লিবিয়ায় জিম্মি করে দেশে মুক্তিপণ নেন তাঁরা, করেন বাড়ি–গাড়ি–খামার

· Prothom Alo

ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় নিয়ে নির্যাতন। পাঁচ বছরে চক্রের ব্যাংক হিসাবে ৩৭৬ কোটি টাকার লেনদেন। সিআইডির মামলায় আসামি ৩৪ জন।

Visit esporist.org for more information.

নড়াইল জেলা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে কালিয়া উপজেলার সাতবাড়িয়া বাজার। বাজারের মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে টাঁকির খাল। এ খালের পাড়েই দোতলা একটি আলিশান বাড়ি। চারপাশের সাধারণ বাড়িঘরের মধ্যে এটি সহজেই নজর কাড়ে।

বাড়িটি আলাউদ্দিন শেখের। তিনি একটি মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য। প্রথম আলোর অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলাউদ্দিন শেখ ও তাঁর চক্রের সদস্যরা ইতালি পাঠানোর কথা বলে লোকজনকে লিবিয়ায় নিয়ে জিম্মি করতেন। পরে তাঁদের ওপর নির্যাতন চালানোর ভিডিও পরিবারের সদস্যদের পাঠিয়ে লাখ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করতেন। সেই টাকায় চক্রের সদস্যরা বাড়ি-গাড়ি, খামারসহ অঢেল সম্পদ করেছেন। তাঁদের আরেকজন আওয়াল ফরাজী। তাঁর বাড়িও সাতবাড়িয়া গ্রামে। তিনিও একটি দৃষ্টিনন্দন দোতলা বাড়ি করেছেন। তাঁর দুই ভাই রাব্বানী ফরাজী ও রুবেল ফরাজী এ চক্রে জড়িত।

প্রথম আলোর অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলাউদ্দিন শেখ ও তাঁর চক্রের সদস্যরা ইতালি পাঠানোর কথা বলে লোকজনকে লিবিয়ায় নিয়ে জিম্মি করতেন। পরে তাঁদের ওপর নির্যাতন চালানোর ভিডিও পরিবারের সদস্যদের পাঠিয়ে লাখ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করতেন।

গত ১৩ এপ্রিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আলাউদ্দিন শেখ, আওয়াল ফরাজীসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। সিআইডির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ইতালিতে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সক্রিয় সংঘবদ্ধ চক্রটি গত পাঁচ বছরে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ৩৭৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার বেশি লেনদেন করেছে। এ চক্রের সদস্যরা দেশের ১১ জেলায় ছড়িয়ে আছেন।

অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর হিসাবে, এ রকম অর্ধশতাধিক চক্র দেশের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। তাদের অধিকাংশ সদস্যই এভাবে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

লিবিয়ায় জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় ও হুন্ডি কারবারে জড়িত একটি মানব পাচার চক্রের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে উল্লেখ করে সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মুহাম্মদ বাছির উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, চক্রের সদস্যদের সম্পদ নিয়ে অনুসন্ধান চলছে।

আলী শেখ ছেলে বিদেশ যাওয়ার পর থেকেই আমাগে পরিবর্তন হয়েছে।

কৃষিজীবী থেকে কোটিপতি

গত ১২ জুলাই সরেজমিনে আলাউদ্দিন শেখের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে উঁচু সীমানাপ্রাচীর। প্রবেশপথে সিসিটিভি ক্যামেরা। কলিং বেল চাপতেই দরজা খুললেন আলাউদ্দিন শেখের মা। পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ডেকে আনেন স্বামী আলী শেখকে।

ছেলে আলাউদ্দিন এখন খুলনায় আছেন জানিয়ে তাঁরা জানান, বাড়ির পশ্চিম পাশে একটি গরুর খামার রয়েছে। এ ছাড়া বাড়ির পাশেই প্রায় এক বিঘা জমির ওপর আরেকটি গরুর খামারের নির্মাণকাজ চলছে। খুলনায় একটি বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। রয়েছে দামি গাড়িও।

