অ্যানাফাইল্যাক্সিস: হঠাৎ বেজে ওঠা মৃত্যুর দামামা
· Prothom Alo
![]()
ধরুন, আপনি এমন একটি খাবারের রেস্তোরাঁয় গেছেন, যেখানে সামুদ্রিক খাবার পাওয়া যায়। সেখানে স্বাভাবিকভাবেই অনেক মানুষকে আয়েশ করে খাবার চিবাতে দেখা যাচ্ছে। তাঁদের মধ্যে এমন একজন আছেন, যিনি জীবনে আগে একবারই সি-ফুড খেয়েছিলেন। তখন তেমন কোনো সমস্যা হয়নি তাঁর। কিন্তু এবার খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই হঠাৎ তাঁর ঠোঁট ও মুখ ফুলে উঠল। সারা শরীর ভরে গেল অস্বস্তিকর লাল লাল চাকায়। এ পর্যন্ত তবু ঠিক ছিল; কিন্তু এরই মধ্যে তাঁর প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট দেখা দিল। গলা দিয়ে ঘড়ঘড় আওয়াজ বের হতে শুরু করল। কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই ব্যক্তি জ্ঞান হারালেন।
Visit freshyourfeel.org for more information.
১৯০২ সাল। বিজ্ঞানী পল পোর্টিয়ার ও চার্লস রিচেট কাজ করছিলেন সামুদ্রিক অ্যানেমনের বিষক্রিয়া নিয়ে। তাঁরা এই অ্যানেমনের বিষটি কয়েকটি কুকুরের শরীরে ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রবেশ করিয়ে দেখলেন, কুকুরগুলো দিব্যি ভালো আছে। তখন তাঁরা মনে করলেন, কুকুরগুলোর শরীরে হয়তো এই বিষের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।
বাঁ থেকে বিজ্ঞানী পল পোর্টিয়ার ও চার্লস রিচেটবিষয়টি পরীক্ষা করার জন্য তাঁরা কিছুদিন পর আবার ওই একই কুকুরগুলোকে একই পরিমাণ বিষ দিলেন। এবার অবাক হওয়ার পালা! কুকুরগুলো কয়েক মিনিটের মধ্যেই মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ল, গোঙাতে শুরু করল এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা হলো। এবার তাঁরা বুঝলেন, প্রতিরোধ নয়; বরং কোনো উল্টো ঘটনা ঘটেছে। ফলে প্রোফাইল্যাক্সিসের বিপরীতে তাঁরা এর নাম দিলেন অ্যানাফাইল্যাক্সিস। এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্য চার্লস রিচেট ১৯১৩ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
অ্যালার্জির সাতকাহনবিজ্ঞানী পল পোর্টিয়ার ও চার্লস রিচেট এই সামুদ্রিক অ্যানেমনের বিষটি কয়েকটি কুকুরের শরীরে ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রবেশ করিয়ে দেখলেন, কুকুরগুলো দিব্যি ভালো আছে।
