কনসিলার, ব্লাশ আর নিউড লিপ: মাত্র ৩ প্রোডাক্টেই কীভাবে ন্যাচারাল গ্ল্যাম আনেন জাহ্নবী কাপুর
· Prothom Alo

মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।
Visit truewildgame.com for more information.
প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট।
View this post on Instagram
ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়ে
জাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।
গালে নরম গোলাপি আভা
বেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।
ঠোঁটে নিউড-পিঙ্ক
জাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।
চোখে শুধু এক কোট মাসকারা
জাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।
ভ্রু থাকুক নেচারাল
এই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।
ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়
জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।
ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ড
জাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।
জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিন
পুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।
জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।