বিশ্বকাপ থেকে বাড়ি ফেরা আর্লিং হলান্ডের হাতের প্রাণীটি কেন আলোচনায়

· Prothom Alo

পাঁচ ম্যাচে ৭ গোল। নরওয়ের তরুণ ফুটবলার আর্লিং হলান্ডের বিশ্বকাপ অভিষেককে দুর্দান্ত বলতেই হবে। বিশ্বকাপ মিশন শেষ করে এরই মধ্যে বাড়ি ফিরেছে নরওয়ে টিম। তবে হলান্ডের বাড়ি ফেরার একটি ছবি নিয়ে এখন দর্শকদের বিশেষ কৌতূহল। অন্য সময় হলে হয়তো ছবিতে হলান্ডের কাঁধে থাকা ডলচে অ্যান্ড গ্যাবানার ব্যাগটি নিয়েই আলোচনা হতো। কিন্তু তার বদলে দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্রে হলান্ডের হাতে থাকা বিশেষ একটি স্মারক।

Visit milkshakeslot.lat for more information.

কী সেই স্মারক

ট্যাক্সিডার্মি করা রাকুন হাতে বিমান থেকে নেমে হেঁটে যাচ্ছেন আর্লিং হলান্ড

স্মারকটি একটি ট্যাক্সিডার্মি করা রাকুন। ট্যাক্সিডার্মি হলো এমন একটি কৌশল, যেখানে মৃত প্রাণীর চামড়াকে বিশেষভাবে সংরক্ষণ করে জীবিত প্রাণীর রূপ দেওয়া হয়। রাকুন হচ্ছে উত্তর আমেরিকার একটি মাঝারি আকারের স্তন্যপায়ী প্রাণী, যার মুখে কালো ‘মাস্ক’-এর মতো দাগ আর লেজটা ডোরাকাটা।

কথা হচ্ছে, ফুটবল খেলতে গিয়ে এই রাকুন কোথায় পেলেন আর্লিং হলান্ড! নিউইয়র্ক টাইমস জানাচ্ছে, এটি তিনি উপহার পাননি, কিনে নিয়ে গেছেন। বিশ্বকাপ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর হলান্ড যে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছেন, সেটা তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফলো করলেই বোঝা যায়।

ডালাসের ওয়াইল্ড বিলস ওয়েস্টার্ন স্টোরে হলান্ড

এমনকি খেলার ফাঁকে একাধিক ব্লগও বানিয়েছেন নিজের ইউটিউবের জন্য। তেমনই একটি ব্লগে দেখা যায়, ডালাসে প্রায় ৫০ বছর ধরে পরিচালিত ওয়াইল্ড বিলস ওয়েস্টার্ন স্টোর থেকে নানা রকম জিনিস কিনছেন হলান্ড।

সেখানে তিনি সাপের চামড়ার কাউবয় বুট এবং নিজের নামের প্রথম অক্ষর, জার্সি নম্বরসহ একটি কাউবয় হ্যাটও পরেছিলেন। সেসব পরে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিও পোস্ট করেন।

দাম কেমন

স্মারকটি দোকানে ‘হুইস্কি রাকুন’ নামে পরিচিত

ওয়াইল্ড বিলসের মালিক জুলি নিউপোর্ট জানান, অন্য অনেক জিনিসের সঙ্গে ট্যাক্সিডার্মি করা রাকুনটি হলান্ড তাঁর দোকান থেকেই কিনে নিয়েছেন। দাম ৭৫০ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি টাকায় ৯২ হাজার টাকার কিছুটা বেশি।

রাকুনটি দোকানে ‘হুইস্কি রাকুন’ নামে পরিচিত। রাকুনের হাতে একটি জিনের খালি বোতল। রাকুনটি ছাড়াও ট্যাক্সিডার্মি করা একটা কাঠবিড়ালিও কিনেছেন হলান্ড।

অনলাইনে হলান্ডের এ ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর দোকানটির অনলাইনে একের পর এক অর্ডার পড়তে থাকে। তবে এ ধরনের ট্যাক্সিডার্মি দ্রুত অনেকগুলো পাওয়া কঠিন। কারণ, এটি তৈরি করা বেশ সময়সাপেক্ষ।

