‘আব্বু দোয়া করো’ বলে আন্দোলনে গিয়েছিল রাসেল, পরে শোনেন বুকে গুলি লেগেছে
· Prothom Alo

‘আমি আন্দোলনে যাচ্ছি, আব্বু আমার জন্য দোয়া করো’—২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে ছেলের কাছ থেকে ফোনে এমন কথা শোনার কয়েক ঘণ্টা পর সন্ধ্যায় জানতে পারেন, তাঁর বুকে গুলি লেগেছে। এর তিন দিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান ছেলে রাসেল রানা।
Visit moryak.biz for more information.
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জে শহীদ রাসেল রানার বাবা পিন্টু রহমান আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ দেওয়া জবানবন্দিতে এ কথা বলেন। ওই সময় নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় পিন্টু রহমান চতুর্থ সাক্ষী।
জবানবন্দিতে পিন্টু রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেল চারটার দিকে তাঁর ছেলে ফোন করে পরিবারের খোঁজখবর নেন। এ সময় রাসেল তাঁকে বলেন, ‘আমি আন্দোলনে যাচ্ছি, আব্বু আমার জন্য দোয়া করো।’
জবানবন্দিতে আরও বলা হয়, সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে রাসেলের এক বন্ধুর ফোন থেকে পিন্টু রহমানের কাছে ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে জানতে চাওয়া হয়, তিনি রাসেলের বাবা কি না। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁকে জানানো হয়, নারায়ণগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গিয়ে রাসেল গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গুলি তাঁর বুকে লেগেছে এবং তাঁর অবস্থা ভালো নয়। রাসেলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়। তাঁকে (পিন্টু) দ্রুত হাসপাতালে আসতে বলা হয়।
পিন্টু রহমান বলেন, ‘নওগাঁ জেলায় কারফিউ চলার কারণে আমি ঢাকায় আসতে পারিনি। রাসেল নারায়ণগঞ্জে থাকত। আমরা নওগাঁয় বসবাস করি। রাসেল যে কারখানায় কাজ করত, সেই কারখানার মালিক বুলবুল আমার এলাকার আত্মীয়। নিজে ঢাকায় আসতে না পারায় বুলবুল ও আমার চাচাতো ভাই রফিকুলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাই।’
পিন্টু রহমানের ভাষ্য, ২২ জুলাই সকালে বুলবুল তাঁকে ফোন করে জানান, রাসেল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। পরে তিনি বুলবুলকে রাসেলের মরদেহ নওগাঁয় তাঁদের বাড়িতে নিয়ে আসার অনুরোধ করেন।
এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে রাসেলের মরদেহ নওগাঁয় নিয়ে যাওয়া হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
জবানবন্দিতে পিন্টু রহমান বলেন, পত্রপত্রিকা, ফেসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, রাসেল গুলিবিদ্ধ হওয়ার দিন সন্ধ্যা ছয়টার দিকে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, তাঁর ছেলে অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, টিটু, ভিকি, সাংবাদিক রাজু, রিয়াদ, ডিস বাবুসহ নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা গুলি করতে করতে চাষাঢ়া এলাকা থেকে বিবি রোড ও নয়ামাটি এলাকার দিকে যান।
এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেন পিন্টু রহমান।
নারায়ণগঞ্জে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় আসামি মোট ১২ জন। তাঁদের মধ্যে শামীম ওসমানের পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, মো. মিনহাজ উদ্দিন আহম্মদ ও তানভির আহম্মেদ। মামলার সব আসামিই পলাতক।