বিষাক্ত প্যারাকোয়াট আমদানি নিবন্ধন বন্ধ, গ্লাইফোসেট নিয়ে সিদ্ধান্ত হলো না
· Prothom Alo

বিষাক্ত বালাইনাশক প্যারাকোয়াট গ্রুপের আমদানি, নতুন নিবন্ধন ও লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বালাইনাশক কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি (পিটাক)।
দেশে মজুত থাকা প্যারাকোয়াট গ্রুপের বালাইনাশক ছয় মাসের মধ্যে শূন্য করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্যারাকোয়াট নিষিদ্ধ হলেও গ্লাইফোসেটের ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এটি নিষিদ্ধের সময়সীমা নির্ধারণ হয়নি। এটিও ক্ষতিকর বালাইনাশক। দেশে এর অপব্যবহার আছে বলে জানিয়েছেন কীটতত্ত্ববিদ ও কৃষিবিদেরা।
Visit casino-promo.biz for more information.
প্যারাকোয়াট বিষক্রিয়ার কোনো প্রতিষেধক নেই। ত্বক বা শ্বাসনালি দিয়ে শরীরে ঢুকে এটি ফুসফুস ও কিডনির ক্ষতি করে; অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যু হয়। বিশ্বের ৭৭টির বেশি দেশ এই বালাইনাশক নিষিদ্ধ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে কৃষি ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা প্যারাকোয়াট নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
দেশে প্যারাকোয়াটের অপব্যবহার এবং এর বিষক্রিয়ায় মানুষের মৃত্যু নিয়ে গত ১৫ আগস্ট প্রথম আলোয় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ নিয়ে প্রথম আলোয় একটি ভিডিও প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়। তখন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বিশেষজ্ঞ মতামত নিয়ে প্যারাকোয়াটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এরপর গত বৃহস্পতিবার পিটাকের ৯১তম সভায় এ সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়। সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের তথ্য এবং বাংলাদেশ ক্রপ প্রটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিপিএ) সভাপতির সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী দেশে প্যারাকোয়াট গ্রুপের বালাইনাশকের মোট মজুত ৩৯৫ মেট্রিক টন। পত্র জারির পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে এ মজুত শূন্য করতে হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও পিটাকের সভাপতি মো. আবদুছ ছালাম। তিনি আজ প্রথম আলোকে বলেন, পিটাকের ৯১তম সভায় সবচেয়ে বিপজ্জনক প্যারাকোয়াট ও গ্লাইফোসেটের বিষয়ে এবার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। দেশে থাকা প্যারাকোয়াট গ্রুপের বালাইনাশকের মজুত আগামী ছয় মাসের মধ্যে শূন্য করতে হবে। এ ছাড়া ৮৮তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্লাইফোসেটের মজুতও শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে।
আবদুছ ছালাম জানান, জাতীয় জীববৈচিত্র্য কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে ২৫ শতাংশ বিপজ্জনক বালাইনাশক ধাপে ধাপে কমিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবেই এই দুই বালাইনাশকের বিষয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্যারাকোয়াট কতটা ক্ষতিকর
কৃষিকাজে আগাছানাশক হিসেবে ব্যবহৃত অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিক ‘প্যারাকোয়াট’ বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ১০টি হাসপাতালের তথ্য নিয়ে করা এক গবেষণা বলছে, ২০১৩ সালে দেশে প্যারাকোয়াট পানে বিষক্রিয়ায় একটি মৃত্যুর ঘটনার রেকর্ড পাওয়া যায়। ২০২৪ সালে একই রাসায়নিক পানে বিষক্রিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা ২১২। দেশে আত্মহত্যার উপকরণ হিসেবে প্যারাকোয়াটের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এটা পান করলে ধুঁকে ধুঁকে যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু হয়।
