কেন বড় পাত্রে খাবার রাখা ঝুঁকিপূর্ণ

· Prothom Alo

রাতের খাবারের পর বড় হাঁড়িতে ডাল, মাংসের ঝোল বা তরকারি বেঁচে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। বেশির ভাগ মানুষই খাবারটি কিছুক্ষণ বাইরে রেখে ঠান্ডা করেন, তারপর পুরো হাঁড়িসহ ফ্রিজে তুলে রাখেন। এতে আলাদা পাত্রে নেওয়ার বা ধোয়ার ঝামেলা কমে। তবে এই অভ্যাস খাবারে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

বড় ও গভীর পাত্রে রাখলে খাবারটি ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়। আগে ঠান্ডা হয় পাত্রের বাইরের দিকের খাবার। ফলে ভেতরের অংশের খাবার দীর্ঘ সময়, এমনকি কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত গরম থাকতে পারে। তাই খাবার বাইরে থেকে ঠান্ডা মনে হলেও মাঝখানে তাপ আটকে থাকে। আর এই সময়টায় খাবারে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবিস্তার করার সুযোগ পায়।

Visit syntagm.co.za for more information.

খাবার নিরাপদ রাখতে বিজ্ঞানীরা একটি সহজ পরামর্শ দেন। গরম খাবার যত দ্রুত সম্ভব ঠান্ডা করতে হবে। এতে খাবারে ব্যাকটেরিয়া বংশবিস্তার করার সুযোগ পায় না। আর তা করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো, খাবার অগভীর বা চ্যাপটা পাত্রে ছড়িয়ে রাখা।

বেঁচে যাওয়া গরম খাবার গভীর পাত্রে না রেখে অগভীর পাত্রে রাখলে তাপ দ্রুত বের হয়ে যায়। ফলে খাবার কম সময়ের মধ্যেই নিরাপদ তাপমাত্রায় পৌঁছে যায় এবং ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির সুযোগ কমে আসে।

সত্যিই কি মেঝেতে পড়া খাবার পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে তুলে খেলে কিছু হয় না

কেন অগভীর বা চ্যাপটা পাত্রে খাবার রাখা ভালো

খাবার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে মূল লক্ষ্য হলো, যত দ্রুত সম্ভব এর তাপমাত্রা প্রায় ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে আনা। কারণ, উচ্চ তাপমাত্রা থেকে পুরোপুরি ঠান্ডা হওয়ার মাঝামাঝি সময়টিকে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে উপযোগী ধরা হয়।

খাবার দ্রুত ও নিরাপদভাবে ঠান্ডা করার এই নীতি ‘জার্নাল অব ফুড প্রোটেকশন’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় তুলে ধরা হয়েছে।

খাবার অগভীর পাত্রে ভাগ করে রাখলে ঠান্ডা বাতাস সহজেই চারপাশে পৌঁছাতে পারে এবং পুরো খাবার সমানভাবে ঠান্ডা হয়

পাবমেডে সূচিবদ্ধ ওই গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের স্তর যদি ৫ সেন্টিমিটার বা প্রায় ২ ইঞ্চির কম গভীরতায় রাখা হয়, তাহলে তাপ দ্রুত বের হয়ে যায়। ফলে খাদ্যে বিষক্রিয়ার জন্য দায়ী ব্যাসিলাস সেরিয়াস ও ক্লস্ট্রিডিয়াম পারফ্রিনজেন্সের মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।

বিশেষ করে যাঁরা একসঙ্গে বেশি পরিমাণে রান্না করেন, তাঁদের জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। বেশি পরিমাণের খাবার স্বাভাবিকভাবেই তাপ দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখে। কিন্তু খাবারকে কয়েকটি অগভীর পাত্রে ভাগ করে রাখলে ঠান্ডা বাতাস সহজেই চারপাশে পৌঁছাতে পারে এবং পুরো খাবার সমানভাবে ঠান্ডা হয়।

সালাদ মানেই কি স্বাস্থ্যকর খাবার?

ফ্রিজে খাবার সংরক্ষণের কিছু ভালো অভ্যাস

  • গরম খাবার সঙ্গে সঙ্গে শক্ত করে ঢেকে রাখবেন না। এতে ভেতরের গরম ভাপ আটকে থাকে এবং খাবার ঠান্ডা হতে বেশি সময় লাগে। খাবার পুরোপুরি ঠান্ডা না হওয়া পর্যন্ত ঢাকনা সামান্য ফাঁক করে রাখুন বা আলগাভাবে ফয়েল পেপার দিয়ে ঢেকে রাখুন।

  • ফ্রিজে খাবারের পাত্রগুলো গাদাগাদি করে রাখবেন না। তাকগুলো কিছুটা খালি রাখুন এবং পাত্রগুলোর মাঝে কিছুটা ফাঁকা জায়গা রাখুন। ঠান্ডা বাতাস চলাচল করতে না পারলে খাবার দ্রুত ঠান্ডা হতে পারে না।

ছোট বক্সে ভরে খাবার রাখুন ফ্রিজে
  • গরম খাবার অগভীর পাত্রে রাখুন। এতে তাপ দ্রুত বের হয়ে যায় এবং খাবার কম সময়ের মধ্যে নিরাপদ তাপমাত্রায় পৌঁছায়।

  • বড় পাত্রের খাবার ছোট ছোট পাত্রে ভাগ করে রাখুন। এতে খাবার দ্রুত ঠান্ডা হয়, নিরাপদ থাকে এবং পরে প্রয়োজনমতো বের করে গরম করাও সহজ হয়।

খাবার সংরক্ষণের এই ছোট ছোট অভ্যাস হয়তো খুব সহজ ও সাধারণ; তবে এসব মেনে চললে বেঁচে যাওয়া খাবার দীর্ঘ সময় ভালো থাকে, রান্নার স্বাদ বজায় থাকে এবং খাদ্যজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি কমে যায়।

সূত্র: পাবমেড

সস, মেয়নেজ বা চিজ দেওয়া খাবার কি গরম করে খাওয়া নিরাপদ?

Read full story at source