বাজেট বড় হলেও বাস্তবায়ন অসম্ভব নয়: এফবিসিসিআই

· Prothom Alo

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার বড় হলেও তা বাস্তবায়ন অসম্ভব নয় বলে মনে করে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। তবে সে জন্য দূরদর্শিতা, দক্ষতা ও স্বচ্ছতা প্রয়োজন বলে তাঁরা মনে করেন।

সংগঠনটি বলেছে, বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও সরকার যে একটি বড় আকারের বাজেট দিয়েছে, তা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও প্রবৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। তাদের মতে, বাজেটের আকার বড় হলেও তা অবাস্তব নয়; বরং উন্নয়ন ও বিনিয়োগের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সে কারণে আবার বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করবে।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

এফবিসিসিআইয়ের পর্যবেক্ষণ হলো, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা ও কাঠামোগত পুনর্গঠনের যে তিনটি ভিত্তির ওপর বাজেট করা হয়েছে, তা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে অর্থনীতি টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি নিরাপত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তির মতো খাতে অগ্রাধিকার দেওয়াকে তারা দীর্ঘমেয়াদি মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।

এফবিসিসিআই মনে করে, এই ইতিবাচক কাঠামোর মধ্যেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজস্ব আহরণ। ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ‘বড় চ্যালেঞ্জ’ বলে মনে করে তারা।

সংগঠনটির মতে, কর-জিডিপির নিম্ন অনুপাত, প্রশাসনিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধীরগতির কারণে এই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে রাজস্ব প্রশাসনের আধুনিকায়ন ও কর ফাঁকি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে চাপ আরও বাড়বে।

ব্যাংক খাত নিয়েও সংগঠনটি সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ বেসরকারি খাতের জন্য ঋণপ্রবাহ সংকুচিত করতে পারে বলে তারা মনে করে। ফলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান—উভয় ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তারা ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক উৎস ও সাশ্রয়ী ঋণ ব্যবহারে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

বাজেটে সুদ পরিশোধের যে উচ্চ ব্যয় ধরা হয়েছে, সেটিও এফবিসিসিআইয়ের দৃষ্টিতে বড় ধরনের আর্থিক চাপ। প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি সুদ ব্যয় উন্নয়ন ব্যয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এতে বাজেটের ভারসাম্য রক্ষা করা আরও কঠিন হতে পারে।

অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। সংগঠনটির মতে, ঘোষিত প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হলেও তা নির্ভর করবে মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির সমন্বয়, জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীলতা ও আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ওপর।

আশাবাদী এফবিসিসিআই

তবে বাজেটের কিছু দিক নিয়ে এফবিসিসিআই আশাবাদী। বিশেষ করে ব্যবসা সহজীকরণের জন্য অনলাইন কর ব্যবস্থাপনা, সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থা, অটোমেটেড রিটার্ন ফাইলিং ও বিনিয়োগবান্ধব শিল্পনীতি অর্থনীতিকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর দিকে এগিয়ে নেবে, সংগঠনটি সেটাই মনে করে। একইভাবে এসএমই, স্টার্টআপ ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ঘোষিত প্রণোদনা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে বলে তারা মনে করে।

রপ্তানি খাতের বহুমুখীকরণ, নতুন বাজার অনুসন্ধান, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগকে এলডিসি উত্তরণের পরবর্তী সময়ে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে এফবিসিসিআই। পাশাপাশি শিল্পায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপরও জোর দিয়েছে সংগঠনটি।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগকে তারা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তবে একই সঙ্গে সুবিধাভোগীদের কাছে সঠিকভাবে এসব সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করার ওপর তারা গুরুত্ব দিয়েছে, নাহলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না বলে সতর্ক করেছে।

করকাঠামো সংস্কারের লক্ষ্যেও কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। করব্যবস্থাকে ডিজিটাল ও সহজ করার উদ্যোগ স্বাগত জানিয়েছে তারা। সেই সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় ও উৎপাদন খরচ কমাতে বাজেটে বেশকিছু ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে এফবিসিসিআইয়ের যেসব প্রস্তাব বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে উৎসে অগ্রিম কর হার ৫ থেকে হ্রাস করে ৪ শতাংশ নির্ধারণ; মৌলিক কৃষি ও ভোগ্যপণ্য, যেমন ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর বিভিন্ন হারে আরোপিত উৎসে কর হ্রাস; খেজুর ও সব ধরনের রান্নার মসলা আমদানিতে আরোপিত ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার।

Read full story at source