একসময় কৃষিকাজ করেই সংসার চলত উল্লেখ করে আলী শেখ বলেন, ‘ছেলে বিদেশ যাওয়ার পর থেকেই আমাগে পরিবর্তন হয়েছে।’ তবে তাঁর দাবি, আলাউদ্দিন লিবিয়ায় ঠিকাদারি করতেন। এলাকার লোকজন নিয়ে কাজ করাতেন। ওই লোকজনের টাকা তাঁর (আলী শেখ) ব্যাংক হিসাবে আসত। তিনি তুলে পরিবারের সদস্যদের দিতেন। আলী শেখের কথায়, ‘এর জন্যি হুন্ডি নাম হয়ছে। আমিও কেস খাইছিলাম। পাঁচ-ছয় বছর ওসব বন্ধ করে দিছি।’

আলাউদ্দিন শেখও প্রায় অভিন্ন দাবি করেন। গত ৩০ জুলাই তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তিনি লিবিয়ায় বড় চাকরি করতেন। অনেক টাকা বেতন পেতেন। সেই টাকা দিয়ে বাড়ি–খামার করেছেন।

একই দিন আওয়াল ফরাজীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে আছেন শুধু তাঁর মা হারিচা বেগম। তিনি বললেন, ‘আগে কয়দিন বিদেশে লোক নেছেলো। এক বছরের মতো আওয়াল বাড়ি আসার পর সব ত্যাগ কইরে দেছে।... মেলে মানুষ গেছে, কোনো অ্যাকসিডেন্ট হয়নি। আর অ্যাকাউন্টের ব্যবসা করত, তাই আমার আরেক ছাওয়াল রব্বানীরে ধইরে নিয়ে গেছে। আর বাকি ছাওয়ালরা খুলনায়।’

আওয়াল ফরাজীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর ভাই গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সিআইডির একটি সূত্র বলছে, লিবিয়া ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় আলাউদ্দিন–আওয়ালদের চক্রের সদস্যরা সক্রিয় রয়েছেন। লিবিয়ায় পাচার করে কোটি কোটি টাকা মুক্তিপণ আদায় করেন তাঁরা। আলাউদ্দিন ১২ বছর আগে লিবিয়ায় গিয়েছিলেন। পরে আওয়ালের সঙ্গে মানব পাচারে যুক্ত হন। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, লিবিয়ায় ভুক্তভোগীদের আটকে রাখা, মুক্তিপণ আদায় এবং দেশের সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করতেন আলাউদ্দিন।

মা হারিচা বেগমআগে কয়দিন বিদেশে লোক নেছেলো। এক বছরের মতো আওয়াল বাড়ি আসার পর সব ত্যাগ কইরে দেছে।... মেলে মানুষ গেছে, কোনো অ্যাকসিডেন্ট হয়নি। আর অ্যাকাউন্টের ব্যবসা করত, তাই আমার আরেক ছাওয়াল রব্বানীরে ধইরে নিয়ে গেছে। আর বাকি ছাওয়ালরা খুলনায়।

গৃহিণী–মুদিদোকানির হিসাবে মুক্তিপণের টাকা

সিআইডির তদন্তে মুক্তিপণের টাকায় বাড়ি, খামার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং একই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হুন্ডি কারবার পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে। মুক্তিপণের টাকা চক্রের ব্যবহৃত অন্তত ১১৪টি ব্যাংক হিসাবে লেনদেন হয়েছে।

মামলার তথ্য ও ব্যাংক হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চক্রের সদস্য ও তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ গৃহিণী, মুদিদোকানি, ওষুধের দোকানমালিকের ব্যাংক হিসাবে মুক্তিপণের কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। এসব ব্যক্তির অনেকেই চক্রের সদস্যদের স্বজন ও পরিচিত। প্রতি লাখে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা কমিশন দিয়ে তাঁদের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করতেন চক্রের সদস্যরা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, নড়াইলের শুকুর মেডিকেল হল নামের দোকানটির ব্যাংক হিসাবে গত দুই বছরে প্রায় দুই কোটি লেনদেন হয়েছে।

