বিশ্ব সংগীত দিবস: সুরে বাঁধা মানুষের জীবন

· Prothom Alo

আনন্দে, বেদনায়, ভালোবাসায়, প্রতিবাদে কিংবা নিঃসঙ্গতার মুহূর্তে—গান মানুষের সবচেয়ে কাছের সঙ্গী।

মানুষের জীবনে এমন কিছু বিষয় আছে, যা ভাষা, ধর্ম, জাতি কিংবা ভৌগোলিক সীমারেখাকে অতিক্রম করে সবাইকে এক সুতায় গেঁথে রাখে। সংগীত তার মধ্যে অন্যতম। আনন্দে, বেদনায়, ভালোবাসায়, প্রতিবাদে কিংবা নিঃসঙ্গতার মুহূর্তে—গান মানুষের সবচেয়ে কাছের সঙ্গী। তাই বলা হয়, সংগীত শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি মানুষের অনুভূতির ভাষা।

প্রতিবছর ২১ জুন বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব সংগীত দিবস। ১৯৮২ সালে ফ্রান্সে শুরু হওয়া এই আয়োজন আজ বিশ্বের শতাধিক দেশে উদ্‌যাপিত হয়। দিনটির মূল উদ্দেশ্য হলো সংগীতকে মানুষের আরও কাছে পৌঁছে দেওয়া, নতুন শিল্পীদের উৎসাহিত করা এবং সংগীতচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরা।

Visit rouesnews.click for more information.

বাংলার মানুষের সঙ্গে সংগীতের সম্পর্ক যেন আরও গভীর, আরও আবেগময়। এ দেশের মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের নানা অধ্যায়ে গান জড়িয়ে আছে। মায়ের ঘুমপাড়ানি গান থেকে শুরু করে গ্রামীণ মাঠের ভাটিয়ালি, বাউলদের আধ্যাত্মিক সুর, প্রেমের গান কিংবা স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত দেশাত্মবোধক সংগীত—সবকিছুতেই রয়েছে বাংলার মানুষের জীবনবোধের প্রতিফলন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান আমাদের হৃদয়ের সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলোকে প্রকাশ করে। কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং মানবতার বার্তা বহন করে। লালন, হাসন রাজা কিংবা আব্দুল করিমের ফোক গান বাংলার মাটি ও মানুষের গল্প বলে। আধুনিক গান, ব্যান্ড সংগীত কিংবা সমসাময়িক শিল্পীদের সৃষ্টি—সবকিছু মিলিয়ে বাংলা গানের ভুবন হয়ে উঠেছে বৈচিত্র্যময় ও সমৃদ্ধ।

আজকের প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে সংগীতের বিস্তার আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে সহজ হয়েছে। একটি মুঠোফোনের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের গান মুহূর্তেই শোনা যায়। তবে এই সহজলভ্যতার যুগে শিল্পী এবং শিল্পের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিল্পীর সৃষ্টির পেছনে থাকে দীর্ঘ সাধনা, পরিশ্রম এবং ত্যাগ। তাই শুধু গান শোনা নয়, শিল্পীদের যথাযথ মূল্যায়ন এবং তাঁদের কাজের প্রতি সম্মান দেখানোও আমাদের দায়িত্ব।

বিশ্ব সংগীত দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সংগীত কেবল বিনোদনের জন্য নয়; এটি মানবিকতা, সংস্কৃতি এবং সৌন্দর্যবোধের ধারক। সমাজে সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা গড়ে তুলতে সংগীতের ভূমিকা অপরিসীম। নতুন প্রজন্মকে গান শেখা, বাদ্যযন্ত্রচর্চা এবং সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া প্রয়োজন।

সুরের কোনো সীমান্ত নেই। একটি গান যেমন একজন মানুষের মন ভালো করে দিতে পারে, তেমনি হাজারো মানুষকে একত্রিত করতেও পারে। তাই বিশ্ব সংগীত দিবসে সব সংগীতপ্রেমী, শিল্পী, গীতিকার, সুরকার এবং সংগীতকর্মীদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। আসুন, আমরা শিল্পকে ভালোবাসি, শিল্পীদের সম্মান করি এবং সংগীতচর্চার মাধ্যমে আরও সুন্দর, মানবিক ও সংস্কৃতিমনস্ক সমাজ গড়ে তুলি। কারণ, যেখানে শব্দ থেমে যায়, সেখানে কথা বলে সুর।

সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা মহানগর বন্ধুসভা

Read full story at source