নেগেটিভ লাইট ব্যবহার করে কি গোপন তথ্য পাঠানো যায়
· Prothom Alo

আলো দিয়ে বার্তা পাঠানো নতুন কিছু নয়। কিন্তু এবার বিজ্ঞানীরা এমন এক পদ্ধতি দেখিয়েছেন, যেখানে আলো জ্বালিয়ে নয়, বরং নেগেটিভ লাইট ব্যবহার করে গোপন তথ্য পাঠানো যায়। আরও অবাক করার বিষয় হলো, সেই বার্তা লুকিয়ে থাকে আশপাশের স্বাভাবিক তাপ বিকিরণের ভেতরেই।
কিন্তু নেগেটিভ লাইট আসলে কী? এখানে নেগেটিভ লাইট বলতে সত্যিকারের কালো আলো বোঝানো হয়নি। এটি হলো নেগেটিভ লুমিন্যান্স নামে একটি ভৌত প্রক্রিয়া, যেখানে কোনো বস্তু স্বাভাবিকের চেয়ে কম অবলোহিত বিকিরণ ছড়ায়। অর্থাৎ, বস্তুটি আশপাশের তাপের তুলনায় একটু কম জ্বলছে বলে মনে হয়।
Visit bettingx.bond for more information.
তাপের ভেতরে বার্তা লুকানো হলো কীভাবে? সব উষ্ণ বস্তুই কিছু না কিছু ইনফ্রারেড তাপ বিকিরণ ছড়ায়। বিজ্ঞানীরা থার্মোরেডিয়েটিভ ডায়োড নামে একটি বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করে এই তাপ বিকিরণ সামান্য বাড়ান বা কমান। এই সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো দিয়ে ০ এবং ১-এর মতো ডেটা সংকেত তৈরি করা হয়। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে স্বাভাবিক তাপই বের হচ্ছে, কিন্তু নির্দিষ্ট রিসিভার ঠিকই সেই সংকেত পড়ে নিতে পারে। একেই বলা হচ্ছে নেগেটিভ লাইট।
বিজ্ঞানীরা থার্মোরেডিয়েটিভ ডায়োড নামে একটি বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করে এই তাপ বিকিরণ সামান্য বাড়ান বা কমানগবেষকেরা পরীক্ষাগারে প্রায় ১০০ কিলোবিট পার সেকেন্ড গতিতে তথ্য পাঠাতে পেরেছেন। ভবিষ্যতে গ্রাফিনের মতো উন্নত উপাদান ব্যবহার করলে গতি আরও অনেক বাড়তে পারে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন।
পৃথিবীর সব লাইট বাল্ব একসঙ্গে জ্বালালে কী হবেনেগেটিভ লাইট বলতে সত্যিকারের কালো আলো বোঝানো হয়নি। এটি হলো নেগেটিভ লুমিন্যান্স নামে একটি ভৌত প্রক্রিয়া, যেখানে কোনো বস্তু স্বাভাবিকের চেয়ে কম অবলোহিত বিকিরণ ছড়ায়।
এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ? সাধারণ যোগাযোগে বাইরে থেকে বোঝা যায় যে সিগন্যাল পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু এখানে সেই সিগন্যাল পাঠানোর ঘটনাটিই লুকানো থাকে। সামরিক যোগাযোগ, আর্থিক তথ্য আদান-প্রদান, স্বাস্থ্য খাতের সংবেদনশীল ডেটা, শিল্পকারখানার সুরক্ষিত নেটওয়ার্ক ইত্যাদি ক্ষেত্রে এটি কাজে লাগানো যায়। এটি শুধু বার্তাকে এনক্রিপ্ট করে না; বরং বার্তা যে আদান-প্রদান হচ্ছে, সেটাই আড়াল করে ফেলতে পারে।
এটি কি পুরোপুরি অদৃশ্য? পুরোপুরি নয়। অত্যন্ত সংবেদনশীল যন্ত্র ও সঠিকভাবে খোঁজ করলে সংকেত ধরা সম্ভব। তবে সাধারণ পর্যবেক্ষকের কাছে এটি স্বাভাবিক তাপ বিকিরণের মতোই দেখাবে। ভাবুন, ভিড়ের মধ্যে কেউ চারপাশের শব্দের ওঠানামার মধ্যেই কোড লুকিয়ে কথা বলছে। এই প্রযুক্তি অনেকটা তেমনই। তবে শব্দের বদলে এখানে তাপ ব্যবহার করা হয়।
বিজ্ঞানীরা এবার দেখালেন, তথ্য পাঠাতে সব সময় উজ্জ্বল সিগন্যাল লাগে না। কখনো কখনো কম আলো, কম তাপ বা কম দৃশ্যমানতাই সবচেয়ে শক্তিশালী বার্তা বহন করতে পারে। বিষয়টি এখনো গবেষণাধীন। বিজ্ঞানীরা চূড়ান্ত সফল হলে ভবিষ্যতের গোপন যোগাযোগ হয়তো কেবল আলোয় নয়, চলবে তাপ বিকিরণের মাধ্যমে!
লেখক: সাংবাদিকসূত্র: লাইভ সায়েন্সবৈদ্যুতিক বাতি জ্বলে কীভাবে