সরকারে দলীয় আনুগত্য, নাকি রাষ্ট্রের স্বার্থ অগ্রাধিকার পাচ্ছে
· Prothom Alo

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের একটি কথা দলটি বারবার বলে, ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়।’ বেগম খালেদা জিয়াও তাঁর জীবদ্দশায় বারবার নেতা-কর্মীদের এ কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। এখন প্রশ্ন হলো: কথাটা কি শুধু মুখে মুখেই থাকবে, নাকি বাস্তবেও সেটার প্রতিফলন দেখা যাবে? লিখেছেন মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার
১৯৬৩ সালের ২২ নভেম্বর ডালাসে গুলিতে নিহত হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি। তাঁর হত্যার রহস্য আজও পুরোপুরি কাটেনি। এর আগে ১৯৬২ সালের কিউবায় মিসাইল–সংকটে কেনেডি সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে সমঝোতায় যান। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কট্টর কমিউনিস্টবিরোধীদের একাংশের ধারণা হয়, কেনেডি কমিউনিস্টদের প্রতি বেশি ‘সহানুভূতিশীল’।
Visit freshyourfeel.com for more information.
পরে এ রকম ‘কন্সপিরেসি থিওরি’ (ষড়যন্ত্রতত্ত্ব) ছড়িয়ে পড়ে—ওই কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি) তাঁকে সরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু মার্কিন ন্যাশনাল আর্কাইভসের অনুসন্ধান থেকে সিআইএ বা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোনো গোয়েন্দা সংস্থার জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি।
এমন সন্দেহ থেকে রেহাই পাননি বিখ্যাত কৌতুকাভিনেতা চার্লি চ্যাপলিনও। কমিউনিস্টদের সঙ্গে তাঁর যোগ আছে—এ সন্দেহে দীর্ঘদিন তাঁর ওপর নজর রাখা হয়। ১৯৫২ সালে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পর তাঁর ফেরার পথও বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ২০ বছর পর তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে ডেকে সম্মানসূচক অস্কার দেওয়া হয়।
সেই সময়ের গল্পই পরে উঠে আসে ১৯৭৬ সালের দ্য ফ্রন্ট সিনেমায়। কমিউনিস্টদের সঙ্গে সম্পর্ক আছে—এমন সন্দেহে হলিউডের লেখক-শিল্পীদের কীভাবে কাজ থেকে বাদ দেওয়া হতো, সেটাই এই সিনেমার গল্প। মজার বিষয়, ওই সিনেমার পরিচালক মার্টিন রিট ও লেখক ওয়াল্টার বার্নস্টেইন নিজেরাও সেই ব্ল্যাকলিস্টের (কালোতালিকা) শিকার ছিলেন। এই ব্ল্যাকলিস্ট সমর্থনযোগ্য নয়। তবে এই ইতিহাস একটা বড় প্রশ্ন সামনে আনে—রাষ্ট্রের স্বার্থ ও নিরাপত্তার প্রশ্নে একজন রাষ্ট্রনায়ক কত দূর যেতে পারেন, আর তাঁর সিদ্ধান্তের ভিত্তি কী হওয়া উচিত?
মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তাণ্ডব: দখলবাজি ও ক্ষমতা দেখানোর এ কেমন নমুনা!রাষ্ট্র কি ব্যক্তির আবেগে চলতে পারে
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গবেষক হিসেবে রিয়েলিজম বা বাস্তববাদ বরাবরই আমার আগ্রহের বিষয়। এ বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাবিদ মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হান্স জে মরগেনথাউ। তাঁর ব্যাখ্যায়, রাষ্ট্র চালাতে ব্যক্তিগত আবেগ নয়, দেশের স্বার্থ আগে বিবেচনা করতে হয়। এ রকম প্রেক্ষাপটে ২০১৮ সালের ৩০ মে প্রথম আলোর ইংরেজি সংস্করণে প্রকাশিত একটি খবরের কথা মনে পড়ে যায়। গণভবনের সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, বাংলাদেশ ভারতকে যা দিয়েছে, তা তারা আজীবন মনে রাখবে।
ভারতের প্রতি শেখ হাসিনার কৃতজ্ঞতার কারণ আছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডে পরিবারের বেশির ভাগ সদস্যকে হারানোর পর শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এরপর ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে পরপর তিনটি ভুয়া নির্বাচনে শেখ হাসিনা ভারতের সমর্থন পেয়েছিলেন। তাই ব্যক্তি শেখ হাসিনার ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকাটাই স্বাভাবিক।