অর্থের প্রকৃত উৎস গোপন রাখতে ইচ্ছাকৃতভাবে একাধিক ব্যক্তির হিসাব ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তারা। তাঁদের ভাষ্য, মানব পাচার, জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় ও হুন্ডি—এই তিন কার্যক্রম একই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। চক্রটির আর্থিক লেনদেন, সম্পদ ও বিদেশে থাকা সহযোগীদের বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। তদন্ত শেষে আরও ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা সামনে আসতে পারে বলে তাঁদের ধারণা।

এক পরিবার থেকেই ৭৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ

ছেলে ও মেয়ের ঘরের দুই নাতিসহ পরিবারের পাঁচজনকে ইতালি পাঠানোর স্বপ্নে বিভোর ছিলেন গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের আমেনা বেগম। দালালদের কথায় বিশ্বাস করে প্রতিজনের জন্য ১৮ লাখ টাকা হিসাবে মোট ৯০ লাখ টাকার চুক্তি করেন। জমি বিক্রি ও ঋণ করে টাকা পরিশোধও করেন; কিন্তু ইতালির বদলে আমেনা বেগমের স্বজনদের নিয়ে যাওয়া হয় লিবিয়ায়। সেখানে তাঁদের জিম্মি করার পর চালানো নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে পরিবারের কাছে আরও টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

আমেনা বেগম গত ১৫ জুলাই প্রথম আলোকে বলেন, মানব পাচার চক্রের সদস্য মিনা বেগম, নুরুল ইসলাম ও মুরাদ মিয়ার ব্যাংক হিসাবে তিনি ৭৫ লাখ টাকা পাঠান। টাকা পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের নৌকায় করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে পাঠানো হয়।

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল ইসলাম লিবিয়ায় শতাধিক ক্যাম্প রয়েছে, যেখানে জিম্মি করে মানুষকে নির্যাতন করা হয়। লিবিয়ায় জিম্মি করে পরিবারের কাছে ৫ থেকে ৭৬ লাখ টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জিম্মি চক্রের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি তাঁদের সম্পদও বাজেয়াপ্ত করতে হবে।

১১ জেলায় সক্রিয় চক্রটি

সিআইডি বলছে, মানব পাচার ও লিবিয়ায় আটক রেখে নির্যাতন করে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় চক্রের প্রধান আলাউদ্দিন শেখ। তাঁর নেতৃত্বে দেশের ১১ জেলায় একটি শক্তিশালী ‘নেটওয়ার্ক’ গড়ে উঠেছে।

এই নেটওয়ার্কের সদস্যরা হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের পারধুমিহায়াতপুর গ্রামের মো. জুয়েল আলী ও চাইপাড়া গ্রামের মো. তোজাম্মেল হক; নওগাঁর ধামইরহাটের মুকুন্দপুর গ্রামের শ্রীমতী গৌরী রাণী মহস্ত; মাদারীপুরের কালকিনির চরদৌলতখানের শিপু কবিরাজ; কুমিল্লার হোমনার মাধবপুর গ্রামের আছমা বেগম, মাদারীপুরের শিবচরের শোলারপুর গ্রামের মো. মাসুদুর রহমান, কুমিল্লা সদরের উলুরচর গ্রামের আব্দুল্লাহ আল নোমান, লালমাই থানার বাগমারা গ্রামের নুসরাত শাহীন ইতি, দাউদকান্দির নলচক গ্রামের কাজী মো. বিল্লাল হোসেন, নাঙ্গলকোটের হরিপুর গ্রামের মো. সহিদুল ইসলাম; খুলনার সোনাডাঙ্গার বানরগাতী গ্রামের মো. তাওহীদুল ইসলাম, কয়রার হরিনগর গ্রামের মো. সামীম সানা ও দিঘলিয়ার পারমোচন্দপুর গ্রামের মো. আব্দুল হাই; কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের বরাগীর কান্দি গ্রামের হানিফ মিয়া; রংপুরের গঙ্গাচড়ার হরকলি গ্রামের মো. জিয়াউর রহমান; চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির রাংগামাটিয়া গ্রামের মো. রেজাউল করিম; নড়াইলের কালিয়ার সাতবাড়িয়া গ্রামের মো. রবিউল ইসলাম, মো. রাকিবুল, মো. আলী শেখ ও মোরাদ মোল্ল্যা; যশোরের অভয়নগরের ধুলগ্রামের মো. আইয়ুব আলী, রুহুল আমিন ও মো. আরশাদ আলী; নীলফামারীর ডিমলার দক্ষিণ তিতাপাড়ার মো. নুরুল ইসলাম ও মিনা আক্তার; ফরিদপুরের ভাঙ্গার উত্তর কালামৃধা গ্রামের রিপন মিয়া; ঝিনাইদহের মহেশপুরের জাগুসা বাজারের মো. ফেরদৌস ওয়াহেদ ও মো. আব্দুর রহিম এবং কালীগঞ্জের দামোদরপুরের মো. আব্দুস সালাম।

