ইউটিউব দেখে ছাদে ড্রাগন চাষ, বছরে আয় লাখ টাকা
· Prothom Alo
ইউটিউব থেকে শিখে ২০২৪ সালে বাড়ির ছাদবাগান, বাড়ির আঙিনা ও জমি ইজারা নিয়ে ড্রাগন ফলের আবাদ করেন বিদেশফেরত মো. আবু হানিফ (৬২)। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে ড্রাগন বিক্রি করে বছরে তিনি এখন লক্ষাধিক টাকা আয় করছেন। এতে তাঁর সংসারে এসেছে সচ্ছলতা।
Visit syntagm.co.za for more information.
স্থানীয় বাজারে হানিফের ড্রাগনের চাহিদাও বেশ। আশপাশের উপজেলায়ও যাচ্ছে তাঁর ড্রাগন। বাড়ির ছাদ ও বাড়ির আঙিনায় করা তাঁর ড্রাগনের বাগান আকর্ষণ করছে স্থানীয়দের। এ যেন এক টুকরো ‘ড্রাগনের রাজ্য’। আশপাশের অনেকের কাছেই তিনি ‘ড্রাগন হানিফ’ নামেও পরিচিত।
আবু হানিফের ড্রাগনের বাগান। ৪ অক্টোবর মতলব দক্ষিণের মধ্য কলাদী এলাকায়হানিফের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার লুধুয়া গ্রামে। ওই গ্রামের হাজি মো. সুলতান আহম্মেদ প্রধানের ছেলে তিনি। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। তিনি দুই ছেলের বাবা। মতলব দক্ষিণ উপজেলার মধ্য কলাদী এলাকায় তাঁর একতলা বাড়ি। ওই বাড়ির ছাদে ও বাড়ির আঙিনায় ড্রাগন ফলের বাগান রয়েছে তাঁর। উপজেলার পৈলপাড়া এলাকায়ও জমি ইজারা নিয়ে ড্রাগন ফলের আবাদ করেছেন এ মৌসুমে।
হানিফের ড্রাগনের বাগান নিয়ে কথা হয় মতলব দক্ষিণ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ চৈতন্য পালের সঙ্গে। তিনি বলেন, বয়সকে হার মানিয়ে ওই ব্যক্তি যেভাবে একক প্রচেষ্টায় তাঁর ছাদবাগান ও আঙিনায় ড্রাগনের ‘মিনি রাজ্য’ গড়ে তুলেছেন, তা তাঁর অদম্য মনের পরিচায়ক। তিনি দৃষ্টান্ত। কৃষি কার্যালয় থেকে তাঁকে সার্বিকভাবে পরামর্শ দেওয়া হবে।
৪ অক্টোবর মধ্য কলাদী এলাকায় হানিফের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির ছাদবাগান ও আঙিনায় ড্রাগনের বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত হানিফ। সেখানে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। শোনালেন জীবনের নানা কথা। এ সময় তিনি বলেন, সংসারের হাল ধরতে ১৯৮২ সালে এইচসসি পাসের পর দরজির দোকান দেন। এ কাজে তেমন আয় না হওয়ায় সংসারের সচ্ছলতা আনতে ১৯৮৭ সালে পাড়ি জমান বাহরাইনে। সেখানে যা আয় করতেন তা দিয়ে সংসার চলত। ২০১২ সালে দেশে ফেরেন। শুরু করেন বিভিন্ন কোম্পানির মালামাল বিতরণের (ডিস্ট্রিবিউশন) ব্যবসা। এতেও আর্থিকভাবে সুবিধা হয়নি।
তবে বিদেশ থেকে এসে উপজেলার মধ্য কলাদী এলাকায় সড়কের পাশে কিছু জায়গা কিনে সেখানে একতলা পাকা বাড়ি করেন। ইউটিউব থেকে শিখে ২০২৪ সালে ওই বাড়ির ১ হাজার ৪০০ বর্গফুট ছাদে ও বাড়ির আঙিনার সাড়ে ৬ শতক জমিতে উন্নত জাতের ড্রাগনের আবাদ করেন। প্রথম এক বছরে উৎপাদন খরচ মিটিয়ে ড্রাগন বিক্রি করে লাভ করেন অর্ধলক্ষাধিক টাকা। ২০২৫ সালে ড্রাগন বিক্রি করে এক লাখের বেশি টাকা লাভ করেন এবং ২০২৬ সালেও তিনি ড্রাগন বিক্রি করে এক লাখের বেশি টাকা লাভ করেন। বছরে তিনবার গাছে ফলন হয়।
হানিফ আরও বলেন, বাগানে জৈব সার ও কিছু রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন। কীটনাশক ওষুধ ছিটান না। পরিবারে ফলের চাহিদা মিটিয়ে আত্মীয়দেরও ড্রাগন খেতে দেন। কম খরচে লাভ ভালো হওয়ায় উপজেলার পৈলপাড়া এলাকায় আরও ৬০ শতক জমি ইজারা নিয়ে ৪০ শতক জমিতে এ বছর ড্রাগনের আবাদ করেছেন। বাকি ২০ শতকে আঙুর, পেঁপে ও কলার আবাদ করেন। বাগানে আমার বড় ছেলেও সময় দেয়। সহযোগিতা করে। শখে ড্রাগনের বাগান করেছিলাম। এখন ড্রাগন বিক্রি করে আয় হচ্ছে। সংসারের সচ্ছলতা বাড়ছে। আরও বড় আকারে এর চাষ করব। বাকি উপরওয়ালার ইচ্ছা।