রঙের নির্ভরযোগ্য সমাধানই মূল লক্ষ্য

· Prothom Alo

রংশিল্পের বর্তমান অবস্থা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও গ্রাহকদের মানসম্মত সেবা নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মহসিন হাবিব চৌধুরী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শামসুল হক মো. মিরাজ

Visit een-wit.pl for more information.

প্রথম আলো: দেশের রঙের বাজারে বার্জারের শীর্ষ অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে আপনার কৌশল ও পরিকল্পনা কী?

মহসিন হাবিব চৌধুরী: আমাদের কাছে নেতৃত্ব দেওয়া মানে কেবল সর্বোচ্চ মার্কেট শেয়ার ধরে রাখা নয়; বরং শিল্পের গুণগত উন্নয়ন ঘটানো। আজকের গ্রাহকেরা ঝামেলামুক্ত এন্ড-টু-এন্ড পেইন্টিং সমাধান চান। তাই ‘বার্জার এক্সপেরিয়েন্স জোন’, ‘এক্সপ্রেস পেইন্টিং’ ও ‘ডিজাইন স্টুডিও’র মাধ্যমে আমরা রং নির্বাচন থেকে শুরু করে দক্ষ প্রয়োগ ও সাজসজ্জার সমন্বিত সেবা দিচ্ছি। পাশাপাশি কারখানাগুলোর আধুনিকায়ন, ডিজিটালাইজেশন এবং গবেষণায় বিনিয়োগ আমাদের অবস্থানকে শক্তিশালী করছে।

প্রথম আলো: স্থানীয় আবহাওয়া উপযোগী এবং সিসামুক্ত পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরিতে বার্জারের ভূমিকা কেমন?

মহসিন হাবিব চৌধুরী: বাংলাদেশের অতিরিক্ত বৃষ্টি, আর্দ্রতা ও রোদের তাপ মোকাবিলায় আমরা বিশেষ পণ্য উদ্ভাবন করি। যেমন বহির্দেয়ালের সুরক্ষায় ‘ওয়েদারকোট’ এবং স্যাঁতসেঁতে সমস্যার চিকিৎসায় ‘ড্যাম্পগার্ড’ বেশ কার্যকর। ২০১২ সালে দেশে প্রথম সিসামুক্ত রং উৎপাদনে আমরা পথিকৃৎ ভূমিকা রেখেছিলাম। এ ছাড়া বাতাস বিশুদ্ধ রাখতে ‘ইকোকোট’ এবং পরিবেশবান্ধব ‘লো-ভিওসি’ প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সুরক্ষায় নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি।

প্রথম আলো: দেশের অবকাঠামো প্রকল্প ও শিল্প খাতে বিশেষায়িত রঙে আপনাদের অংশগ্রহণ কেমন?

মহসিন হাবিব চৌধুরী: আমরা কেবল গৃহসজ্জার রঙেই সীমাবদ্ধ নই; বরং শিল্প খাতের বড় অংশীদার। দেশের সর্বোচ্চ ৪৫ তলা টিএ টাওয়ারের মতো প্রকল্পে সমন্বিত কোটিং সমাধান দিচ্ছি। এ ছাড়া পাউডার কোটিংস, মেরিন, ভেহিকেল রিফিনিশ, কনস্ট্রাকশন কেমিক্যালস ও টেক্সটাইল কেমিক্যাল সরবরাহ করছি। বিশ্বখ্যাত ‘ফসরেক’-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ এবং প্যাকেজিং খাতে আমাদের বিনিয়োগ দেশীয় শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

প্রথম আলো: অর্থনৈতিক চাপ ও শুল্ক বৃদ্ধির পরোক্ষ প্রভাব সত্ত্বে সাশ্রয়ী মূল্যে সেবা কীভাবে দিচ্ছেন?

মহসিন হাবিব চৌধুরী: বৈশ্বিক অস্থিরতা, ডলারের দাম ও সম্পূরক শুল্ক ২৫ শতাংশে বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। তবে পুরো চাপ গ্রাহকের ওপর না ফেলে আমরা অভ্যন্তরীণ দক্ষতা বৃদ্ধি, কৌশলগত কাঁচামাল সংগ্রহ ও শক্তিশালী সাপ্লাই চেইনের মাধ্যমে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। আমাদের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ও বৈচিত্র্যময় পোর্টফোলিও গ্রাহকদের বাজেটের মধ্যে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।

প্রথম আলো: দেশে রংশিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কেমন এবং কেমন নীতিসহায়তা প্রয়োজন?

মহসিন হাবিব চৌধুরী: আমাদের দেশে মাথাপিছু রঙের ব্যবহার মাত্র দেড় কেজি, যা নির্দেশ করে প্রবৃদ্ধির বিশাল সম্ভাবনা। এই প্রবৃদ্ধি অর্জনে আমরা মিরসরাই ইকোনমিক জোনে ৯৮০ কোটি টাকা বিনিয়োগে নতুন কারখানা গড়ে তুলছি। তবে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য এলসি সহজীকরণ ও যৌক্তিক করনীতি আবশ্যক। পাশাপাশি পেট্রোকেমিক্যাল ও রেজিনের মতো ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প গড়ে তুলতে পারলে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং দেশের শিল্প খাত আরও শক্তিশালী, টেকসই ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে আমরা দেশ ও গ্রাহকদের উন্নত সেবা প্রদানে সব সময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে সর্বদা ও দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।

Read full story at source