সেতু হওয়ায় পদ্মা নদীর তিন ভাগের দুই ভাগ শেষ হয়ে গেছে: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী
· Prothom Alo
পদ্মা নদীর ওপর সেতু করার ফলে নদীটির দুই ভাগের তিন ভাগ শেষ হয়ে গেছে জানিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, ‘যে প্রক্রিয়ায় আমাদের সেতুগুলো তৈরি হচ্ছে, এই প্রক্রিয়া হলে বাংলাদেশের নদীর যে প্রবাহ, সেটা বন্ধ হয়ে যাবে।’
Visit moryak.biz for more information.
এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা কিন্তু তিন ভাগের দুই ভাগ শেষ হয়ে গেছে। আমি একজন পরিবেশকর্মী হিসেবে আহত হই, যখন দেখি যে এইগুলো নিয়ে আবার আরেকটা ব্রিজ (সেতু) করার চিন্তাভাবনা করছে, যমুনাতে আরেকটা করার চিন্তাভাবনা করছে, তখন কিন্তু এই নদীগুলো কিন্তু বাঁচানো যাবে না কিন্তু।’
প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের ‘দুর্বার কন্যা প্রোগাম মডেল’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন শেখ ফরিদুল ইসলাম। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় কিশোরী ও তরুণদের নেতৃত্ব নতুন গতি আনতে পারে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি শিখেছেন, জনসচেতনতা ও সোচ্চার অবস্থান থাকলে সরকারও সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে বাধ্য হয়। তাঁর ভাষায়, ‘তরুণরা যদি উদ্যোগ নেয়, সরকার শুনতে বাধ্য।’
প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের ‘দুর্বার কন্যা প্রোগাম মডেল’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানের অতিথিরাঅনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী জলবায়ু অভিযোজন ও প্রকৃতিনির্ভর সমাধানকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারের ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচির পাশাপাশি ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খননের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে পরিকল্পনা নিতে হবে। উপকূল, পাহাড়, চর ও বন্যাপ্রবণ এলাকার সংকট ভিন্ন হওয়ায় সমাধানও হতে হবে ভিন্ন। বিশেষ করে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, বরগুনা, পটুয়াখালী ও ভোলার মতো উপকূলীয় জেলাগুলোতে জলবায়ু–সহনশীলতা গড়ে তুলতে নতুন উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দূষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকটকে এখনকার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন শেখ ফরিদুল ইসলাম। শিল্পকারখানার অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব সমস্যা মোকাবিলায় সরকার কাজ শুরু করেছে। একই সঙ্গে প্লাস্টিক দূষণ রোধে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কক্সবাজারে সম্প্রতি কয়েক টন প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণের উদ্যোগ ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘দুর্বার কন্যা প্রোগাম মডেলের’ ধারণা তুলে ধরেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস। তিনি বলেন, ‘দুর্বার কন্যা’ কেবল একটি প্রকল্প বা কর্মসূচির মডেল নয়; এটি একটি ধারণা, একটি বিশ্বাস এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি স্বপ্ন। তাঁর ভাষায়, বাংলাদেশের কিশোরী ও তরুণীরা শুধু পরিবর্তনের সাক্ষী বা অংশগ্রহণকারী নয়, বরং ভবিষ্যতে জলবায়ু অভিযোজন ও সহনশীলতার নেতৃত্ব দেবে।
কবিতা বোস বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত সবার ওপর সমানভাবে পড়ে না; উপকূলের কিশোরী, চরাঞ্চলের কৃষক কিংবা হাওরের নারীরা ভিন্ন ভিন্নভাবে এই সংকটের মুখোমুখি হয়। তাই বাস্তবতাভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে পরিবেশকর্মী, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তা ও তরুণ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।