কিন্তু ব্যক্তি শেখ হাসিনার সেই কৃতজ্ঞতা আর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর অবস্থান কি একই রকম হওয়া উচিত ছিল? একজন ব্যক্তি বলতে পারেন, ‘আপনার ঋণ আমি ভুলব না।’ কিন্তু রাষ্ট্র কি বলতে পারে, ‘বিনিময়ে আমার কিছু চাওয়ার নেই?’ ব্যক্তিগত ঋণ কোথায় শেষ হবে আর রাষ্ট্রের স্বার্থ কোথা থেকে শুরু হবে—রাষ্ট্রনায়কদের এই বিবেচনা বোধ থাকতে হবে।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সামনে কি এখন একই পরীক্ষা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার সাত মাসের কিছু বেশি সময় ধরে দেশ চালাচ্ছেন। এত তাড়াতাড়ি এই সরকারের চূড়ান্ত বিচার করা ঠিক হবে না। দীর্ঘ রাজনৈতিক মেরুকরণ, দুর্বল প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসন নিয়ে গণ-অভ্যুত্থান–পরবর্তী অস্থিরতার মধ্যেই তাঁকে দায়িত্ব নিতে হয়েছে। তারপরও কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।
২৭ জুলাই ২০২৬ প্রথম আলোয় একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয় নিয়োগ দিয়ে কী বার্তা দিচ্ছে সরকার’। সেখানে বলা হয়, ১১টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে এক বছরের জন্য বিএনপি নেতাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কারণ হিসেবে এসেছে আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা কিন্তু নির্বাচনে মনোনয়ন না পাওয়া নেতাদের ‘মূল্যায়ন’, প্রশাসনে বিশ্বস্ত লোকের অভাব, কাজে প্রত্যাশিত গতি না আসা এবং আমলাদের দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া।
মেয়াদোত্তীর্ণ রাজনীতির সংকটে পড়েছে বাংলাদেশবিএনপির লোক নিয়োগ পেয়েছেন, এটা কোনো আপত্তির কারণ নয়; যুক্তরাষ্ট্রেও নতুন প্রেসিডেন্ট এলে অনেক রাজনৈতিক নিয়োগ বদলায়। নতুন সরকার তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিজের আস্থার মানুষকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী পদে নিয়োগ দেয়।
তাই প্রশ্ন ‘নিজের লোক’ কেন, সেটা নয়; প্রশ্ন হলো কোন দায়িত্বে কাকে বসানো হচ্ছে আর কী দেখে বসানো হচ্ছে? দলের জন্য ত্যাগ করেছেন, ভালো কথা। কিন্তু যে কাজের দায়িত্ব পেলেন, সেই কাজটা তিনি কতটা বোঝেন, নাকি দলের জন্য ত্যাগ আর নেতার প্রতি আনুগত্যই যথেষ্ট?
একটা সহজ উদাহরণ দিই—কোনো একটি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পেলেন ক্ষমতাসীন দলের একজন ‘ত্যাগী’ নেতা। কিন্তু তিনি কাজটা ভালোমতো বোঝেন না। এর ফলে সেই প্রতিষ্ঠান ঠিকমতো কাজ করতে পারল না। এভাবে একজন নেতাকে পুরস্কৃত করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল বা অকেজো বানানোর ঝুঁকি তৈরি হয়।
এখানে একটি ভিন্নধর্মী উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। প্রখ্যাত সাংবাদিক এবিএম মূসা ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর সেই রাজনৈতিক পরিচয় বাধা হয়নি; ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলেই তিনি পিআইবির (প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ) মহাপরিচালকের দায়িত্ব পান। তখন তাঁর (এবিএম মূসা) দলীয় পরিচয়, নাকি কাজের যোগ্যতা—কোনটা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল?
ফেনীতে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বিকেলে ফুলগাজী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তোলাপ্রশ্নটা আজও একই। আওয়ামী লীগপন্থী কেউ যদি দেশের সেরা প্রকৌশলী হন, তাঁকে কাজে লাগানো হবে না কেন? জামায়াতপন্থী একজন চিকিৎসক যদি নিজের কাজে সেরা হন, রাষ্ট্র তাঁর সেবা নেবে না কেন? এনসিপিপন্থী একজন তরুণ যদি প্রযুক্তিতে অসাধারণ হন, শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের জন্য তাঁকে দূরে রাখা হবে কেন?