এতক্ষণ যে অবস্থাটা আমরা দেখলাম, তা আসলে পরিবেশের কোনো আপাত নিরীহ উপাদানের (যার বিরুদ্ধে অধিকাংশ মানুষের শরীরই কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাবে না) প্রতি কোনো একজনের শরীরের প্রতিরক্ষাতন্ত্রের অতিরিক্ত সক্রিয়তা দেখানোর ফলাফল। কেতাবি ভাষায় এর নাম অ্যানাফাইল্যাক্সিস। এটি একধরনের হাইপার সেনসিটিভিটি প্রতিক্রিয়া, যাকে সাধারণত টাইপ ১ হাইপার সেনসিটিভিটির আওতায় শ্রেণিভুক্ত করা হয়। আরও নানা ধরনের হাইপার সেনসিটিভিটি আছে।
যাহোক, প্রথমে যে প্রতিক্রিয়াগুলোর কথা বলেছিলাম, সেগুলো অনেকেরই চেনা। এসব প্রতিক্রিয়াকে আমরা চিনি অ্যালার্জি হিসেবে। তবে অ্যালার্জির বর্ণালি আসলে অনেক বড়। তার এক প্রান্তে যেমন রয়েছে ধুলাবালুর সংস্পর্শে মৃদু হাঁচি-কাশি, তেমনি অপর প্রান্তে আছে এই মারাত্মক অ্যানাফাইল্যাক্সিস।
অ্যালার্জির বর্ণালি আসলে অনেক বড়কিন্তু কী আছে এই ভয়াবহ প্রক্রিয়ার নেপথ্যে? কিছু বিশেষ মানুষের শরীরে, বিশেষ কিছু পদার্থের প্রতিক্রিয়ায় কেন এমনটি ঘটে, তা-ও আবার দ্বিতীয় সাক্ষাতে? এর উত্তর পেতে আমাদের এবার ঢুঁ মারতে হবে শরীরের প্রতিরক্ষাতন্ত্রের একটু গভীরে।
পানির প্রতি কি অ্যালার্জি হতে পারেঅ্যানাফাইল্যাক্সিস একধরনের হাইপার সেনসিটিভিটি প্রতিক্রিয়া, যাকে সাধারণত টাইপ ১ হাইপার সেনসিটিভিটির আওতায় শ্রেণিভুক্ত করা হয়। আরও নানা ধরনের হাইপার সেনসিটিভিটি আছে।
নেপথ্যকাহিনি
টাইপ ১ হাইপার সেনসিটিভিটির গল্পটিকে মোটা দাগে দুটি পর্বে ভাগ করা যায়। প্রথমটিকে বলা হয় সেনসিটাইজেশন। যেকোনো অ্যালার্জিক পদার্থ, তা হতে পারে সামুদ্রিক খাবার বা বাদামের মতো কোনো খাবার, কোনো সুগন্ধি, ফুলের পরাগ, পোকামাকড়ের হুল কিংবা কোনো ওষুধ। এর সঙ্গে একেবারে প্রথম সাক্ষাতেই সাধারণত শরীর এমন কোনো কড়া প্রতিক্রিয়া দেখায় না। অবশ্য বাহ্যিক প্রতিক্রিয়া থাকে না বলে সেই প্রথম সাক্ষাতের কথা সাধারণত কারও মনেও থাকে না; শুধু মনে রাখে আমাদের শরীরের প্রতিরক্ষাতন্ত্র।
যেকোনো অপরিচিত পদার্থ শরীরের ভেতরে ঢুকলেই শরীরের প্রতিরক্ষাতন্ত্র তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখে। এসব আপাত নিরীহ পদার্থ সাধারণত প্রথম পরীক্ষাতেই পাস করে বেরিয়ে যাওয়ার কথা। অর্থাৎ স্বাভাবিক অবস্থায় আমাদের প্রতিরক্ষাতন্ত্র এদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো জোরদার ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করে না। কিন্তু আমাদের গল্পটি যাঁদের নিয়ে, তাঁদের শরীরে একটু ভিন্নধর্মী প্রতিক্রিয়া ঘটে। এ ক্ষেত্রে প্রথমে মাঠে নামে সাহায্যকারী টি লিম্ফোসাইটের একটি বিশেষ সাবসেট—টি হেলপার ২ কোষ। এদের কাজ দুটি বিশেষ পদার্থ ক্ষরণ করা—ইন্টারলিউকিন-৪ এবং ইন্টারলিউকিন-১৩।
