দাম্পত্যে নীরব শোবার ঘর বিপ্লব কী, কেন উপকারী
· Prothom Alo

এখন অনেক দম্পতি ইচ্ছাকৃতভাবেই এই অভ্যাস বদলাচ্ছেন। শোবার ঘরের দরজার বাইরে রেখে আসছেন ফোন। আর জানিয়েছেন, কেবল এই একটা অভ্যাস তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্ক সুস্থ রাখতে কতটা সাহায্য করেছে। সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা একে বলছেন ‘কোয়াইট বেডরুম রেভোল্যুশন’ বা নীরব শোবার ঘর বিপ্লব।
রাত বাড়ছে। ঘরের আলো নিভে গেছে। পাশাপাশি শুয়ে আছেন দুজন মানুষ, কিন্তু দুজনের চোখেই ঘুম নেই। একজন স্ক্রল করছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অন্যজন দেখছেন ভিডিও। মাঝখানে নীরবতা। একই বিছানায়, অথচ দুজন যেন দুটি আলাদা দুনিয়ায়।
Visit mwafrika.life for more information.
আধুনিক দাম্পত্যে এই দৃশ্য এতটাই পরিচিত যে অনেক সময় আমরা একে আলাদা করে সমস্যা বলে মনেই করি না। ফোন যেন বিছানার আরেকটি বালিশ, ঘুমানোর আগে হাতে থাকা চাই-ই চাই।
কিন্তু এখন অনেক দম্পতি ইচ্ছাকৃতভাবেই এই অভ্যাস বদলাচ্ছেন। শোবার ঘরের দরজার বাইরে রেখে আসছেন ফোন। আর জানিয়েছেন, কেবল এই একটা অভ্যাস তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্ক সুস্থ রাখতে কতটা সাহায্য করেছে। সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা একে বলছেন ‘কোয়াইট বেডরুম রেভোল্যুশন’ বা নীরব শোবার ঘর বিপ্লব।
দাম্পত্য মজবুত করুন ২-২-২ সূত্র মেনেফোনটা কি সত্যিই শুধু ফোন?
সমস্যা ফোনের অস্তিত্বে নয়, বরং এর ব্যবহারে। বিশেষ করে হাতের ফোনটা যখন সঙ্গীর উপস্থিতির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কথার মধ্যে ফোন দেখা, চোখে চোখ না রাখা, দিনের ছোট গল্পগুলো নোটিফিকেশনের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া, মনোবিজ্ঞানে এই আচরণের নাম ‘পার্টনার ফাবিং’।
পার্টনার ফাবিং বলতে বোঝায়, সঙ্গী সামনে থাকা অবস্থায় তাঁকে উপেক্ষা করে মুঠোফোন বা অন্য ডিজিটাল ডিভাইসে মনোযোগ দেওয়া। এখানে ফাবিং শব্দটি এসেছে ফোন+স্নাবিং থেকে। অর্থাৎ ফোনের কারণে কাউকে উপেক্ষা করা।
পার্টনার ফাবিং বলতে বোঝায়, সঙ্গী সামনে থাকা অবস্থায় তাঁকে উপেক্ষা করে মুঠোফোন বা অন্য ডিজিটাল ডিভাইসে মনোযোগ দেওয়া২০২৫ সালের একটি মেটা অ্যানালাইসিসে ৫২টি গবেষণা ও প্রায় ১৯ হাজার ৭০০ মানুষের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সঙ্গীর ফোনে ডুবে থাকার সঙ্গে সম্পর্কে অসন্তুষ্টি, ঘনিষ্ঠতার অভাব ও সাড়া না দেওয়ার অনুভূতিসহ ভুল–বোঝাবুঝি তৈরির মতো নেতিবাচক যোগ আছে। সম্পর্কে দ্বন্দ্ব ও ঈর্ষার সঙ্গেও জড়িয়ে আছে পার্টনার ফাবিং।
