‘দেখেশুনে চলাফেরা করিও, অনেক শত্রু আছে’ বলার ৫ দিন পর রংপুরে চালকের লাশ পাওয়া যায়
· Prothom Alo

‘দেখেশুনে চলাফেরা করিও, আমাদের ডানে-বাঁয়ে অনেক শত্রু আছে।’—ছেলেকে কথাগুলো বলেছিলেন রংপুরের গঙ্গাচড়ার মিশুকচালক মোখলেছার রহমান (৫৮)। এর পাঁচ দিন পর রাতে রাস্তার পাশে তাঁর গলাকাটা লাশ পাওয়া যায়। ছেলে মিজানুর রহমান এমনটাই জানালেন।
হত্যাকাণ্ডের ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ মোখলেছারের মিশুকটি উদ্ধার করতে পারেনি। হত্যার কোনো ক্লুও পাওয়া যায়নি।
Visit newsbetting.club for more information.
গত ২৮ আগস্ট দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গঙ্গাচড়ার শান্তিপাড়া এলাকার পাকা সড়কের পাশে মোখলেছারের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন পথচারীরা। খবর পেয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।
পরদিন ২৯ আগস্ট মোখলেছারের ছেলে মিজানুর রহমান গঙ্গাচড়া মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি।
মোখলেছারের বাড়ি গঙ্গাচড়ার নবনীদাস গ্রামে। তিনি মিশুক চালিয়ে সংসার চালাতেন। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষরা পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করেছে।
নিহত মোখলেছার রহমানহুমকির দুই সপ্তাহ পরই হত্যা
মোখলেছারের ছোট ভাই শাহিনুর ইসলামের অভিযোগ, ২৬ শতাংশ বসতভিটা নিয়ে প্রতিবেশী জাদু মিয়া, সেকেন্দার, মারজান ও সাদেকুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর ভাইয়ের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এ নিয়ে আদালতে একাধিক মামলাও আছে। সম্প্রতি একটি মামলায় মোখলেছারের পক্ষে রায় হওয়ায় প্রতিপক্ষের লোকজন ক্ষুব্ধ ছিল।
শাহিনুরের অভিযোগ, ১৩ আগস্ট রংপুর আদালত চত্বরে জাদু মিয়া, সেকেন্দার, মারজান ও সাদেকুল ইসলাম তাঁর ভাইকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এর দুই সপ্তাহের মধ্যেই তিনি হত্যার শিকার হন। একটি মিশুকের জন্য তাঁর ভাইকে এভাবে কুপিয়ে হত্যা করার কারণ নেই। পূর্বশত্রুতার জেরেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।
শাহিনুর ইসলাম, মোখলেছারের ছোট ভাই ১৩ আগস্ট রংপুর আদালত চত্বরে জাদু মিয়া, সেকেন্দার, মারজান ও সাদেকুল ইসলাম তাঁর ভাইকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এর দুই সপ্তাহের মধ্যেই তিনি হত্যার শিকার হন। একটি মিশুকের জন্য তাঁর ভাইকে এভাবে কুপিয়ে হত্যা করার কারণ নেই।প্রতিপক্ষের নাম উল্লেখ করে মামলা করতে চাইলেও পুলিশ তা নেয়নি বলে দাবি করেছেন বাদী মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, তাঁর বাবা সব সময় ভয় পেতেন। প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে মেরে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করতেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রতিপক্ষের জাদু মিয়া। তিনি গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়ার্ডবয়। জাদু মিয়া বলেন, ঘটনার দিন রাত ৯টা পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেন। বাড়ি ফিরে রাত ১২টার পর মোখলেছার হত্যার খবর পান। মোখলেছারের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। তিনিও জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার চান।সেকেন্দার আলী, মারজান ও সাদেকুল ইসলামও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস ছবুর বলেন, ‘পরিবারের অভিযোগ সঠিক নয়। মামলার বাদী যে অভিযোগ লিখে নিয়ে এসেছেন, সেটিই মামলা হিসেবে নেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। পরিবারের প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।’
নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা জানান মোখলেছারের স্ত্রী মোসলেমা বেগম। তাঁর ভাষ্য, প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর স্বামীকে খুন করেছেন। এখন পরিবারের অন্য কাউকে যে হত্যা করা হবে না, সেই নিশ্চয়তা কে দেবে?
একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটি নেই, চুলাও জ্বলছে না
মোখলেছারের পরিবারে স্ত্রী, দুই ছেলে, দুই মেয়ে ও নাতি-নাতনিসহ ৯ জন সদস্য। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। মিশুক চালিয়ে সংসারের খরচ চালানোর পাশাপাশি চারটি এনজিওর ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, চারটি এনজিও থেকে মোখলেছার প্রায় তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর সংসারের খরচ চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ঋণের কিস্তির চাপও আছে।
নিহত ব্যক্তির মেয়ে মোহসিনা বলেন, সংসারটা তাঁর বাবার কাঁধেই ছিল। এখন বাবা নেই, ঘরেও খাবার নেই। কয়েক দিন ধরে চুলা জ্বলেনি। প্রতিবেশীরা খাবার দিয়ে যাচ্ছেন। এভাবে কত দিন চলবে, তাঁরা জানেন না। তাঁর বাবার নেওয়া ঋণের টাকা একটি এনজিও মওকুফ করলেও অন্য এনজিওগুলো কিস্তির জন্য চাপ দিচ্ছে।
নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা জানান মোখলেছারের স্ত্রী মোসলেমা বেগম। তাঁর ভাষ্য, প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর স্বামীকে খুন করেছেন। এখন পরিবারের অন্য কাউকে যে হত্যা করা হবে না, সেই নিশ্চয়তা কে দেবে?