আমেরিকান সোসাইটি অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিন সাময়িকীতে গত মে মাসে ‘ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ল্যাবরেটরি প্রোফাইল অব প্যারাকোয়াট পয়জনিং: এ টক্সিকোলজিক্যাল ক্রাইসিস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক ওই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। আর এর ওপর ভিত্তি করে গত ১৫ আগস্ট প্রথম আলোর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
ওই গবেষণায় নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ফজলে রাব্বি চৌধুরী। এতে ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ দেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এবং যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব এডিনবরার গবেষকেরা অংশ নেন।
ফজলে রাব্বি আজ প্রথম আলোকে বলেন, প্যারাকোয়াট নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত জনস্বাস্থ্যের জন্য খুব ইতিবাচক। যদি আরও আগে নিষিদ্ধ হতো তাহলে অনেক প্রাণ ও প্রকৃতি বাঁচত।
বাংলাদেশে প্যারাকোয়াটের আমদানি ও ব্যবহার জ্যামিতিক হারে বেড়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে যেখানে দেশে ৫৩ টনের বেশি প্যারাকোয়াট আমদানি হয়েছিল, ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৬৯৫ টনে। কৃষিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গ্রামাঞ্চলে দিনমজুরের সংকট এবং পারিশ্রমিক বৃদ্ধির কারণে কৃষকেরা হাত দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করার বদলে এই রাসায়নিকের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। অথচ ইতিমধ্যে বিশ্বের ৭৭টি দেশে বিষাক্ত এই রাসায়নিক নিষিদ্ধ।
গত বৃহস্পতিবার পিটাকের সভার সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, প্যারাকোয়াট গ্রুপের বালাইনাশক আমদানি, নিবন্ধন ও লাইসেন্স নবায়ন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে। এর আগে উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের পরিচালকের স্মারক (নং-১২.০১.০০০০.৪০০.৩৯.১০৫.১৯-১২৪৩, তারিখ ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) মূলে প্রেরিত তথ্য এবং বিসিপিএ সভাপতির উপস্থাপিত তথ্য বিবেচনায় নেওয়া হয়।
সভায় অত্যন্ত বিপজ্জনক বালাইনাশক পর্যায়ক্রমে বাজার থেকে প্রত্যাহারের বিষয়টিও আলোচনা হয়। পলিসি গাইডলাইন ও সুপারিশমালা প্রণয়নসংক্রান্ত কারিগরি কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ অ্যাগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, খাদ্যনিরাপত্তা, বিষমুক্ত খাবার নিশ্চিত করার স্বার্থে অনতিবিলম্বে অতি বিষাক্ত বালাইনাশক আমদানি বন্ধ করা উচিত। প্রধানমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রী খাদ্যপণ্যকে এক নম্বর রপ্তানি পণ্য হিসেবে পরিণত করতে চান। সেটা করতে হলে অবশ্যই এ উদ্যোগ সরকারকে নিতে হবে।
গ্লাইফোসেট নিয়ে সরাসরি সিদ্ধান্ত এল না
প্যারাকোয়াটের পাশাপাশি গ্লাইফোসেট নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে পিটাক এবার নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, গ্লাইফোসেট গ্রুপের বালাইনাশকের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আগের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
৮৮তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্লাইফোসেটের মজুতও শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে। তবে প্যারাকোয়াটের ব্যাপারে যেমন ছয় মাসের মজুত শেষ করার কথা বলা হয়েছে, গ্লাইফোসেটের ক্ষেত্রে তা করা হয়নি।
