মুন্সিগঞ্জে অগ্রণী ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় সাবেক দুই ব্যবস্থাপকসহ গ্রেপ্তার ৫

· Prothom Alo

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের গ্রাহকদের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ব্যাংকের সাবেক দুই ব্যবস্থাপকসহ আরও পাঁচ কর্মকর্তা–কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার বিকেলে অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জন গ্রেপ্তার হলেন।

গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন শ্রীনগর শাখার অফিসার (ক্যাশ) মো. জিন্নাহ হোসেন (সাময়িক বরখাস্ত), সাবেক ব্যবস্থাপক ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার রেজাউল হক, সদ্য সাবেক ব্যবস্থাপক ও প্রিন্সিপাল অফিসার মো. শরীফ উদ্দীন (সাময়িক বরখাস্ত) এবং দুই অস্থায়ী নিরাপত্তাকর্মী রঞ্জু আহম্মেদ ও আব্দুল হাই।

Visit freshyourfeel.com for more information.

রসিদ আছে কিন্তু গ্রাহকের হিসাবে টাকা নেই, অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তা উধাও

এর আগে একই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত অফিসার (ক্যাশ) শরীফুজ্জামান সোহাগকে (সাময়িক বরখাস্ত) গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রাহকদের টাকা ‘আত্মসাৎ করে’ ২২ সেপ্টেম্বর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। গ্রেপ্তারের পর তাঁর কাছ থেকে ১ লাখ ৪৫ হাজার ২০০ টাকা, তিনটি মুঠোফোন, একটি চেক বই, দুটি এটিএম কার্ড ও একটি লকারের চাবি জব্দ করা হয়েছিল।

শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল মিয়া আজ বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল শ্রীনগর শাখা থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানের স্বার্থে তাঁদের ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ দুপুরে তাঁদের আদালতে তোলা হবে।

মুন্সিগঞ্জে গ্রাহকের কয়েক কোটি টাকা নিয়ে পালানো অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা ঢাকায় আটক

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূল অভিযুক্ত শরীফুজ্জামান সোহাগ কয়েক বছর ধরে শ্রীনগর শাখায় চাকরি করেছেন। টাকা জমা ও প্রয়োজনের সময় উত্তোলনে তিনি গ্রাহকদের সহযোগিতা করতেন। এ কারণে গ্রাহকদের সঙ্গে তাঁর একটি সুসম্পর্ক তৈরি হয়। সম্প্রতি তিনি গ্রাহকদের জানান, তাঁর মাধ্যমে কেউ এফডিআর করলে ১১ থেকে ১২ শতাংশ লাভ পাওয়া যাবে। এতে গ্রাহকেরা তাঁর মাধ্যমে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়া শুরু করেন। টাকা জমার বিপরীতে শরীফুজ্জামান তাঁদের জমার রসিদও দিতেন।

২২ সেপ্টেম্বর ছুটি ছাড়াই ব্যাংকে অনুপস্থিত ছিলেন শরীফুজ্জামান। তাঁর কাছে টাকা জমা দেওয়া গ্রাহকেরা ব্যাংকে এসে জানতে পারেন, তিনি ব্যাংকে নেই। এরপর হিসাব যাচাই করে জানতে পারেন, তাঁদের জমা দেওয়া টাকা হিসাবে জমা হয়নি। ঘটনাটি জানাজানি হলে কয়েক শ গ্রাহক ব্যাংকে জড়ো হন। তাঁরা ব্যাংকে হট্টগোল ও মানববন্ধন করেন। পরে অভিযুক্ত শরীফুজ্জামানের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে তা অভিযোগ আকারে দুদকে জমা দেওয়া হয়।

গ্রাহকদের অভিযোগ, তাঁরা শরীফুজ্জামানের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে নয়; অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমেই লেনদেন করেছেন। ব্যাংকের জমা স্লিপ ব্যবহার করে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকের মধ্যে লেনদেন চললেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কেন জানতে পারেননি, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহাথীর মুহাম্মদ সামী প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা ভুক্তভোগী গ্রাহকদের বক্তব্য শুনেছেন। তাঁদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচজনকে গতকাল গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁরা জড়িত কি না, তা পরবর্তী সময়ে বলা যাবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি; অনুসন্ধান চলছে। তিনি বলেন, ‘আমরা যত দূর জেনেছি, ব্যাংকে প্রায় ৩০০ গ্রাহক অভিযোগ করেছেন। আমরা একে একে প্রত্যেক গ্রাহকের কথা শুনে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেব।’

Read full story at source