বিশ্ব ফুটবলে শুরু হলো ইয়ামাল অধ্যায়, সেজদার পর বিশেষ উদ্যাপনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর শেকড়ের গল্প
· Prothom Alo

বিশ্বকাপে প্রথম গোল করে মাঠেই সেজদা দিয়ে স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দুই হাত বুকের কাছে এনে একটি বিশেষ চিহ্ন তৈরি করেন লামিনে ইয়ামাল। এর সঙ্গে জড়িয়ে তাঁর শেকড়ের গল্প, যা তিনি কখনও ভোলেন না।
Visit casino-promo.biz for more information.
বিশ্বকাপ ২০২৬-এ যাঁদের ওপর সবচেয়ে বেশি স্পটলাইট, স্পেনের টিনএজ তারকা ফুটবলার লামিনে ইয়ামাল তাঁদের অন্যতম। বিশ্বকাপে তাঁর প্রথম গোল দেখার অপেক্ষায় ছিলেন কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী।
সবার নজর এই টিনএজ স্প্যানিশ ফুটবলারের দিকেপ্রথম ম্যাচে সেই প্রত্যাশা পূরণ না হলেও দ্বিতীয় ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে প্রথম ১০ মিনিটেই জালের দেখা পান এই ‘লা রোজা’ তারকা। আর এর সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হলো বিশ্ব ফুটবলের ইয়ামাল অধ্যায়।
তবে সবসময়ের মতোই গোলের চেয়েও বেশি নজর কাড়া তাঁর উদযাপন। এটি অবশ্য তাঁর সিগনেচার পোজ হিসেবেই পরিচিত। গোল করে মাঠেই সেজদা দিয়ে স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দুই হাত বুকের কাছে এনে একটি বিশেষ চিহ্ন তৈরি করেন ইয়ামাল।
গোল করে মাঠেই সেজদা দিয়ে স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ইয়ামালগোলের পর ইয়ামালের সিগনেচার ৩০৪ সেলিব্রেশনতাঁর আঙুলে তৈরি হয় ‘থ্রি' ‘জিরো' ‘ফোর'। বাম হাতে ‘৩’ ও ‘০’, আর ডান হাতে ‘৪’ দেখান। অনেকেই মনে করেন ইয়ামাল নিছক উদযাপনের জন্যই এক ‘র্যান্ডম নাম্বার' তৈরি করেন। কিন্তু ইয়ামাল আসলে এর মাধ্যমে মনে করেন তাঁর শৈশব কাটানো শহরকে, সম্মান জানান তাঁর কমিউনিটি ও শেকড়কে।
৩০৪ আসলে কী?
মরোক্কান বাবা ও ইকুয়েটোরিয়াল গিনির মায়ের সন্তান লামিন ইয়ামালের জন্ম স্পেনে, মাতারো শহরের রোমাফোন্দ এলাকায়। বার্সেলোনার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত আফ্রিকান অভিবাসী-অধ্যুষিত একটি শ্রমজীবী পাড়া রোকাফোন্দে বেড়ে উঠেছেন ইয়ামাল।
ছোটবেলা থেকেই ফুটবল খেলতে শুরু করেন ইয়ামাল। বাড়ির কাছের একটি কংক্রিটের মাঠেই তিনি নিজের দক্ষতা গড়ে তোলেন। সেই রোকাফোন্দ থেকেই শুরু হয়েছিল তাঁর ফুটবলযাত্রা, যা পরে তাঁকে বার্সেলোনায় নিয়ে যায়। আর এখন স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপে।
মাতারো শহরের আফ্রিকান অভিবাসী-অধ্যুষিত শ্রমজীবী পাড়া রোকাফোন্দে বেড়ে উঠেছেন ইয়ামালমাতারোর পোস্টকোড থেকেই এসেছে ৩০৪আর স্পেনের মাতারো শহরের সেই এলাকার পোস্টাল কোডই ০৮৩০৪। এই পোস্ট কোডের শেষ তিন সংখ্যাকেই বেছে নিয়েছেন নিজের সেলিব্রেশনে, ছড়িয়ে দিয়েছেন পুরো বিশ্বে, জানান দিচ্ছেন ‘দেখো আমি কোথা থেকে এসেছি'। গোল উদযাপন থেকে শুরু করে তাঁর বুট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম,সবখানেই এই সংখ্যাটি তাঁর পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ইয়ামালের বাবা এই ‘৩০৪’ সিলেব্রেশন তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন। বিশ্বকাপে গোল করার পরে তা তিনি ডেডিকেট করতে ভোলেন নি মাতারোবাসীদের কথা বলতে।
এছাড়াও, ১৮ বছর বয়সী লামিন ইয়ামাল তাঁর নাম এবং বিখ্যাত ‘৩০৪’ উদযাপনকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কপিরাইট অফিস (EUIPO) থেকে ট্রেডমার্ক হিসেবে নিবন্ধন করেছেন গত বছর।
এই সেলিব্রেশন এখন ইয়ামালের ট্রেডমার্ক করাপ্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়ামাল মোট সাতটি ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের আবেদন করেছেন, যেগুলোর মেয়াদ ২০৩৫ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে
Lamine Yamal (তাঁর পূর্ণ নাম)
LY304
304 FC
তাঁর বিখ্যাত ‘৩০৪’ উদযাপনের ভঙ্গি ও প্রতীক
সূত্র: ইয়াহু স্পোর্টস, গোল ডট কম
ছবি: ইন্সটাগ্রাম