ম্যান সিটির জন্য আজ লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচটা হতে যাচ্ছে ‘ভয়ংকর নির্মম’
· Prothom Alo

অ্যানফিল্ডে ঢোকার পথটা ম্যানচেস্টার সিটির কাছে কখনোই খুব একটা সুখকর ছিল না। লিভারপুলের সমর্থকদের গর্জন, গ্যালারির উত্তাপ আর মাঠের বাইরের বৈরিতা, সব মিলিয়ে ইংলিশ ফুটবলের এই ঐতিহাসিক মাঠে খেলতে নামা বরাবরই কঠিন এক পরীক্ষা। তবে এবার পরিস্থিতি অন্য রকম। এবার শুধু লিভারপুলের বিপক্ষে তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, ম্যানচেস্টার সিটিকে লড়তে হবে হাজারো সমর্থকের ক্ষোভের বিরুদ্ধেও।
Visit tr-sport.bond for more information.
আজ অ্যানফিল্ডে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বী লিভারপুল ও ম্যানচেস্টার সিটি। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর এই প্রথম মাঠে নামছে সিটি। ফলে অ্যানফিল্ডে সিটির খেলোয়াড়দের জন্য কী অপেক্ষা করছে, তা অনুমান করতে খুব বেশি কষ্ট হওয়ার কথা নয়।
২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ভুয়া চুক্তির মাধ্যমে আয় বানিয়ে দেখানো এবং খরচ লুকানোর গুরুতর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে সিটি। সেই ৯ বছরে তারা জিতেছে একের পর এক ট্রফি, আর অন্য ক্লাবগুলো বেশির ভাগ সময় ফিরেছে শূন্য হাতে। সেই ক্ষোভের বারুদ এত বছর ধরে জমে ছিল, এখন তাতে আগুন ধরে গেছে। সিটি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে, নতুন কোচ এনজো মারেসকা বরাবরের মতো গলায় জোর দিয়ে বলছেন, আপিলে তাঁদের জয় হবে। তবে লিভারপুল কোচ আন্দোনি ইরাওলা যেন পুরো প্রিমিয়ার লিগের মনের কথাটিই বলে দিয়েছেন, ‘সবচেয়ে বাজে বিষয় হলো অনিশ্চয়তা, কেউ জানে না সামনে কী হতে যাচ্ছে।’
লিভারপুল–ম্যানচেস্টার সিটি ম্যাচের একটি মুুহূর্তলিগে টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে শীর্ষে থাকা সিটির চেয়ে ৬ পয়েন্টে পিছিয়ে লিভারপুল। কিন্তু আজকের ম্যাচটা স্রেফ ২২ জন খেলোয়াড়ের মাঠের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকছে না। আইনি লড়াইয়ের রায় না আসা পর্যন্ত প্রতিটি অ্যাওয়ে গ্রাউন্ডই সিটির জন্য নরক হয়ে উঠবে, আর তার বিষাক্ত সূচনাটা হতে যাচ্ছে লিভারপুলের লাল দুর্গে। গ্যালারি থেকে ধেয়ে আসবে দুয়ো, গর্জে উঠবেন প্রতিপক্ষের সমর্থকেরা।
গ্যালারিতে দেখা যেতে পারে ব্যানার, শোনা যেতে পারে বিদ্রূপাত্মক স্লোগান। মাঠে নামার আগেই সিটির খেলোয়াড়দের বুঝিয়ে দেওয়া হতে পারে, ইংলিশ ফুটবলের একটা বড় অংশ তাদের বিরুদ্ধে কতটা ক্ষুব্ধ।
সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিলের আশঙ্কাও তেমন। ‘দ্য ওভারল্যাপ’ পডকাস্টে তিনি বলেছেন, ‘খেলাটা কত বিষাক্ত হতে পারে, তা বোঝাতে অ্যানফিল্ডের চেয়ে নির্দয় মঞ্চ আর কিছু হতে পারে না। অ্যানফিল্ড (সিটির জন্য) এমন এক অভ্যর্থনা তৈরি করে রেখেছে, যা তারা জীবনে দেখেনি। দিনটা হতে যাচ্ছে ভয়ংকর নির্মম।’
লিভারপুলের সমর্থকদের পডকাস্ট ‘দ্য অ্যানফিল্ড র্যাপ’-এর জন গিবনস মনে করেন, সিটির শিরোপা কেড়ে নেওয়া উচিত। এএফপিকে তিনি বলেছেন, ‘না হলে ভবিষ্যতের জন্য ভুল বার্তা যাবে। সিটির মতো দল কীভাবে এখনো লিগে খেলে, তা আমার মাথায় ধরে না।’
এদিকে অ্যানফিল্ডে সিটির খেলোয়াড়দের জন্য বৈরী পরিবেশ তৈরির প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। লিভারপুলের সমর্থকদের বিভিন্ন পোস্টে ম্যাচের আগে অ্যানফিল্ড রোডে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। উদ্দেশ্য, সিটির খেলোয়াড়দের বহনকারী বাসকে ঘিরে ধরে দলটিকে ‘স্বাগত’ জানানো।
একটি পোস্টে সমর্থকদের পতাকা, ব্যানার, ধোঁয়া তৈরির সরঞ্জাম, ফ্লেয়ার এবং ভারী কাচের বোতল নিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিষয়টি নজরে এসেছে মার্সিসাইড পুলিশেরও। তারা জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলো সম্পর্কে তারা অবগত। ম্যাচকে কেন্দ্র করে যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাইরে যতই উত্তাপ থাকুক, দলের ভেতরে ঐক্য ধরে রাখার ওপর জোর দিয়েছেন আর্লিং হলান্ড। ক্লাবের মিডিয়া চ্যানেলে মৃদু হেসে সিটির গোলমেশিন বলেছেন, ‘আমাদের একসঙ্গে থাকতে হবে। যা–ই ঘটুক না কেন, আমাদের মুখে হাসি রাখতে হবে। জীবনকে উপভোগ করতে হবে আর ম্যাচ জিততে হবে।’
ম্যান সিটিকে কাঁপিয়ে দেওয়া সেই হ্যাকার চান জীবনের নিরাপত্তা