কে, কতটুকু পানি খাবেন, অতিরিক্ত পানি খেলে যেসব সমস্যা হয়

· Prothom Alo

শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, রক্ত সঞ্চালন, হজম, পুষ্টি পরিবহন ও কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্রমে পানির ভূমিকা অপরিসীম। অনেকের ধারণা, প্রতিদিন আট গ্লাস পানি খেলেই যথেষ্ট। বাস্তবে তা এত সহজ নয়। বয়স, ওজন, আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম ও রোগভেদে শরীরে পানির চাহিদা পরিবর্তিত হয়।

কে, কতটুকু পানি খাবেন

শিশুদের শরীরে পানির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি এবং তাদের শরীরে দ্রুত পানির ঘাটতি হতে পারে। তাই শিশুদের পর্যাপ্ত তরল ও পানি নিশ্চিত করা জরুরি।

Visit tr-sport.bond for more information.

কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক বৃদ্ধি দ্রুত হয়। খেলাধুলা ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড বেশি থাকায় পানির চাহিদাও বাড়ে।

দৈনন্দিন কাজ, আবহাওয়া ও কায়িক শ্রম অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্কদের পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত। বিশেষ করে গরমের সময় বা বেশি ঘাম হলে পানির প্রয়োজন আরও বেড়ে যায়।

বিদ্যুৎ ছাড়াই যেভাবে পানি ঠান্ডা করবেন

প্রাপ্তবয়স্কদের পানি পানের জন্য বহুল ব্যবহৃত একটি সূত্র রয়েছে। এই সূত্র অনুযায়ী একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন কতটুকু পানি খাবেন, তা নির্ভর করে তাঁর ওজনের ওপর।

এতে প্রতি কেজি ওজনের জন্য ৩০ থেকে ৩৫ মিলিলিটার পানি পান করতে হয়। উদাহরণস্বরূপ, একজন ৬০ কেজি ওজনের মানুষকে প্রতিদিন ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ১০০ মিলিলিটার পানি পান করতে হবে। এটাকে লিটারে রূপান্তর করলে পরিমাণ হয় ১ দশমিক ৮ লিটার থেকে ২ দশমিক ১ লিটার।

বয়স বাড়ার সঙ্গে তৃষ্ণা অনুভবের ক্ষমতা কমে যেতে পারে। ফলে অনেক সময় পানি কম খাওয়া হয়, যা সহজে পানিশূন্যতার ঝুঁকি তৈরি করে।

গর্ভবতী নারীদের অতিরিক্ত ৩০০ মিলিলিটার পানি প্রয়োজন। দুগ্ধদানকারী মায়েদের দৈনিক ৭০০–১০০০ মিলিলিটার অতিরিক্ত পানি পান করতে হবে। জ্বর হলে প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়লে শরীরের পানির চাহিদা ১০–১২ শতাংশ বেড়ে যায়।

ডায়রিয়া বা বমি হলে শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়, তাই অতিরিক্ত পানি বা ওরস্যালাইন দরকার। কিডনি রোগীদের পানির পরিমাণ নির্ধারণে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ জরুরি।

ফুটবলাররা কেন পানি মুখে নিয়ে কুলি করে ফেলে দেন, জানলে অবাক হবেন

অতিরিক্ত পানি খেলে যেসব সমস্যা হয়

  • শরীরে সোডিয়াম কমে যেতে পারে।

  • কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

  • ঘন ঘন প্রস্রাব হয়।

  • শরীর ফুলে যেতে পারে।

  • মাথাব্যথা ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।

সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পানি কম খাওয়া যেমন ক্ষতিকর, তেমনি অতিরিক্ত পানি পান করাও বিপজ্জনক হতে পারে। মনে রাখতে হবে, সবার পানির চাহিদা এক নয়নিজের বয়স, শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ফারজানা ওয়াহাব, পুষ্টিবিদ, আলোক হাসপাতাল লিমিটেড

পানি খাওয়ার কথা মনে থাকে না? সহজ ৯ কৌশল জেনে নিন

Read full story at source