পিটাকের গত বৃহস্পতিবারের সভায় উপস্থিত বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক নার্গিস আক্তার আজ প্রথম আলোকে বলেন, গ্লাইফোসেট কবে নাগাদ শেষ করতে হবে, এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের পরিচালক নাহিদা আমীন। তিনি বলেন, ‘প্যারাকোয়াট এখন কতটা আছে, সেটা আমরা জানি। কিন্তু গ্লাইফোসেটের মজুত সম্পর্কে জানি না। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে এটি নিষিদ্ধের সময়সীমা নির্ধারণ হতে পারে।’
গ্লাইফোসেট নিয়ে বিতর্ক, দক্ষিণ লেবাননে ব্যবহারের অভিযোগ
গ্লাইফোসেট বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত আগাছানাশকগুলোর একটি। কৃষিজমিতে আগাছা দমন ছাড়াও উদ্যান, বনভূমি, রাস্তার পাশসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা হয়। গ্লাইফোসেটের ব্যবহার ব্যাপক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অধীন আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থা ২০১৫ সালে গ্লাইফোসেটকে মানুষের জন্য সম্ভাব্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী বা ‘গ্রুপ ২এ’ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করে। সংস্থাটির মূল্যায়নে মানুষের ক্ষেত্রে ক্যানসারের সীমিত প্রমাণ, পরীক্ষাগারে প্রাণীর ক্ষেত্রে ক্যানসার সৃষ্টির পর্যাপ্ত প্রমাণ এবং গ্লাইফোসেটের জিনগত ক্ষতি করার বিষয়ে শক্তিশালী প্রমাণের কথা বলা হয়।
তবে এই শ্রেণিবিন্যাসের অর্থ গ্লাইফোসেট মানুষের ক্যানসার ঘটায়—এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থার শ্রেণিবিন্যাস মূলত কোনো পদার্থের ক্যানসার সৃষ্টির আশঙ্কা বা বিপজ্জনক বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে। একজন মানুষ বাস্তবে কতটা ঝুঁকির মুখে পড়বেন, তা নির্ভর করে তিনি কত পরিমাণে, কত সময় ধরে এবং কীভাবে ওই পদার্থের সংস্পর্শে আসছেন, তার ওপর।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক গোপাল দাস আজ প্রথম আলোকে বলেন, গ্লাইফোসেটের যখন আগাছা দমনের ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়, তখন এটি মাটি বা পানির মাটির ভারী ধাতবের সঙ্গে মিশে যায়। একে বলে গ্লাইফোসেট হেভিমেটাল কমপ্লেক্স। এটি পানি বা পুষ্টিকণার মাধ্যমে গাছের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। পরবর্তী সময়ে খাদ্য শ্রেণিতে প্রবেশ করতে পারে। একপর্যায়ে তা মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
ইউরোপে ভিন্ন মূল্যায়ন
গ্লাইফোসেট নিয়ে ইউরোপের মূল্যায়নে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। ইউরোপীয় রাসায়নিক সংস্থা ২০২২ সালে জানায়, গ্লাইফোসেটকে ক্যানসার সৃষ্টিকারী, জিনগত পরিবর্তনকারী বা প্রজননক্ষমতার জন্য বিষাক্ত হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করার বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড পূরণ হয়নি।
এরপর ইউরোপীয় খাদ্যনিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ ২০২৩ সালে গ্লাইফোসেটের নতুন করে পর্যালোচনা করে। সংস্থাটি জানায়, তাদের মূল্যায়নে গ্লাইফোসেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে এমন কোনো গুরুতর ঝুঁকির ক্ষেত্র শনাক্ত হয়নি, যেটিকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্বেগের কারণ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তবে কিছু তথ্যের ঘাটতির কথাও তারা উল্লেখ করে।
এই মূল্যায়নের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৩ সালের নভেম্বরে গ্লাইফোসেটের অনুমোদন আরও ১০ বছরের জন্য নবায়ন করে, অর্থাৎ ২০৩৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত এর অনুমোদন বহাল রাখে। অবশ্য অনুমোদনের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত ও বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে।
