত: ৯)

যখন একজন মানুষ কোরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলে, তখন তার অন্তর পরিশুদ্ধ হতে শুরু করে। ফলে তার চিন্তা, দৃষ্টি ও চরিত্র ধীরে ধীরে সুন্দর, সংযত ও ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং সে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে দ্রুত অগ্রসর হয়।

প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে চোখের নিয়ন্ত্রণও কঠিন হয়ে যায়। এ কারণে ইসলাম রোজা ও নফল ইবাদতের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

৫. রোজার রাখা

প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে চোখের নিয়ন্ত্রণও কঠিন হয়ে যায়। এ কারণে ইসলাম রোজা ও নফল ইবাদতের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, “যার বিয়ের সামর্থ্য নেই, সে যেন রোজা রাখে কারণ রোজা প্রবৃত্তিকে দমন করে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৬৬)

রোজা মানুষের ভেতরে আত্মনিয়ন্ত্রণ সৃষ্টি করে এবং গুনাহের প্রবণতা কমায়। পাশাপাশি তাহাজ্জুদ, জিকির, দোয়া ও নফল নামাজ অন্তরকে প্রশান্ত করে এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করে।

  • রায়হান আল ইমরান : লেখক ও গবেষক

পাপ থেকে ফিরে আসার ৬ উপায়

Read full story at source