ফোন তাই কখনো কখনো হয়ে ওঠে সম্পর্কের অদৃশ্য তৃতীয় শক্তিশালী ‘ব্যক্তি’।
ব্যস্ত জীবনসঙ্গীকে নিয়ে সুন্দর দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ৫ কার্যকর টিপসক্ষতিটা হয় ছোট মুহূর্তেই
সম্পর্ক ভাঙতে সব সময় বড় ঘটনা লাগে না। বরং বেশির ভাগ সম্পর্ক নীরবে হারিয়ে যায় অসংখ্য ছোট ছোট বিশেষ অন্তরঙ্গ মুহূর্তের অভাবে।
২০২১ সালের ৮৯৩ জনের ওপর করা এক গবেষণা বলছে, সঙ্গীর ফোন ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাবের পেছনে বড় কারণ ‘গুরুত্ব না পাওয়া’র অনুভূতি।
সম্পর্কের সঙ্গে ঘুমও হারাচ্ছে গভীরতা
শোবার আগে ডিজিটাল ডিভাইসের পর্দার নীল আলো ঘুম-জাগরণের ছন্দ নষ্ট করতে পারে। ২০২৪ সালের এক গবেষণায় ৪ হাজার ১৮৮ জনের তথ্য দেখায়, ঘুমের আগের ৩০ মিনিটে নিয়মিত স্ক্রিন ব্যবহার মধ্যরাতের পর ঘুম, সাত ঘণ্টার কম ঘুম ও দিনের ক্লান্তির সঙ্গে যুক্ত।
আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীরা বিছানায় গড়ে ৪২ শতাংশ সময় ফোনে কাটান, যা ঘুম আসতে দেরি ও রাতে জেগে থাকার সঙ্গে সম্পর্কিত।
৫ বছর প্রেমের পর ৩২ বছরের দাম্পত্য, যৌথ জীবনের রহস্য জানালেন জিদানের স্ত্রী ভেরোনিকতবে প্রযুক্তি সব সময় শত্রু নয়
২০২১ সালে ২৮৯ জোড়া দম্পতির ওপর চালানো গবেষণা বলছে, একসঙ্গে টিভি দেখার মতো ভাগাভাগি প্রযুক্তি ব্যবহার সব সময় ক্ষতিকর নয়। একসঙ্গে হালকা মিউজিক শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়া বা গল্প করাও দুজনকে ‘কোয়ালিটি সময়’ কাটাতে সাহায্য করে।
তফাত হলো, একসঙ্গে থাকা (শারীরিকভাবে দূরে থেকেও প্রযুক্তির কল্যাণে একসঙ্গে থাকতে পারেন) আর পাশাপাশি থেকেও আলাদা থাকার মধ্যে।
ঘুমিয়ে পড়ার আগের সময়টা সঙ্গীর সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিনদরকার কেবল একটা সীমারেখা
‘ফোন নিষিদ্ধ’ নয়। বরং রাত ৯টা বা সাড়ে ৯টার পর ফোন অন্য ঘরে চার্জে রাখা, আলাদা অ্যালার্ম ঘড়ি ব্যবহার—এভাবে শুরু করতে পারেন। ঘুমিয়ে পড়ার আগে দিনের এই সময় সঙ্গীর সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিন। দিনটা কেমন গেল জিজ্ঞাসা করুন।
এক কাপ হালকা হারবাল চা খেতে খেতে গল্প করতে পারেন। কিছুক্ষণ বই পড়তে পারেন। বা কিছু না বলে, না করেও পাশাপাশি থাকুন। দুজনে মিলে ঠিক করুন, দিনের শেষ ৩০ মিনিট একান্তই আমাদের। এই একটি ছোট্ট অভ্যাসই হতে পারে সম্পর্কের ‘গেম চেঞ্জার’!
সূত্র: মিডিয়াম
দীর্ঘস্থায়ী দাম্পত্য জীবনের মূলমন্ত্র কী? জানালেন ৮৪ বছর ধরে একসঙ্গে থাকা এই দম্পতি