প্রান্তিক পর্যায়ে সেবায় জোর দিচ্ছে সীমান্ত ব্যাংক 

· Prothom Alo

মাত্র এক দশকে আধুনিক প্রযুক্তি, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়ন এবং প্রান্তিক মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিয়ে আস্থা অর্জন করছে সীমান্ত ব্যাংক পিএলসি। বর্তমানে ১ লাখ ৩২ হাজার ৭৭১ গ্রাহককে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিচ্ছে ব্যাংকটি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ব্যাংকটির মোট গ্রাহকের প্রায় ২০ শতাংশই নারী। এ ছাড়া বিজিবি সদস্যদের জন্য বিভিন্ন ব্যাটালিয়নে পাঁচটি বিশেষ ‘গ্রাহক প্রাঙ্গণ পরিষেবা’ চালু করা হয়েছে।

২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু করা সীমান্ত ব্যাংক দেশের ব্যাংকিং খাতে নিজেদের একটি মজবুত অবস্থান তৈরি করেছে। দেশব্যাপী তারা ২৮টি শাখা, ৮টি উপশাখা, ৩টি সার্ভিস সেন্টার ও ৪৫টি এটিএম বুথ ইতিমধ্যে স্থাপন করেছে।

Visit somethingsdifferent.biz for more information.

‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ ও ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্যে ডিজিটাল রূপান্তরে জোর দিয়েছে সীমান্ত ব্যাংক। ডিজিটাল লেনদেন সহজ করতে ২০১৭ সালেই তারা চালু করে ইন্টারনেট ব্যাংকিং অ্যাপ ‘কানেক্ট’। পাশাপাশি রয়েছে করপোরেট গ্রাহকদের জন্য ‘কানেক্ট প্লাস’ এবং সহজে ই-কেওয়াইসিভিত্তিক হিসাব খোলার সুবিধা। ডিজিটাল পেমেন্টকে জনপ্রিয় করতে ‘বাংলা কিউআর’ পেমেন্ট–ব্যবস্থায় বিশেষ জোর দিচ্ছে ব্যাংকটি।

গ্রাহকের তথ্য ও আমানতের সুরক্ষায় ব্যাংকটি আন্তর্জাতিক আইএসও ২৭০০১:২০২২ স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করছে। কার্ড–সেবায়ও সফল হচ্ছে তারা। বর্তমানে ব্যাংকটির ডেবিট কার্ড গ্রাহক ৮১ হাজার এবং ক্রেডিট কার্ড গ্রাহক ১৯ হাজার ছাড়িয়েছে। কার্ডের গ্রাহকদের জন্য ২ শতাধিক ইএমআই, ডিসকাউন্ট ও বাই ওয়ান-গেট ওয়ান পার্টনার রয়েছে। এ ছাড়া ১০ হাজারের বেশি ই-কমার্স মার্চেন্টে সীমান্ত ব্যাংকের কার্ড দিয়ে কেনাকাটার সুবিধা পান গ্রাহকেরা।

দেশের তৃণমূল অর্থনীতিকে গতিশীল করতে কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (সিএমএসএমই) বিশেষ নজর দিয়েছে সীমান্ত ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন রিফাইন্যান্স স্কিমের আওতায় সহজ শর্তে ঋণ বিতরণ করছে তারা। সিএমএসএমই উদ্যোক্তারা মাত্র ৭ শতাংশ সুদে, নারী উদ্যোক্তারা ৫ শতাংশ সুদে এবং স্টার্ট-আপ ও আইসিটি খাতের উদ্যোক্তারা মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ পাচ্ছেন। সৌরবিদ্যুৎ–চালিত সেচপাম্পের জন্য দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৩ শতাংশ সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ।

নতুন উদ্যোক্তা, নারী উদ্যোক্তা ও প্রান্তিক কৃষকদের সার্বিক আর্থিক সহায়তা দিতে ‘এসএমবিএল আস্থা’, ‘সীমান্ত প্রেরণা’, ‘এসএমবিএল উদ্দীপক’ ও ‘সীমান্ত ব্যাংক প্রান্তিক উদ্যোগ’-এর মতো বিভিন্ন মেয়াদি ও জামানতমুক্ত ঋণসুবিধা দিচ্ছে ব্যাংকটির এসএমই বিভাগ। বিশেষ করে ছোট ব্যবসার জন্য ১ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতমুক্ত ঋণসুবিধা তরুণ ও উদীয়মান উদ্যোক্তাদের ব্যবসা প্রসারে দৃশ্যমান ভূমিকা রাখছে। রিটেইল ব্যাংকিংয়ে পারসোনাল লোন, হোম লোন, কৃষকদের জন্য জামানতবিহীন কৃষিঋণ ও শিক্ষার্থীদের জন্য ‘প্রযুক্তি ঋণ’ সেবাও দিচ্ছে ব্যাংকটি।

আর্থিক সূচকেও সীমান্ত ব্যাংকের ধারাবাহিক অগ্রগতি আছে। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ব্যাংকটির আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮২০ কোটি ৬৭ লাখ টাকায় এবং পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৫০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। একই সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ও রেমিট্যান্স সংগ্রহেও ব্যাংকটির প্রবৃদ্ধি আছে। ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ১৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার কোটি এবং পরিশোধিত মূলধন ৫২৫ কোটি টাকা।

২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সিএসআর খাতে ৬ কোটি ১০ লাখ টাকার বেশি ব্যয় করেছে সীমান্ত ব্যাংক। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও সবুজ অর্থায়নেও (গ্রিন ফাইন্যান্সিং) বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে তারা।

Read full story at source