লিবিয়ায় জিম্মি করে দেশে মুক্তিপণ আদায় করেন আলাউদ্দিন শেখ। নড়াইলের কালিয়ার সাতবাড়িয়া গ্রামে গরুর খামার

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, চক্রের সদস্যরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে মানুষকে বিদেশ পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা নিয়ে আওয়াল ও আলাউদ্দিনের কাছে লিবিয়ায় পাঠাতেন। পরে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণের টাকা সংগ্রহ করতেন চক্রের সদস্যরা।

তদন্তে দেখা গেছে, বিদেশ থেকে আসা অর্থ বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে দেশে আনতে হুন্ডি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করত চক্রটি। ফলে একই ব্যাংক হিসাব দিয়ে মুক্তিপণের টাকা ও হুন্ডির অর্থ লেনদেন হয়েছে। মুক্তিপণ ও হুন্ডির টাকা লেনদেনে জড়িত ১৮টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে শনাক্ত করেছে সিআইডি। মামলায় এসব প্রতিষ্ঠান ও মালিকদেরও আসামি করা হয়েছে।

সিআইডির সূত্রমতে, প্রতিষ্ঠানগুলো নামসর্বস্ব। ট্রেড লাইন্সেস নিয়ে হুন্ডির টাকা লেনদেন করত এসব প্রতিষ্ঠান।

‘সম্পদও বাজেয়াপ্ত করতে হবে’

ব্র্যাকের এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ভালো চাকরির প্রলোভনে লিবিয়ায় গিয়ে ভয়াবহ দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন অধিকাংশ বাংলাদেশি। লিবিয়া থেকে ফেরত আসা ৫৫৭ জন বাংলাদেশির তথ্য বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি জানিয়েছে, তাঁদের ৬০ শতাংশের পরিবারকে স্থানীয় দালালেরা ভালো চাকরির আশ্বাস দিয়েছিলেন; কিন্তু লিবিয়ায় পৌঁছে ৮৯ শতাংশই কোনো চাকরি বা কাজ পাননি। বরং ৬৩ শতাংশ সেখানে যাওয়ার পথেই বন্দী হন। বন্দীদের মধ্যে ৯৩ শতাংশকে বিভিন্ন ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়েছিল এবং তাঁদের ৭৯ শতাংশ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। এ ছাড়া লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর ৬৮ শতাংশ মুক্তভাবে চলাচলের স্বাধীনতা হারান। খাবারের সংকটও ছিল প্রকট। ৫৪ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা কখনোই দিনে তিন বেলা খাবার পাননি। আর ২২ শতাংশ দিনে মাত্র এক বেলা খাবার পেয়েছেন।

জানতে চাইলে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, লিবিয়ায় শতাধিক ক্যাম্প রয়েছে, যেখানে জিম্মি করে মানুষকে নির্যাতন করা হয়। লিবিয়ায় জিম্মি করে পরিবারের কাছে ৫ থেকে ৭৬ লাখ টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জিম্মি চক্রের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি তাঁদের সম্পদও বাজেয়াপ্ত করতে হবে।

 [প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন মো. রাজু শেখ, নড়াইল প্রতিনিধি]

Read full story at source