ভাটারা থানার মামলায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদারের জামিন বহাল, মুক্তিতে বাধা নেই

· Prothom Alo

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় রাজধানীর ভাটারা থানায় করা মামলায় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদারের জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ফলে তাঁর কারামুক্তিতে আর কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী।

Visit afnews.co.za for more information.

ভাটারা থানার মামলায় দীপংকর তালুকদারকে হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ‘নো অর্ডার’ (কোনো আদেশ নয়) দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান। আর দীপংকর তালুকদারের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অনাবিল আনন্দ রায়।

আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ভাটারা, পল্টন মডেল ও বংশাল থানার পৃথক তিনটি মামলায় গত ২০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান দীপংকর তালুকদার। এর মধ্যে ভাটারা থানার মামলায় তাঁর জামিন স্থগিতের আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। চেম্বার আদালতের বৃহস্পতিবারের কার্যতালিকায় আবেদনটি ৮০ নম্বর ক্রমিকে ছিল। আদালত স্থগিতাদেশ না দেওয়ায় হাইকোর্টের জামিন বহাল রইল।

আইনজীবী অনাবিল আনন্দ রায় বলেন, ‘এই তিন মামলার এজাহারে দীপংকরের নাম নেই।’ তিনি আরও জানান, এর আগে দীপংকর তালুকদার অন্য পাঁচটি মামলায়ও জামিন পেয়েছেন। সব মিলিয়ে আটটি মামলায় জামিন পাওয়ায় এখন তাঁর কারামুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা নেই।

২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশের দিন সংঘর্ষে যুবদল নেতা শামীম মোল্লা নিহত হন। ওই ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৭০৪ জনকে আসামি করে মামলা করেন ছাত্রদলের সাবেক সদস্য মো. আব্বাস আলী।

পল্টন থানায় করা ওই হত্যা মামলায় ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সোবহানবাগ এলাকা থেকে দীপংকর তালুকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ভাটারা, শাহবাগ, পল্টন ও বংশাল থানার চার মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই পাঁচ মামলায় জামিন পাওয়ার পর গত ১৮ মে নতুন করে ভাটারা, পল্টন ও বংশাল থানার তিন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।

দীপংকর তালুকদার রাঙামাটি আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য হন। পরে নবম জাতীয় সংসদের সময় তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।

Read full story at source