এ ছাড়া দোকানটি যে ব্যক্তির কাছ থেকে ফরমাশ দিয়ে ট্যাক্সিডার্মি বানিয়ে নিত, তিনি এখন অবসরে চলে গেছেন। তারপরও দোকানটির কয়েকটি অর্ডার নিয়েছেন।

আর্লিং হলান্ডের নামেই আছে হেয়ার টাই, কোম্পানিতে বিনিয়োগও করেছেন তিনি

দোকানটি এখন ট্রেন্ডে আছে

নিউইয়র্কের রাস্তায় আর্লিং হলান্ড

আরও একটি মজার বিষয় হলো, প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো দোকানটি এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে ক্রেতাদের নজর কেড়েছে। তাই পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তাদের কাছে কাউবয় হ্যাট, জুতা থেকে ট্যাক্সিডার্মির মতো নানা উপকরণের অর্ডার আসছে।

আগে দোকানটিতে দেশের বাইরে থেকে অনলাইন অর্ডার দেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। এখন কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছে ‘নাউ শিপিং ইন্টারন্যাশনালি’। মানে আন্তর্জাতিকভাবেও এখন পণ্য পাঠানো হচ্ছে।

৩ জুলাই হলান্ডের ইউটিউব চ্যানেলে দোকানের একটি ভ্লগ প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে ঘুরে তিনি বলেন, ‘অবিশ্বাস্য! জায়গাটা ভীষণ সুন্দর। আমি আবার এখানে আসব। এখানকার মানুষগুলো খুবই ভালো, খুব ইতিবাচক। জানি না কী কারণে, তারা যেন জীবনটা সত্যিই উপভোগ করছে।’

দোকানের মালিক নিউপোর্ট বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমাদের অনলাইনে প্রায় দুই হাজার অর্ডার রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশই আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছ থেকে এসেছে। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে দেখি, নতুন নতুন অর্ডার আসছে। আগে দোকানের সবচেয়ে জনপ্রিয় পণ্য ছিল জেলি বিন। এখন হলান্ডের দেখানো পণ্যগুলো ট্রেন্ডে আছে।’

দোকানের এই সিঁড়িতে বসে অনেকেই এখন হলান্ডের এই ছবির মত পোজ দিচ্ছেন

এখন অনেক মানুষই দোকানটি ঘুরতে যাচ্ছেন। বুট-হ্যাট কেনাকাটা করছেন। কেউ কেউ আবার হলান্ড যে সিঁড়িতে বসে ছবি তুলেছেন, সেখানে বসে পোজ দিচ্ছেন। নিউপোর্ট নিজের দোকানের ভেতরেও হলান্ডের একটি ছবি ঝুলিয়েছেন। সেখানেও ছবি তুলছেন ক্রেতারা।

দোকানে থাকা দুটি ফিফা ফুটবলে অটোগ্রাফ দিয়েছেন আর্লিং হলান্ড। পাশাপাশি হ্যাট বারে রাখা একটি টুপিতেও অটোগ্রাফ দিয়েছেন।

শনিবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে সেদিনই দেশে ফেরে নরওয়ে দল। আর বিমান থেকে নামার সময় হলান্ডের হাতে থাকা ট্যাক্সিডার্মির ছবি অনলাইনে আসার পর মুহূর্তেই ভক্তদের কৌতূহলের কেন্দ্রে চলে আসে। ১৩ জুলাই হলান্ড আবার তাঁর এই লোমশ সঙ্গীকে নিয়ে পোস্ট দেন। মজা করে ক্যাপশনে লেখেন, ‘ইটস ফলো মি হোম।’ মানে আমাকে অনুসরণ করে এটি বাড়ি চলে এসেছে।

সূত্র: ভোগ ও নিউইয়র্ক টাইমস

আর্লিং হলান্ড বিয়ে করেছেন? জীবনসঙ্গী কে?

Read full story at source