তিন নম্বরে তিন বছরে মুমিনুলও তিনে

· Prothom Alo

ক্রিকেটে কিছু সংখ্যা শুধু সংখ্যা নয়। তিন নম্বর যেমন।

ওপেনারদের পরেই নামতে হয় বলে নতুন বলের পরীক্ষা থাকে, আবার প্রথম উইকেট পড়লেই দলের ইনিংসের ভার এসে পড়ে কাঁধে। এই জায়গায় তাই ব্যাটসম্যানকে কখনো ধৈর্য ধরে ধাক্কা সামাল দিতে হয়, কখনো আবার দ্রুত রান তুলে ব্যাটিংয়ের সুরটা বেঁধে দিতে হয়। ডন ব্র্যাডম্যান, ভিভ রিচার্ডস, রিকি পন্টিং, রাহুল দ্রাবিড়, কুমার সাঙ্গাকারা—এমন কিংবদন্তি সব ব্যাটসম্যান ওয়ান ডাউন বা তিন নম্বর পজিশনের গুরুত্বটা আরও ভালো করে বুঝিয়ে দিয়েছেন।

Visit umafrika.club for more information.

সেই গুরুত্ব এখনো আছে। টেস্ট ক্রিকেটে গত তিন বছরে তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্সের দিকে তাকালে ইন্টারেস্টিং একটা ব্যাপার চোখে পড়বে। বাংলাদেশের মুমিনুল হক যেন ‘৩’ সংখ্যাটা নিজের সমার্থক করে নিয়েছেন। গত তিন বছরে তিন নম্বরে ব্যাটিং করা ব্যাটসম্যানদের রানের হিসেবে তিনি আছেন ঠিক তিন নম্বরেই। তাঁর ওপরে আছেন শুধু ইংল্যান্ডের ওলি পোপ ও নিউজিল্যান্ডের কেইন উইলিয়ামসন।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ১৫ টেস্টে ২৬ ইনিংসে তিন নম্বরে ব্যাট করেছেন মুমিনুল। ৪০.৭৯ গড়ে করেছেন ৯৭৯ রান। একটি সেঞ্চুরির সঙ্গে আছে আটটি ফিফটি। অর্থাৎ ২৬ ইনিংসে নয়বার পঞ্চাশ পেরিয়েছেন। মুমিনুলের চেয়ে যাঁরা ভালো করেছেন, সেই দুজনের মধ্যে পোপের রান ৩৮ ইনিংসে ১৩৬৯, পাঁচ সেঞ্চুরি তিন ফিফটি আর উইলিয়ামসনের ৩০ ইনিংসে ১৩৬০ রান, পাঁচ সেঞ্চুরি দুই ফিফটি। অর্থাৎ পঞ্চাশ ছোঁয়ার দিক থেকে এ দুজনের চেয়েও এগিয়ে মুমিনুল। তবে পিছিয়ে পড়েছেন বেশির ভাগ ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে না পারায়।

তিন নম্বরের এই হালচাল বিশ্লেষণের কারণ মারনাস লাবুশেন। দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ার তিন নম্বর পজিশন সামলানো এই ব্যাটসম্যান বেশ কিছু দিন ধরে ধুঁকছেন। গত তিন বছরে ৪৩ ইনিংসে তাঁর গড় মাত্র ২৪.৬৯। অন্তত ২০ ইনিংস খেলেছেন, এমন ৫৬ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তার চেয়ে খারাপ গড় মাত্র তিনজনের। দুজন আবার অবসরেও চলে গেছেন।

এই তিন বছরে তিন নম্বরে যাঁরা ব্যাট করেছেন (শীর্ষ ১০), তাঁদের মধ্যে একমাত্র লাবুশেনেরই কোনো সেঞ্চুরি নেই। বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজেই যেমন তিন ইনিংসে আউট হয়েছেন যথাক্রমে ১, ৩১ ও ৪ রানে। লাবুশেনের এমন হাঁসফাঁস দেখে রিকি পন্টিং তো বলেই দিয়েছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার এখন তিন নম্বরের জন্য অন্য কাউকে খোঁজা উচিত।

তবে নির্বাচকেরা শেষ পর্যন্ত সেই পথে হাঁটেননি। তিন টেস্টের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। সেই সফরের দলে রাখা হয়েছে লাবুশেনকে। ২০১৮ সালের কুখ্যাত ‘শিরীষ কাগজ’ কেলেঙ্কারির পর এই প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকায় যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। তিন নম্বরে খেলতে যে ধার লাগে, যে ভার সইতে হয়, তা নতুন কারও কাঁধে তুলে দেওয়ার ঝুঁকি নেননি নির্বাচকেরা। তিন নম্বর পজিশন বলে কথা!

Read full story at source