প্রিয় সিম্বা

· Prothom Alo

প্রথমবারের মতো অনলাইনে চিঠি লেখা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে প্রথম আলো বন্ধুসভা। এতে অসংখ্য চিঠি এসে জমা হয়। প্রতিযোগিতায় সমন্বয়ক ছিলেন ঢাকা মহানগর বন্ধুসভার সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর হাসান। বিচারকদের যাচাই বাছাইয়ের পর সেরা চিঠিগুলো প্রকাশ করা হলো।

Visit turconews.click for more information.

প্রিয় সিম্বা,

তোমার স্মৃতিভাস্বর এই বিরহ-তিমির সন্ধ্যায় আমার বুকের গভীর থেকে কেবলই এক হাহাকার নিংড়ে বের হয়ে আসছে। গোমতী নদীর তীর থেকে এক বিকেলে তোমাকে বুকে জড়িয়ে নিয়েছিলাম। পরম মমতায় তোমার তরে সঁপে দিয়েছিলাম আমার শৈশব-কৈশোরের সমস্ত অর্ঘ্য। সেই তুমি আজ আমায় কোন নিদারুণ নির্বাসনে ফেলে চলে গেলে?

তুমি কেবলই কোনো গৃহপালিত জীব ছিলে না, ছিলে আমার এই ধূসর জীবনের একখণ্ড রঙিন বসন্ত, প্রভার ভালোবাসার একমাত্র আশ্রয়। তোমার মনে পড়ে সিম্বা! কত রাত তুমি আমার বুকে মাথা রেখে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়েছ? যে ঘরে তোমার একটু স্পর্শের জন্য কাড়াকাড়ি হতো, কঠোর মনের মানুষও যেখানে তোমার মোহে আর্দ্র হয়ে উঠত, সেই প্রদীপ আজ নিভে গিয়ে চারপাশ যেন এক শ্মশান-স্তব্ধতায় ছেয়ে গেছে!

সেদিন বারান্দায় দাঁড়িয়ে যখন শুনলাম তোমাকে বহুদূরে, বহুদূরে কোণঠাসা কোনো অচিনপুরে ফেলে আসা হয়েছে, তখন আমার চোখের সামনে গোটা নিখিল বিশ্ব যেন একমুহূর্তে ঘোলাটে হয়ে তলিয়ে গেল।

আমায় ক্ষমা করো সিম্বা! তুমি হয়তো আমাকে শেষবার ডেকেছিলে, তোমার সেই কাতর ডাক আমার ঘুম ভাঙাতে পারেনি। কিন্তু বিশ্বাস করো, তুমিহীন এই ধরণিতে প্রভার প্রাণ আজ তিল তিল করে দগ্ধ হচ্ছে। কে এখন তোমাকে আজ সিম্বা বলে কাছে ডাকে? কে রাখে তোমার শীতল গায়ে ভালোবাসার হাত? নির্দয় পৃথিবীর কেউ যদি তোমার না-বোঝা ক্ষুধার কান্নার শব্দে বিরক্ত হয়ে আবার লাঠি তুলে নেয়, কে তখন বুকে তুলে আলতো করে চুমু খায়? কেউ কি এখন আমার মতো মাছের কাঁটা বেছে দেয়!

তোমার-আমার এই অলিখিত অনুরাগের বন্ধন কোনো দিন ছেঁড়ার নয়। আমার হৃদয়ের গোপন কোণে তুমি অমর হয়ে রবে। অন্য কোনো প্রাণীকে এ বুকে আমি আর স্থান দেব না, এ আমার অন্তরের পরম অঙ্গীকার! যদি এই ভালোবাসায় বিন্দুমাত্র সত্যতা থেকে থাকে, তবে ধূলিমলিন পথ পার হয়ে ফিরে এসো তোমার এই চির-বিরহী প্রভার কোলে...।

ইতি,

তোমার পথপ্রত্যাশী অভাগী প্রভা

মিরপুর, কুষ্টিয়া

Read full story at source