কম প্রোটিন খেলে কি বয়স ধীরে বাড়েযেকোনো অপরিচিত পদার্থ শরীরের ভেতরে ঢুকলেই শরীরের প্রতিরক্ষাতন্ত্র তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখে। এসব আপাত নিরীহ পদার্থ সাধারণত প্রথম পরীক্ষাতেই পাস করে বেরিয়ে যাওয়ার কথা।
ইন্টারলিউকিন হলো এক শ্বেতরক্তকণিকার সঙ্গে আরেক শ্বেতরক্তকণিকার যোগাযোগের ভাষা। এ ক্ষেত্রে টি কোষটি সংকেত পাঠায় নবীশ বি লিম্ফোসাইটদের কাছে, যেন তারা সংশ্লিষ্ট পদার্থ অর্থাৎ অ্যালার্জেনটির বিরুদ্ধে বিশেষ অ্যান্টিবডি তৈরি করে। এই দুটি ইন্টারলিউকিন বি কোষের ক্লাস সুইচিংয়ের মাধ্যমে একে উদ্বুদ্ধ করে ইমিউনোগ্লোবিউলিন ই (Ig E) তৈরি ও নিঃসরণ করতে। এই নিঃসৃত আইজি ই রক্তের মাধ্যমে বিভিন্ন কোষকলায় ঘুরতে ঘুরতে পৌঁছে যায় মাস্ট কোষ ও বেসোফিলের কাছে। লোহিত অস্থিমজ্জায় জন্ম নেওয়া এই দুটি কোষের প্রথমটি কোষকলার বাসিন্দা, দ্বিতীয়টি ঘুরে বেড়ায় রক্তস্রোতে।
ইন্টারলিউকিন হলো এক শ্বেতরক্তকণিকার সঙ্গে আরেক শ্বেতরক্তকণিকার যোগাযোগের ভাষাআমাদের এই গল্পের নায়ক (কিংবা খলনায়ক) মাস্ট কোষ, তবে বেসোফিলও কিছু ভূমিকা রাখে। এদের সাইটোপ্লাজম ভরা থাকে নানা রকম দানায়, যার মধ্যে থাকে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ। এদের বলা হয় মেডিয়েটর। আর এসব কোষের পুরো শরীরজুড়ে আইজি-ই’র জন্য থাকে এক বিশেষ রিসেপ্টর—এফসিএপসাইলনআরআই (FcεRI)। এই রিসেপ্টরটির রাসায়নিক আসক্তি অত্যন্ত বেশি হওয়ায় এগুলো সব সময় আইজি-ই দিয়ে ভরা থাকে। আর যাঁদের শরীরভর্তি আইজি-ই, তাঁদের তো আর কথাই নেই। একই অ্যালার্জেনের বিভিন্ন অংশের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডিকে সারা শরীরে সজারুর কাঁটার মতো নিয়ে ঘুরে বেড়ায় মাস্ট কোষ ও বেসোফিল।
ঠান্ডা, সর্দি-কাশির ওষুধ খেলে ঘুম আসে কেনহিস্টামিন কাজ করে বিভিন্ন অঙ্গের মসৃণ পেশি ও রক্তনালির এন্ডোথেলিয়ামের ওপর। রক্তনালির মসৃণ পেশির হিস্টামিন রিসেপ্টরকে সক্রিয় করার মাধ্যমে এটি রক্তনালিগুলোকে প্রসারিত করে।
সেনসিটাইজেশনের গল্প এখানেই শেষ। গল্পের পরের ধাপটি শুরু হয় যখন সেই অ্যালার্জেন দ্বিতীয়বার শরীরে প্রবেশ করে। এখন শরীরে ওই অ্যালার্জেনের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি আছে, যাদের সঙ্গে সে যুক্ত হয়। একই মাস্ট কোষের গায়ে থাকা একাধিক অ্যান্টিবডির সঙ্গে একটি অ্যালার্জেন অণু যুক্ত হলে সেই রিসেপ্টর-অ্যান্টিবডি কমপ্লেক্সগুলো কাছাকাছি চলে আসে, যাকে বলা হয় ক্রসলিংকিং। এই ক্রসলিংকিংয়ের ফলে কোষের ভেতরে এক বিশেষ ধরনের প্রতিক্রিয়া ঘটে, যার ফলাফল হিসেবে কোষের ভেতরের দানাগুলো তাদের রাসায়নিক উপাদান কোষের বাইরে ঢেলে দেয়। এর মধ্যে রয়েছে হিস্টামিন, ট্রিপটেজসহ নানা রকম মেডিয়েটর। পাশাপাশি এরা তৈরি করতে থাকে আরও বিভিন্ন রাসায়নিক, যারা অ্যালার্জির পরবর্তী ধাপে কাজ করবে।
