লোকসানের অজুহাতে ৪৪ রাষ্ট্রীয় শিল্প ইজারা দেওয়া চলবে না: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল

· Prothom Alo

লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৪৪টি শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিমালিকানায় ইজারা বা বিক্রির উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল। সংগঠনটির দাবি, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার পরিবর্তে আধুনিকায়ন ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেছে যে এই উদ্যোগ জনস্বার্থে নয়, বরং লুটেরা ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার জন্য নেওয়া হচ্ছে।

Visit casino-promo.biz for more information.

আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এসব দাবি জানায় জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল। এর আগে একই দিন সকালে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৪৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইজারা বা বিক্রির নীতিমালা নির্ধারণে সরকার আমলা ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে সভা করেছে বলে অভিযোগ করে সংগঠনটি।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতন হলেও দেশ এখনো লুণ্ঠনভিত্তিক ব্যবসায়ী শ্রেণির শোষণ থেকে মুক্ত হয়নি। তাঁর অভিযোগ, সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কারণে বাজারব্যবস্থা বিপর্যস্ত এবং কর্মসংস্থানের অভাবে তরুণদের ভবিষ্যৎ সংকটের মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ভারী শিল্প ও শিল্পের জাতীয় ভিত্তি গড়ে তোলার প্রয়োজন থাকলেও সরকার উল্টো রাষ্ট্রীয় শিল্প ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

ফয়জুল হাকিম বলেন, চিনিকল, পাটকলসহ জনগণের মালিকানাধীন ৪৪টি শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার পরিবর্তে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি জনগণের নয়, ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার উদ্যোগ বলে দাবি করেন তিনি। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র ও সাধারণ মানুষকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের নেতা হেমন্ত দাশ বলেন, ‘দেশের শিল্প ও কৃষি বিকাশের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের সময়ে সম্পাদিত পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি বাতিল করতে হবে।’ তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক নীতি বিদেশি নির্দেশনায় পরিচালিত হতে পারে না।

জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের আরেক নেতা দীপা মল্লিক বলেন, ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ২৫টি পাটকল ও ৬টি চিনিকল বন্ধ করে লাখো শ্রমিককে বেকার করেছিল। লোকসানের কারণ অনুসন্ধানে কোনো সরকারই নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করেনি। দুর্নীতি, শিল্প আধুনিকায়নে বিনিয়োগের অভাব এবং আমলা-ব্যবসায়ী যোগসাজশের কারণেই রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পগুলো দুর্বল হয়েছে।

সমাবেশে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের নেতা সাইফুর রুদ্র বলেন, ২০০২ সালে বিএনপি সরকার গোল্ডেন হ্যান্ডশেক কর্মসূচির মাধ্যমে আদমজী জুট মিল বন্ধ করেছিল, আর তখন আওয়ামী লীগও সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেনি। তাঁর দাবি, বর্তমানে ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প ব্যক্তিমালিকানায় ইজারা বা বিক্রির উদ্যোগেও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো কার্যত নীরব সমর্থন দিচ্ছে। এ বিষয়ে শ্রমিক-কৃষকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

Read full story at source