মানুষ কী ধারণা করছে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ
রাজনীতিতে শুধু সত্যটাই গুরুত্বপূর্ণ নয়, মানুষ কী ধারণা করছে, সেটাও বড় বিষয়। ইংরেজিতে একে বলে ‘পাবলিক পারসেপশন’। কোনো অভিযোগ ভুল প্রমাণিত হতে পারে, একজন মানুষ নির্দোষও হতে পারেন। কিন্তু তার আগেই মানুষের মনে একটা ধারণা তৈরি হলে তার রাজনৈতিক মূল্যও দিতে হয়।
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনাটিকে এই জায়গা থেকেই বিবেচনা করা যেতে পারে। প্রায় ৫০ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি মিরপুরের অসংখ্য মা ও শিশুর সেবা দিয়েছে। তাই তাঁদের অনেকের কাছে রাড্ডা শুধু একটা স্বাস্থ্যকেন্দ্র নয়, তার চেয়েও অনেক বেশি কিছু। সেটা গুঁড়িয়ে দিয়ে জায়গা দখল করার বিষয়টি তাই বহু মানুষকে ব্যাপক ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত করেছে।
এই ঘটনার সঙ্গে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। তিনি তা অস্বীকার করেছেন এবং তদন্তের কথা বলেছেন। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার সরকারের তরফ থেকে তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
ফেরদৌসী আহমেদ পরিবারিকভাবে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তিনি প্রয়াত বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর বোন। তাঁর স্বামী, সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার ছায়েদুর রহমান নিউটন রাজনৈতিক সহিংসতায় গুলিতে নিহত হন। এমন একটি পরিবারের প্রতি দলের সহানুভূতি থাকতেই পারে। কিন্তু তাঁকে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য করার মাপকাঠি কী ছিল? তাঁর নিজের রাজনৈতিক কাজ, অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা কতটা দেখা হয়েছিল? পারিবারিক পরিচয়ের কারণেই কি তাঁকে সংসদ সদস্য করা হয়েছিল?
কারণ যা–ই হোক, মানুষের মনে যদি একবার এমন ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়, সেটার দায় বিএনপি কি এড়াতে পারে? তারেক রহমান যে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথা বলছেন, সেই বার্তাও কি এতে দুর্বল হয় না?
স্থানীয় সরকারে প্রশাসক, শূন্যতা পূরণ নাকি দখলের নতুন রাজনীতিবিএনপির নিজের অতীতও মনে রাখা দরকার। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের শাসনামলে নানা ঘটনা ও অভিযোগ ঘিরে দলটির বিরুদ্ধে জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল। সেগুলো কতটা সত্য, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু ওয়ান-ইলেভেনের পর বিএনপিকে বড় রাজনৈতিক মূল্য দিতে হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসও বলেছেন, ওয়ান-ইলেভেনের পরিণতি বিএনপির চেয়ে বেশি আর কেউ ভোগ করেনি।
তাহলে এত বড় অভিজ্ঞতার পর বিএনপির আরও সতর্ক হওয়া উচিত। দলের কারও ত্যাগের মূল্য দিতে গিয়ে যদি আবার মানুষের মনে পুরোনো সেই সন্দেহ ফিরে আসে, তাহলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিটা কার?
‘ফ্রন্ট স্টেজ’–এর সঙ্গে ‘ব্যাক স্টেজ’ কি মিলছে
‘রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলাতে প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ কী’ শিরোনামে গত ৩১ জুলাই প্রথম আলোয় সমাজবিজ্ঞানী আরভিং গফম্যানের বরাতে ‘ফ্রন্ট স্টেজ’ আর ‘ব্যাক স্টেজ’-এর কথা লিখেছিলাম। তখন তারেক রহমানকে শিশুদের সঙ্গে হাত মেলাতে, কাছে টেনে নিতে, আদর করতে দেখে প্রশ্ন করেছিলাম, সামনে যে পরিবর্তনের ছবি দেখা যাচ্ছে, পর্দার পেছনেও কি সেই পরিবর্তন আসবে?
আজ সেই প্রশ্ন বিএনপির নেতা-কর্মীদেরও করতে চাই, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা কি তাঁরা সত্যিই মনেপ্রাণে ধারণ করছেন? আমরা কি ভুলে যাচ্ছি এ পরিবর্তনের জন্য কত বড় মূল্য দিতে হয়েছে? প্রথম আলোর অনুসন্ধানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অন্তত ১৩৩ শিশুর মৃত্যুর কথা এসেছে। তাদের ১১৭ জনই গুলিবিদ্ধ হয়েছিল।
এত রক্ত, এত শিশুর মৃত্যু, এত মানুষের ত্যাগের পরও রাজনীতি যদি আবার ‘আমার লোক’, ‘আমার দলের মানুষ’—এই পুরোনো হিসাবে ফিরে যায়, তাহলে জুলাই থেকে আমরা শিখলাম কী? জুলাই কি শুধু সরকার বদলানোর জন্য, নাকি রাজনীতিটাও বদলানোর জন্য ছিল?
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের একটি কথা দলটি বারবার বলে, ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়।’ বেগম খালেদা জিয়াও তাঁর জীবদ্দশায় বারবার নেতা-কর্মীদের এ কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। এখন প্রশ্ন হলো: কথাটা কি শুধু মুখে মুখেই থাকবে, নাকি বাস্তব কাজেও সেটার প্রতিফলন দেখা যাবে?
দলীয় নেতা–কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা থাকবে, ত্যাগের মূল্যও থাকবে। কিন্তু সেই দায় যখন দেশের স্বার্থের চেয়ে বড় হয়ে যায়, তখন কি আমরা আবার পুরোনো চক্রে ফিরে গিয়ে রাষ্ট্রকেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলি না?
মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার শিক্ষক ও গবেষক, রাষ্ট্র ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়
মতামত লেখকের নিজস্ব