অনিয়মের অভিযোগে রাজশাহীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সংস্কারকাজ বন্ধ

· Prothom Alo

সামান্য বৃষ্টিতে এক দিনেই পিচ সরে গিয়ে ইটের খোয়া বের হয়ে গেছে। আবার কিছু কিছু জায়গায় নিচে খোয়া বা পাথরই দেওয়া হয়নি। শুধু মাটির ওপর বালুতে সামান্য বিটুমিন মিশিয়ে কার্পেটিং করে দেওয়া হয়েছে। রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সংস্কারকাজের এই অনিয়মের অভিযোগে গতকাল সোমবার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

নগরের তেরোখাদিয়া এলাকার ওই স্টেডিয়ামটিতে প্রায় ২ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে এখন রং করা, নতুন রাস্তা নির্মাণ ও রাস্তা সংস্কারের কাজ চলছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এ কাজ করছে।

Visit betsport24.es for more information.

স্টেডিয়ামের ভেন্যু ব্যবস্থাপক সাইফুল্লাহ খান জেম দাবি করেন, তিনি নিম্নমানের কাজের বিষয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমানকে জানিয়েছেন। নিম্নমানের কাজের ছবি তুলেও তিনি পাঠিয়েছেন। তারপরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ক্রীড়া পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ১ কোটি ৮০ লাখ টাকায় স্টেডিয়ামের ভেতরে কিছু নতুন আরসিসি রাস্তা নির্মাণ এবং সামনের অংশে পুরোনো রাস্তা সংস্কারের কাজ পেয়েছে সুবর্ণা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। আর রং করা ও গ্যালারিতে একটি শৌচাগার নির্মাণের কাজ পেয়েছে দেশবন্ধু এন্টারপ্রাইজ নামের আরেকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সহকারী প্রকৌশলী মোখলেসুরও নিম্নমানের কাজের কথা স্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, ‘এ জন্য ঠিকাদারেরা বিল চাইলেও তিনি দেননি। তিনি ঠিকাদারদের চাপ দিয়েছেন সঠিকভাবে কাজ করে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য। তা না হলে তিনি বিল দেবেন না। আশা করি, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে।’

ক্রীড়া পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ১ কোটি ৮০ লাখ টাকায় স্টেডিয়ামের ভেতরে কিছু নতুন আরসিসি রাস্তা নির্মাণ এবং সামনের অংশে পুরোনো রাস্তা সংস্কারের কাজ পেয়েছে সুবর্ণা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। আর রং করা ও গ্যালারিতে একটি শৌচাগার নির্মাণের কাজ পেয়েছে দেশবন্ধু এন্টারপ্রাইজ নামের আরেকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি দেশবন্ধু এন্টারপ্রাইজের লোকজন পুরো স্টেডিয়ামের গ্যালারি রঙের কাজ শেষ করেছেন। নতুন আরসিসি রাস্তাও নির্মাণ করেছেন। এখন স্টেডিয়ামের সামনের প্রবেশপথ সংস্কার ও সীমানাপ্রাচীর রং করা হচ্ছে। খোদ স্টেডিয়ামের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা দুটি কাজেই অনিয়মের অভিযোগ তুলে গতকাল সকালে কাজ বন্ধ করে দেন।

গতকাল দুপুরে বিভাগীয় স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখা যায়, সামনের প্রবেশপথ সংস্কার করা হয়েছে। তবে এখনই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। এ সময় স্টেডিয়ামে ছিলেন বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব ও বিসিবির কাউন্সিলর মোজাদ্দেদ জামানী। তাঁকে চাবি দিয়ে রাস্তার কার্পেটিংয়ে আঁচড় দিতে দেখা যায়, নিচে কোনো কোনো স্থানে ইটের খোয়া বা পাথরই নেই। শুধু বালুর সঙ্গে সামান্য বিটুমিন মিশিয়ে কার্পেটিং করা হয়েছে।

সম্প্রতি স্টেডিয়ামের চারপাশের গ্যালারি রং করা হয়েছে। ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, কোথাও রং লেগেছে, কোথাও লাগেনি। এখনই অনেক স্থানের রং নষ্ট হয়ে গেছে। তখন বৃষ্টি হচ্ছিল। ছোট ছোট দুটি কৌটা নিয়ে সীমানাপ্রাচীর রং করতে আসেন কয়েকজন মিস্ত্রি। শিডিউলে বার্জারের রং করার কথা থাকলেও তাঁদের কাছে অন্য রং দেখা যায়। এ সময় সদস্যসচিব মোজাদ্দেদ জামানী তাঁদের কাজ করতে নিষেধ করেন। রংমিস্ত্রি ফিরোজ ইসলাম অন্য রং দিয়ে কাজ করছিলেন। কোন রং শিডিউলে রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিডিউলে রং বার্জারেরই আছে। কিন্তু তাঁদের দেওয়া হয়েছে অন্য রং। তাই তাঁরা এটিই রং করতে এসেছেন।’

এ বি এম এহছানুল মামুন, পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন), জাতীয় ক্রীড়া পরিষদতিনি প্রকৌশলী মোখলেসুরকে নির্দেশ দিয়েছেন, স্টেডিয়ামে গিয়ে নিম্নমানের কাজের অংশ ঠিক করে তাঁকে যেন রিপোর্ট দেন। তাঁরা এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

মোজাদ্দেদ জামানী বলেন, ‘আমি এ অনিয়মের তদন্ত চাই।’

রঙের এই কাজের সাব ঠিকাদার ফজলে রাব্বি খান বলেন, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে কাজটি পেয়েছেন অন্য ঠিকাদার। তিনি সেই ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজ নিয়েছেন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘যে রং তাঁরা দিচ্ছেন সেটি বার্জারের চেয়ে ভালো। বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা ঘুরঘুর করেন। তাঁদের কিছু রং না নিলে তাঁরা মন খারাপ করেন। এ জন্য অল্প কিছু রং অন্য কোম্পানির নিতে হয়েছে।’

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এ বি এম এহছানুল মামুন গতকাল বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, তিনি প্রকৌশলী মোখলেসুরকে নির্দেশ দিয়েছেন, স্টেডিয়ামে গিয়ে নিম্নমানের কাজের অংশ ঠিক করে তাঁকে যেন রিপোর্ট দেন। তাঁরা এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

Read full story at source