জবাবদিহিহীন ‘এসআরবি’ গঠন বন্ধসহ ৭ দফা দাবি জেএসডি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের

· Prothom Alo

র‌্যাবের ক্ষমতা, জনবল, কর্তৃত্ব, সম্পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক উত্তরাধিকার স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে পুনঃপ্রতিষ্ঠা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। মঙ্গলবার ঢাকায় রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘র‌্যাব থেকে এসআরবি: কসাই বাহিনীর পুনর্বিন্যাস, গুম-খুনের নতুন বন্দোবস্ত’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এই দাবি জানিয়েছে তারা। রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর কোনো সদস্যের অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অধীনে কাজ করার কথা নয়। ক্ষমতাকাঠামোর কারণে এসব বাহিনী ক্রমাগত ভয়ংকর হয়ে ওঠে। অভ্যুত্থানের পর জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদের নামে বন্দিশালা স্থাপন করা হচ্ছে। সরকার প্রতিনিয়ত জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

Visit sweetbonanza-app.com for more information.

সভাপতির বক্তব্যে জেএসডির সিনিয়র সহসভাপতি তানিয়া রব বলেন, রাষ্ট্রের নিয়মিত বাহিনী থাকার পরও যখন বিশেষ বাহিনী গঠন করা হয়, তখনই তার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ভয়ের সংস্কৃতি উপেক্ষা করে গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার নতুন লড়াই শুরু করতে হবে।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, সেনাবাহিনীর সদস্যদের পুলিশের কর্মকাণ্ডে সংযুক্ত করা হলে তা রাষ্ট্রে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। র‌্যাবের চেয়ে এসআরবিকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরও বেশি শক্তিশালী করা হয়েছে।

সভায় ৭ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো—

১. র‌্যাবের ক্ষমতা, জনবল, কর্তৃত্ব, সম্পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক উত্তরাধিকার এসআরবি নামে পুনঃপ্রতিষ্ঠা বন্ধ করা।

২. এসআরবির নামে জবাবদিহিহীন বিশেষ বাহিনী গঠন না করা।

৩. প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে বিতর্কিত বিশেষ বাহিনীর কাঠামোতে ব্যবহার বন্ধ করা।

৪. গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন ও বেআইনি আটকের প্রতিটি অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা।

৫. ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৬’ সংশোধন করা।

৬. প্রতিটি গ্রেপ্তার, আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ সম্পূর্ণভাবে নথিবদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক করা।

৭. সব আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের ওপর কার্যকর বিচারিক, সংসদীয় ও বেসামরিক নজরদারি নিশ্চিত করা।

সভায় বিশেষ আলোচক ছিলেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, স্থায়ী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সহসভাপতি হাবিবুর রহমান রাজা প্রমুখ।

Read full story at source