মেহেরপুরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পচা ডিম বিতরণের চেষ্টা, ধরা পড়ল গার্ডিয়ান কমিটির সতর্কতায়
· Prothom Alo

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার একটি বিদ্যালয়ে ‘মিড-ডে মিল’ নামে পরিচিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ কিছু পচা ডিম বিতরণের চেষ্টার ঘটনা ধরা পড়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মায়েদের সমন্বয়ে গঠিত ‘গার্ডিয়ান কমিটি’-এর সতর্কতায় বিতরণের আগেই এসব পচা ডিম শনাক্ত হয়। পরে তা অপসারণ করে নতুন করে ডিম দেওয়া হয়। আজ শুক্রবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
Visit lej.life for more information.
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচির আওতায় সম্প্রতি দেশের কিছু এলাকায় পচা বা কাঁচা কলা, নিম্নমানের বানরুটি ও নষ্ট সেদ্ধ ডিম বিতরণের ঘটনা ঘটে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের খাদ্যনিরাপত্তা ও সেবার মান তদারকিতে বিদ্যালয় পর্যায়ে মায়েদের সমন্বয়ে গত মে মাসে পাঁচ সদস্যের ‘গার্ডিয়ান কমিটি’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। কমিটিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, ব্যবস্থাপনা কমিটির একজন সদস্য ও তিনজন অভিভাবক মা সদস্য হিসেবে আছেন।
মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গাংনী উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে নিম্নমানের খাদ্য বিতরণের অভিযোগ প্রকাশের পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেন। তিনি তাৎক্ষণিক তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় দ্রুত ঘটনাস্থলে তদন্ত পরিচালনা করে। তদন্তে বেরিয়ে আসে, ১ জুলাই শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা ১৩৩টি ডিমের মধ্যে ২০টি ছিল নিম্নমানের। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয়ের ‘গার্ডিয়ান কমিটি’ খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সুশীলনের নজরে আনে। তারা এক ঘণ্টার মধ্যে ডিমগুলো সরিয়ে নেয়। নতুন ডিম সরবরাহ করে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে মান নিয়ন্ত্রণে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
পুষ্টিহীনতা ও ক্ষুধা প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম বড় বাধা—এই বাস্তবতা মাথায় রেখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচি চালু করা হয় গত বছরের সেপ্টেম্বরে। দেশের ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি বিদ্যালয়ে প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে এই খাবার দেওয়া হয়।
এই কর্মসূচি সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে সরকার। কর্মসূচির লক্ষ্য—শিক্ষার্থীর উপস্থিতি বাড়ানো, ঝরে পড়া কমানো ও শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ ধরে রাখা।
‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচিতে খাবারের তালিকায় রয়েছে বানরুটি, সেদ্ধ ডিম, কলা, ইউএইচটি দুধ ও ফর্টিফায়েড বিস্কুট (বাড়তি পুষ্টিসমৃদ্ধ)।
একসময় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের বিস্কুটজাতীয় খাবার দেওয়া হতো। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে গরম খাবার (খিচুড়ি) দেওয়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও পরবর্তী সময় খাবারের ধরনে পরিবর্তন আনা হয়।
সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় অভিযোগ ওঠে, বানরুটি, কলা ও ডিমের বিতরণ পর্যায়ে কিছু সমস্যা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে এসব খাবার সংগ্রহ করে সরবরাহ করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো এজেন্টদের মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন করে। এ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি দামে বরাদ্দ বেশি হলেও কোথাও কোথাও ১৪-১৫ টাকায় বানরুটি কেনা হয়। কোথাও কোথাও ডিম অনেক আগে থেকেই সেদ্ধ করে রাখা হয়। আবার কোথাও কোথাও কলা কাঁচা বা পচা থাকে।
এ রকম পরিস্থিতিতে তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মিড ডে মিল: কোনো কোনো স্কুলে পচা কলা, নষ্ট ডিম দেওয়ার অভিযোগ, খাবারের ধরন বদলের চিন্তা