অ্যানাফাইল্যাক্সিসের ক্ষেত্রে আমাদের গল্প মূলত এই তাৎক্ষণিকভাবে নিঃসৃত রাসায়নিক বা অ্যাকিউট ফেইজ মেডিয়েটরদের ঘিরেই আবর্তিত হয়। এই মেডিয়েটরগুলোর কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এদের প্রোটোটাইপ হিস্টামিনকে ধরেই বিষয়টি ব্যাখ্যা করা যাক।
হিস্টামিন কাজ করে বিভিন্ন অঙ্গের মসৃণ পেশি ও রক্তনালির এন্ডোথেলিয়ামের ওপর। রক্তনালির মসৃণ পেশির হিস্টামিন রিসেপ্টরকে সক্রিয় করার মাধ্যমে এটি রক্তনালিগুলোকে প্রসারিত করে। আর এন্ডোথেলিয়ামের ওপর কাজ করে রক্তনালির ফাঁকফোকর বাড়িয়ে দেয়। এই ফাঁক গলে রক্তরস কোষকলার মাঝে বেরিয়ে পড়ে, ফলে শরীরে দেখা দেয় ফোলা ভাব ও চাকা। অ্যালার্জির লক্ষণগুলো এভাবেই তৈরি হয়।
মুখে ঘা হয় কেন, কী করলে ভালো হবেএকই মাস্ট কোষের গায়ে থাকা একাধিক অ্যান্টিবডির সঙ্গে একটি অ্যালার্জেন অণু যুক্ত হলে সেই রিসেপ্টর-অ্যান্টিবডি কমপ্লেক্সগুলো কাছাকাছি চলে আসে, যাকে বলা হয় ক্রসলিংকিং।
তবে অ্যানাফাইল্যাক্সিসের গল্পটা এখানেই শেষ নয়। সারা শরীরে যখন দ্রুততার সঙ্গে এই প্রতিক্রিয়া ঘটতে থাকে, তখন একদিকে রক্তরস বেরিয়ে যাওয়ায় কমে যায় রক্তের কার্যকর পরিমাণ, অন্যদিকে সারা শরীরের রক্তনালিগুলোর প্রসারণ এ অবস্থার সঙ্গে মিলে গিয়ে কমিয়ে দেয় রক্তচাপ। ফলে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে রক্তপ্রবাহ কমে যেতে থাকে। অবস্থা চরমে পৌঁছালে রোগী ভয়াবহ এক অবস্থায় চলে যায়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় শক।
অন্যদিকে শ্বাসনালির মসৃণ পেশিগুলোর রিসেপ্টরকে সক্রিয় করে এটি শ্বাসনালিকে সংকুচিত করে ফেলে। একই সঙ্গে রক্তরস কোষের বাইরের স্থানে জমা হওয়া এবং অতিরিক্ত মিউকাস ক্ষরণ—সব মিলিয়ে দেখা দেয় ভয়ংকর শ্বাসকষ্ট, গলার ঘড়ঘড় শব্দ আর বুকে শোঁ শোঁ আওয়াজ। শ্বাস নিতে না পারায় ক্রমেই কমতে থাকে রোগীর রক্তের অক্সিজেনের পরিমাণ।
শরীরের ভেতরে সবদিকে যেন তুমুল শব্দে একসঙ্গে বেজে ওঠে অসংখ্য মৃত্যুর দামামা। এমন অবস্থা কয়েক মিনিটের বেশি স্থায়ী হলেই তা হয়ে উঠতে পারে প্রাণঘাতী। কিন্তু কোথায় সেই জাদুর কাঠি, যার পরশে বন্ধ করা যেতে পারে মৃত্যুর সেই ভয়াল ধ্বনি?
