‘ক্রিকেট’ নামে ক্রিকেট জনপ্রিয় করা যাবে না, বলতে হবে ‘টি–টুয়েন্টি’
· Prothom Alo
ক্রিকেটকে জনপ্রিয় করতে হলে ক্রিকেট নামটাই বাদ দিতে হবে? রিকি পন্টিংয়ের প্রস্তাব শুনলে প্রথমে এমনটাই মনে হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়কের যুক্তি, যেখানে মানুষ ছোটবেলা থেকে ক্রিকেট দেখে বড় হয়নি, সেখানে ‘ক্রিকেট’ শব্দটি বরং ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে। তাই নতুন দর্শকের কাছে খেলাটিকে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে শুধু ‘টি–টুয়েন্টি’ নামে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে।
‘দ্য অ্যাথলেটিক’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পন্টিং বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটের প্রচার ও প্রসারের দায়িত্ব যদি তাঁর হাতে থাকত, তাহলে ‘ক্রিকেট’ নামটিই ব্যবহার করতেন না। বরং পুরো খেলাটিকে টি–টুয়েন্টি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিতেন। কারণ, ক্রিকেট বললেই পাঁচ দিনের টেস্টের কথা ভাবতে পারে তারা। বিপরীতে টি–টুয়েন্টি নাম দিয়ে খেলাটি যে দ্রুত, আক্রমণাত্মক এবং বিনোদননির্ভর, সেটি তুলে ধরা যাবে।
Visit saltysenoritaaz.com for more information.
পন্টিং মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটকে পরিচিত করাতে হলে তুলনা করতে হবে দেশটির সবচেয়ে পরিচিত খেলাগুলোর সঙ্গে। তাঁর চোখে সবচেয়ে ভালো উদাহরণ বেসবল। দুই খেলাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ হয়। তবে টি–টুয়েন্টির উত্তেজনাটা দর্শকের সামনে তুলে ধরতে হবে অন্যভাবে। এ বিষয়ে তাঁর কথা, ‘আমি এটাকে “ক্রিকেট” নামে ডাকতাম না। এটার ব্র্যান্ডিং করতাম “টি-টুয়েন্টি” নামে। “ক্রিকেট” বিষয়টাকে এক পাশে সরিয়ে রাখুন। বিশ্বের যেসব অঞ্চলে তরুণেরা ক্রিকেট দেখে বড় হননি, তাঁরা এই নাম শুনলেই মনে করেন এটা পাঁচ দিনের দীর্ঘ ও বিরক্তিকর একটা খেলা, যা আদতে তা নয়।’
টেস্ট ক্রিকেট পছন্দ করলেও ক্রিকেটের প্রসারে টি–টুয়েন্টিকে প্রাধান্য দিতে চান রিকি পন্টিংক্রিকেটকে বেসবলের সঙ্গে তুলনা টেনে দেখাতেন জানিয়ে পন্টিং বলেন, একটি টি–টুয়েন্টি ম্যাচে একটি দল ১৫টি ছক্কাও মারতে পারে। অথচ বেসবলে একটি ম্যাচে একটি হোম রানও নিয়মিত দেখা যায় না। তরুণদের কাছে এই পার্থক্যটা তুলে ধরতে পারলে টি–টুয়েন্টির আকর্ষণ সহজেই বোঝানো যাবে মনে করেন পন্টিং।
তাহলে ওয়ানডে বা টেস্ট ক্রিকেট? যুক্তরাষ্ট্রে সেসব সংস্করণ জনপ্রিয় করার পরিকল্পনা কী?
ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ফরম্যাটে বড় পরিবর্তনএখানেও পন্টিংয়ের অবস্থান পরিষ্কার। নতুন কোনো দেশে একটি খেলা প্রতিষ্ঠা করতে গেলে শুরুতেই দীর্ঘ সংস্করণ সামনে আনার দরকার নেই বলে মনে করেন তিনি। ১৬৮ টেস্ট খেলা এই ব্যাটসম্যানের যুক্তি, আগে টি–টুয়েন্টির মাধ্যমে দর্শক তৈরি করতে হবে। খেলাটির গতি, ব্যাটিংয়ের আক্রমণাত্মক ধরন ও বিনোদনের দিক মানুষকে টানতে পারলে পরে ক্রিকেটের অন্য সংস্করণগুলোর জন্যও জায়গা তৈরি হতে পারে।
২০২৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে যৌথভাবে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তানকে হারিয়ে বড় অঘটনও ঘটিয়েছিল দেশটি। তার আগে ২০২৩ থেকে দেশটিতে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্ট মেজর লিগ ক্রিকেটও (এমএলসি) চালু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যাশিত জনপ্রিয়তা পায়নি ক্রিকেট।
বর্তমানে ছয়টি শহরভিত্তিক দল নিয়ে প্রায় ছয় সপ্তাহের খেলা হয় এমএলসিতে। ম্যাচগুলো হয় ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাসে। সব দলের নিজস্ব হোম ভেন্যু না থাকলেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অবশ্য কম নয়।
মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী সত্য নাদেলা, অ্যাডোবির প্রধান নির্বাহী শান্তনু নারায়ণ এবং ভারতের আম্বানি পরিবারের মতো বড় নাম এমএলসির সঙ্গে যুক্ত। ভবিষ্যতে লিগটি ছয় দল থেকে আট দলে বাড়ানোর পরিকল্পনাও আছে। স্টিভ স্মিথের মতো তারকারাও খেলছেন এই লিগে।
পন্টিং নিজেও এমএলসির সঙ্গে শুরু থেকেই যুক্ত। ওয়াশিংটন ফ্রিডমের প্রধান কোচ হিসেবে তিনি কাছ থেকে দেখছেন যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটের বিকাশ। তবে অস্ট্রেলিয়ার টানা দুবারের শিরোপাজয়ী অধিনায়ক মনে করেন, শুধু পেশাদার লিগ চালু করলেই যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেট দ্রুত জনপ্রিয় হবে না। শৈশব থেকেই খেলাটিকে ছড়িয়ে দিতে হবে, ‘আরও বেশি শিশুকে অল্প বয়সে খেলাটির সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। বেসবল থেকে কিছু শিশুকে টি–টুয়েন্টিতে নিয়ে আসতে হবে।’
টি–টুয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান কোন ৫ ব্যাটসম্যানের