মাগুরায় সংঘাত রুখতে পুলিশের আয়োজনে ‘সম্প্রীতির ফুটবল’
· Prothom Alo

মাগুরায় সংঘাত ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগ ও আলোচনার পাশাপাশি এবার সম্প্রীতির ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করেছে জেলা পুলিশ। গতকাল শনিবার বিকেলে মাগুরা সদর উপজেলার হাজরাপুর ইউনিয়নে এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়। এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ও সামাজিক বন্ধন জোরদার করতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
গতকাল বিকেলে মাগুরা সদর উপজেলার হাজরাপুর ইউনিয়নের রাউতাড়া স্কুলের মাঠে ‘পুলিশ সুপার কাপ সম্প্রীতির ফুটবল–২০২৬’ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়। প্রথম দিনের এই প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয় মাগুরা জেলা পুলিশ ও হাজরাপুর ইউনিয়নের দুই বিবদমান পক্ষের একটি ফুটবল দল। ৯০ মিনিটের রোমাঞ্চকর ম্যাচে মাগুরা জেলা পুলিশ দলকে ৩–১ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয় হাজরাপুর ইউনিয়ন দল।
Visit forestarrow.rest for more information.
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই ইউনিয়নের আলমখালী ও আশপাশের এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সংঘাত, ভাঙচুর ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। এতে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি ও সামাজিক দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। এই বিরোধপূর্ণ পরিবেশ দূর করে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার ধারাবাহিকতায় জেলা পুলিশ এই ব্যতিক্রমী খেলার আয়োজন করেছে।
দীর্ঘদিন পর এমন আয়োজনে রাউতাড়া স্কুলের মাঠে বিপুলসংখ্যক দর্শকের ঢল নামে। মাঠে দুই দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও গ্যালারি ও মাঠের বাইরে পুলিশ সদস্য ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। খেলায় বিজয়ী দলের স্ট্রাইকার সামাদ দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হন।
মাঠে খেলা চলছে। গতকাল বিকেলে মাগুরা সদর উপজেলার রাউতাড়া স্কুলের মাঠেহাজরাপুর ইউনিয়নের বিবদমান পক্ষগুলোর একটির নেতৃত্ব দেন হাজরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের বিএনপির সাবেক সভাপতি শহিদুল ইসলাম। এলাকার সংঘাতের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এলাকায় আমাদের মধ্যে এগুলো (সংঘাত ও সংঘর্ষ) লেগেই আছে। তবে পুলিশ সুপারের উদ্যোগে দুই পক্ষের আলোচনায় এলাকায় দীর্ঘদিনের যে সমস্যা ও দলাদলি ছিল, এই খেলার মাধ্যমে তার একটি ইতিবাচক সমাধান বলে মনে হচ্ছে। সমাজে কিছু বিশৃঙ্খল লোক আছেন। তাঁরা ছাড়া বেশির ভাগ লোকই শান্তি চান।’
ম্যাচের উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন। খেলা শুরুর আগে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে টুর্নামেন্টের সূচনা করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, ‘আজ এই খেলার মাধ্যমে আমাদের মধ্যে, এই হাজরাপুর, হাজরাপুরের মানুষের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের যে বিবাদ, যে মারামারি, হানাহানি ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল, তার ইতি ঘটাব আমরা, ইনশা আল্লাহ। কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিভেদ সমাজের জন্য কাম্য নয়; বরং মিল–মহব্বত ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে।’
খেলা শেষে প্রধান অতিথি চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন। অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।