পটুয়াখালীতে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি ভাঙচুর–লুটপাটের ঘটনায় থানায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগ

· Prothom Alo

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতা কাজী মিজানুর রহমানের (লাভলু) বসতঘরে লুট ও বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। থানায় গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি বলে জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী মেহেরুনেচ্ছা।

Visit afsport.lat for more information.

কাজী মিজানুর রহমান উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে আছেন। তাঁর জায়গায় ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা।

উপজেলার কাঁঠালতলী বাজারসংলগ্ন উত্তর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কাজী মিজানুর রহমানের বাড়ি। গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে পরদিন শনিবার ভোর পর্যন্ত ওই বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়। তবে ঘটনার সময় বাড়িতে কেউ না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

মিজানুর রহমানের স্ত্রী মেহেরুনেচ্ছা বলেন, গত সোমবার বিকেল ও সন্ধ্যায় তিনি একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামানের কাছে যান। তিনি ওসিকে লিখিত এজাহারটি দিয়ে মামলা নথিভুক্ত করার অনুরোধ জানান। কিন্তু ওসি এজাহারের কপি নেননি। এ সময় মামলা নিতেও অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। পরে মামলা না করেই ফিরে আসতে বাধ্য হন মেহেরুনেচ্ছা।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি তৌহিদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেহেরুনেচ্ছা আমার কাছে এসেছিলেন। তবে তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি এবং মামলা নেওয়ারও কথা বলেননি।’

মেহেরুনেচ্ছা জানান, লিখিত অভিযোগে তিনি বসতঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরীর ছোট ভাই মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহিন চৌধুরী পাশা (৫২), সাধারণ সম্পাদক পলাশ হাওলাদার, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হাসিবুল গনি মনির খন্দকার (৬৫), স্থানীয় ছাত্রদল নেতা মিরাজ হোসেন ও বিএনপির কর্মী মোতাহার হোসেনের নাম উল্লেখ করেছিলেন।

পটুয়াখালীতে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি বুলডোজারে ভাঙচুর, লুটপাটের পর আগুন

সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের কাঁঠালতলী গ্রামে। সেখান থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে মিজানুর রহমানের বসতঘর। তাঁর বাড়ি থেকে কাঁঠালতলী পুলিশ ফাঁড়ির দূরত্ব ৩০ থেকে ৪০ মিটার। মেহেরুনেচ্ছা জানান, গভীর রাতে তাঁদের বসতঘরে লুটপাটের পর বুলডোজার দিয়ে ভবন গুঁড়িয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ভোরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

ঘটনার পরদিন যোগাযোগ করা হলে বিএনপি নেতা শাহিন চৌধুরী বলেছিলেন, ‘আমি ওই দিন (শুক্রবার) ঢাকা থেকে এলাকায় ফিরেছি। তাই ঘটনার বিষয়ে কিছু জানি না।’

এ বিষয়ে পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ বলেন, ওই ঘটনায় থানা-পুলিশ মামলা নেয়নি, এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি অবগত নন। বিষয়টি জেনে মন্তব্য করা যাবে।

Read full story at source