আপনার কি উচ্চতাভীতি আছে, থাকলে কী করবেন

· Prothom Alo

বর্ষাকালে দেশের পাহাড়ি এলাকাগুলো সেজে ওঠে নতুন রূপে। মেঘে ঢাকা পাহাড়, সবুজ অরণ্য আর উচ্ছ্বসিত ঝরনার টানে অনেকেই ছুটে যান বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়িসহ বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চলে। তবে পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি কারও কারও হতে পারে একধরনের মানসিক অস্বস্তি—হাইট ফোবিয়া বা উচ্চতাভীতি। আপনারও কি উচ্চতাভীতি আছে? থাকলে জেনে নিন করণীয়।

Visit turconews.click for more information.

হাইট ফোবিয়া, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় অ্যাক্রোফোবিয়া, এমন একটি অবস্থা, যেখানে উঁচু স্থান দেখলে বা সেখানে অবস্থান করলে তীব্র ভয় ও উদ্বেগ তৈরি হয়। এটি সাধারণ সতর্কতার চেয়ে ভিন্ন।
উঁচু জায়গায় দাঁড়িয়ে সাবধান থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু হাইট ফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি অনেক সময় নিরাপদ অবস্থানেও অযৌক্তিক আতঙ্কে ভোগেন। পাহাড়ের চূড়া, খাড়া ঢাল, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, ঝুলন্ত সেতু কিংবা বিমানে ভ্রমণের সময়ও এই অনুভূতি দেখা দিতে পারে।

লক্ষণ

উচ্চতাভীতির লক্ষণ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। কারও মাথা ঘোরে, কারও বুক ধড়ফড় করে, হাত-পা কাঁপে বা শরীর ঘামে। অনেকের মনে হয়, তাঁরা ভারসাম্য হারিয়ে ফেলবেন কিংবা নিচে পড়ে যাবেন।
গুরুতর ক্ষেত্রে আতঙ্কজনিত আক্রমণ বা প্যানিক অ্যাটাকও দেখা দিতে পারে। ফলে ভ্রমণের আনন্দ মুহূর্তেই উদ্বেগে পরিণত হয়। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, পাহাড়ে গেলেই যে হাইট ফোবিয়া হবে, তা নয়। অনেকেই প্রথমবার পাহাড়ে গিয়ে উচ্চতার কারণে সাময়িক ভয় বা অস্বস্তি অনুভব করেন, যা স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।
কিন্তু এই ভয় যদি অতিরিক্ত হয় এবং স্বাভাবিক কাজকর্ম বা ভ্রমণকে বাধাগ্রস্ত করে, তখন সেটিকে ফোবিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

উচ্চতাভীতির লক্ষণ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে

উচ্চতাভীতি থাকলে করণীয়

যাঁদের উচ্চতাভীতি আছে, তাঁদের জন্য কিছু প্রস্তুতি সহায়ক হতে পারে। ভ্রমণের আগে পাহাড়ি পথ ও গন্তব্য সম্পর্কে ধারণা নেওয়া ভালো। খুব উঁচু বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থান এড়িয়ে চলা, অভিজ্ঞ গাইডের সঙ্গে থাকা এবং দলবদ্ধভাবে চলাফেরা আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
খাড়া প্রান্তের খুব কাছে না যাওয়া, ছবি তুলতে গিয়ে ঝুঁকি না নেওয়া এবং প্রয়োজনে কিছুক্ষণ বসে বিশ্রাম নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। গভীর ও ধীর শ্বাস নেওয়ার অভ্যাসও উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

কেপ ভার্দে যেতে কি বাংলাদেশিদের আগাম ভিসা লাগবে?

আরও কিছু সতর্কতা

বর্ষাকালে পাহাড় ভ্রমণে সতর্কতার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। বৃষ্টির কারণে পথ পিচ্ছিল হয়ে যায়। ফলে পিছলে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে। অনেক পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টির পর ভূমিধসের আশঙ্কাও থাকে। তাই যাত্রার আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানা, স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কবার্তা অনুসরণ করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়া উচিত। ভালো গ্রিপযুক্ত জুতা, রেইনকোট, প্রাথমিক চিকিৎসাসামগ্রী এবং পর্যাপ্ত পানীয় জল সঙ্গে রাখা ভ্রমণকে নিরাপদ করতে সাহায্য করে।

অনেক সময় উচ্চতার ভয় এবং প্রকৃত ঝুঁকি একে অপরকে বাড়িয়ে তোলে

অনেক সময় উচ্চতার ভয় এবং প্রকৃত ঝুঁকি একে অপরকে বাড়িয়ে তোলে। বর্ষার কুয়াশা, ভেজা পথ বা পিচ্ছিল ঢাল একজন ভিতু ব্যক্তির মধ্যে আরও বেশি উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তাই নিজের মানসিক অবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া যেমন জরুরি, তেমনি পরিবেশগত ঝুঁকিগুলো সম্পর্কেও সচেতন থাকা প্রয়োজন।

শেষ কথা

পাহাড় প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য আকর্ষণ। কিন্তু সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তির বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। হাইট ফোবিয়া সম্পর্কে সচেতনতা, যথাযথ প্রস্তুতি এবং বর্ষাকালের বিশেষ সতর্কতা মেনে চললে পাহাড় ভ্রমণ হতে পারে একই সঙ্গে রোমাঞ্চকর, নিরাপদ ও স্মরণীয়।

মেসি, রোনালদো, সালাহরা ছুটি কাটাতে কোথায় যান?

Read full story at source