যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলাদা আলোচনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের
· Prothom Alo

ইরানে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরুর সাত মাস পেরিয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন সময় যুদ্ধ বন্ধের নানা উদ্যোগ দেখা গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করেছেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। গতকাল সোমবার এ আলোচনা হয়েছে।
Visit rouesnews.click for more information.
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলছিল। ওই সময় যুদ্ধের লাগাম টানতে ইরানের পক্ষ থেকে সাত দিনের একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়; যদিও সে প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আশা করা হচ্ছে, ওই প্রস্তাবের একটি সংশোধিত রূপ নিয়ে আরও আলোচনা হতে পারে। আলোচনার উদ্যোগের সম্পর্কে জানেন—এমন একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ কথা বলেছেন।
‘ভয়ংকর’ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধের সূত্রপাত। এরই মধ্যে প্রাণ গেছে হাজারো মানুষের। সেই সঙ্গে বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারও বড় ধাক্কা খেয়েছে; বেড়েছে জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলে শান্তি আলোচনা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুবার যুদ্ধবিরতিতে রাজিও হয়। একবার গত এপ্রিলে, আরেকবার জুনে। তবে তা ভেস্তে গেছে।
উড়োজাহাজ ‘এয়ারফোর্স ওয়ানে’ ওঠার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে গেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। অধিবেশন শেষে এখনো সেখানে অবস্থান করছেন তিনি। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ইরনাকে আরাগচি বলেন, ইরান সর্বশেষ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরের অপেক্ষায় আছে। সেই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পথ পুনরায় চালুর শর্তগুলোর ব্যাপারেও তারা যুক্তরাষ্ট্রের জবাবের অপেক্ষা করছে।
ইরানের প্রস্তাব না মেনে ট্রাম্প কি আরও বিপদ বাড়াচ্ছেনআরাগচি বলেন, ‘মার্কিন নাগরিকেরা যদি দাবি করেন, তাঁরা একটি চুক্তি বা শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজছেন; তবে আমরা সেটা দিয়েছি।’
গতকাল মার্কিন কর্মকর্তারাও মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এ কথা জানান ট্রাম্প। তবে তিনি বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
ইরানের দেওয়া প্রস্তাবে কয়েকটি বিষয় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ইরান ও লেবাননে সব ধরনের সংঘাতের অবসান, জব্দ করা ইরানের শত শত কোটি ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করা, ইরানের জ্বালানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া।
তেহরান জানায়, এসব মানা হলে তবেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। জ্বালানি তেলের ট্যাংকারগুলো চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ এটি; পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ কিংবা ধ্বংস করার যে ইচ্ছা ট্রাম্পের রয়েছে, তা নিয়ে উভয় পক্ষ আবারও আলোচনা শুরু করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘ধ্বংসাত্মক’ যুদ্ধ করতে ইরান প্রস্তুত আছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচিইরানের প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়ার কথা জানিয়ে গত শনিবার ট্রাম্প বলেন, তেহরান মারাত্মক অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে। তাই তারা দ্রুত একটি চুক্তি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তবে গত রোববার সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে ট্রাম্প এ-ও বলেন, চলতি সপ্তাহে মার্কিন আলোচকেরা আরও আলোচনায় বসবেন বলে তিনি আশা করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬অন্যদিকে রোববার আরাগচি বলেছেন, ট্রাম্পের প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়ার বিষয়টি মধ্যস্থতাকারীরা আনুষ্ঠানিকভাবে জানাননি। কাজেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার আগে তেহরান এখন ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের শর্তগুলো স্পষ্ট; হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার যেকোনো পদক্ষেপ এসব শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে। একমাত্র আলোচনার মাধ্যমে পৌঁছানো কোনো সমাধানই এ অচলাবস্থা দূর করতে পারে।’
আরাগচি সতর্ক করে দিয়ে আরও বলেছেন, ইরান ‘ভয়ংকর যুদ্ধের’ জন্যও প্রস্তুত আছে।
হরমুজ সাত দিনের মধ্যে খুলতে প্রস্তাব ইরানের, কী বলছে যুক্তরাষ্ট্র