গ্লাইফোসেট নিয়ে বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনা অবশ্য এখানেই শেষ হয়নি। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেও ইউরোপীয় রাসায়নিক সংস্থার ঝুঁকি মূল্যায়ন কমিটি নতুন প্রকাশিত একটি গবেষণা পর্যালোচনা করে জানায়, ওই গবেষণা গ্লাইফোসেটকে ক্যানসার সৃষ্টিকারী হিসেবে শ্রেণিবিন্যাস করার আগের অবস্থান পরিবর্তনের মতো নতুন প্রমাণ দেয়নি।
দক্ষিণ লেবাননে গ্লাইফোসেট ছিটানোর অভিযোগ
গ্লাইফোসেট নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে দক্ষিণ লেবাননের একটি ঘটনায়। লেবাননের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের ১০ জুন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে অভিযোগ করে, ওই বছরের ১ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় গ্লাইফোসেট ছিটিয়েছে।
লেবাননের অভিযোগটি দেশটির জাতীয় বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিষদের একটি গবেষণা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী আয়তা আল-শাব, রাস আল-নাকুরা ও ধাইরা এলাকায় মাটির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। এসব নমুনায় গ্লাইফোসেট এবং এর একটি প্রধান অবক্ষয়জাত পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া যায়।
জাতিসংঘে পাঠানো নথিতে বলা হয়েছে, ওই সময় ইসরায়েলি বাহিনী জাতিসংঘের বাহিনীকে জানিয়েছিল যে সীমান্তরেখার কাছে তারা একটি ‘বিষাক্ত নয় এমন রাসায়নিক পদার্থ’ ছিটাবে। পরে নমুনা সংগ্রহের কাজে জাতিসংঘের বাহিনী সহায়তা করে। লেবাননের কৃষি ও পরিবেশবিষয়ক কর্তৃপক্ষের পরীক্ষায় ওই পদার্থ গ্লাইফোসেট বলে শনাক্ত হয়েছে বলে দেশটি জানিয়েছে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এগুলো লেবানন সরকারের অভিযোগ ও তাদের গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনের তথ্য। ঘটনাটি সম্পর্কে ইসরায়েলের নিজস্ব বক্তব্য এবং স্বাধীন আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক তদন্তের ফল আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
প্রকাশিত গবেষণা তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষিত নমুনাগুলোতে গ্লাইফোসেটের ঘনত্ব প্রতি গ্রামে ৫ দশমিক ৮৪০ থেকে ২২ দশমিক ৭৫০ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত ছিল। সর্বোচ্চ মাত্রাটি আয়তা আল-শাব এলাকার নমুনায় পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননের ঘটনাটি শুধু মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে কৃষিজমি ও পরিবেশের বিষয়টিও জড়িত।
শ্রীলঙ্কাতেও গ্লাইফোসেট
শ্রীলঙ্কার ধানচাষপ্রধান এলাকায় অজ্ঞাত কারণে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের সম্ভাব্য কারণ অনুসন্ধানে চন্না জয়াসুমানা, সারথ গুনাতিলাকে ও প্রিয়ন্থ সেনানায়েকে একটি গবেষণা করেন। গবেষণাটি ২০১৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। এতে শ্রীলঙ্কার উত্তর-মধ্যাঞ্চলে কিডনি রোগের সঙ্গে কঠিন পানির সম্পর্ক এবং কৃষিতে ব্যাপক ব্যবহৃত গ্লাইফোসেটের ভূমিকা নিয়ে একটি তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। গবেষকদের মূল বক্তব্য ছিল, গ্লাইফোসেট একা নয়; কঠিন পানির খনিজ ও কিডনির জন্য ক্ষতিকর ভারী ধাতুর সঙ্গে গ্লাইফোসেটের জটিল যৌগ তৈরি হলে তা কৃষকদের কিডনি ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
গোপাল দাস বলেন, গ্লাইফোসেট খাদ্য চেইনের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ঢুকে ও বিভিন্ন জটিল রোগ তৈরিতে সহায়তা করে। শুধু গ্লাইফোসেটের চেয়ে গ্লাইফোসেট-কমপ্লেক্স অনেক বেশি মারাত্মক।