এর উত্তর লুকিয়ে আছে মানুষের শারীরবৃত্তের মধ্যেই। নিউটনের গতির তৃতীয় সূত্রের মতো এখানেও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া জোড় একসঙ্গে কাজ করে। কাজেই হিস্টামিন প্রভৃতি মেডিয়েটরের ক্রিয়াকে উল্টে দেওয়ার হাতিয়ারও আমাদের শরীরেরই রয়েছে। হিস্টামিনের টার্গেট অঙ্গগুলোতে হিস্টামিন রিসেপ্টরের সঙ্গে সঙ্গে রয়েছে অ্যাড্রেনারজিক রিসেপ্টর, যার কাজ ঠিক উল্টো।
দাঁত ব্রাশ করার পরেও মুখে দুর্গন্ধ হয় কেনঅ্যাড্রেনালিনের প্রতিক্রিয়া দ্রুত এবং বহুমুখী। ঠিক এ কারণেই বর্তমানে অ্যানাফাইল্যাক্সিসের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের একটি ছোট অ্যাড্রেনালিন অটো-ইনজেক্টর বহন করতে পরামর্শ দেওয়া হয়।
এই অ্যাড্রেনারজিক রিসেপ্টরকে সক্রিয় করে অ্যাড্রেনালিন বা এপিনেফ্রিন, যা মানুষের শরীরেই তৈরি হয়। অ্যানাফাইল্যাক্সিসের এই বিপৎসংকুল পরিস্থিতির প্রথম সারির ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা এটাই। এ ক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব রোগীর মাংসপেশিতে অ্যাড্রেনালিন ইনজেকশন দেওয়ার মাধ্যমে জীবন রক্ষা করা সম্ভব।
অ্যাড্রেনালিন রক্তে শোষিত হয়ে কাজ শুরু করে দেয় বিভিন্ন ধরনের অ্যাড্রেনারজিক রিসেপ্টরের ওপর। এটি রক্তনালির মসৃণ পেশিতে কাজ করে তাকে সংকুচিত করে এবং রক্তরসের বেরিয়ে যাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেয়। আবার শ্বাসনালির প্রস্থ বাড়িয়ে ও মিউকাস ক্ষরণ কমিয়ে এটি শ্বাসকষ্টের উপশম করে। একই সঙ্গে এটি হৃৎপিণ্ডের স্পন্দনের হার ও সংকোচনের শক্তি বাড়িয়ে শকের অবস্থা থেকে শরীরকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করে।
অ্যান্টিহিস্টামিন কিংবা স্টেরয়েড একা এভাবে সব দিক থেকে অ্যানাফাইল্যাক্সিসের প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা আঘাত হানতে পারে না। কিন্তু অ্যাড্রেনালিনের প্রতিক্রিয়া দ্রুত এবং বহুমুখী। ঠিক এ কারণেই বর্তমানে অ্যানাফাইল্যাক্সিসের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের একটি ছোট অ্যাড্রেনালিন অটো-ইনজেক্টর বহন করতে পরামর্শ দেওয়া হয় এবং অ্যানাফাইল্যাক্সিসের লক্ষণ দেখা দিলে তখনই তা মাংসপেশিতে পুশ করতে বলা হয়। এটিই হলো সেই ছোট্ট জাদুর কাঠি, যা মুহূর্তে থামিয়ে দিতে পারে মৃত্যুর দামামার আওয়াজ।
লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা মেডিকেল কলেজসূত্র: রোয়েটস অ্যাসেনসিয়াল ইমিউনোলজি (ত্রয়োদশ সংস্করণ), ডেভিডসনস প্রিন্সিপালস অ্যান্ড প্র্যাকটিস অব মেডিসিন (২৫তম সংস্করণ)।মানুষের মাথাব্যথা ও মাইগ্রেন হয় কেন