চ্যালেঞ্জিং হলেও পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণ সম্ভব

· Prothom Alo

প্রথম আলো: আপনারা তো বেশ কয়েকটি পরিবেশবান্ধব আবাসন প্রকল্প নির্মাণ করেছেন? সাধারণ প্রকল্পের চেয়ে এসব প্রকল্পের তফাত কী?

গাজী জাহিদুল ইসলাম: সিম্পলট্রির কাছে পরিবেশবান্ধব ভবন মানে শুধু গাছ লাগানো বা একটি সনদ অর্জন করা নয়। আমরা প্রকল্পের শুরু থেকেই নকশা, নির্মাণসামগ্রী, জ্বালানি ও পানি ব্যবস্থাপনা, প্রাকৃতিক আলো-বাতাস—সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করি। পাশাপাশি কার্যকর নকশার ওপরও গুরুত্ব দিই, যাতে ভবনটি সুন্দর হওয়ার পাশাপাশি ব্যবহারিক ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়।

Visit mchezo.life for more information.

আমাদের আরেকটি বড় বিশেষত্ব হলো, আমরা একটি ৩৬০ ডিগ্রি বেজ ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি। অর্থাৎ, আমরা নকশা, নির্মাণ ও বাস্তবায়ন করি। নকশা থেকে নির্মাণ এবং হস্তান্তরের পর ভবন ব্যবস্থাপনার পুরো প্রক্রিয়াই আমাদের নিজস্ব দক্ষ টিম ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। 

প্রথম আলো: পরিবেশবান্ধব প্রকল্প নির্মাণ কি অনেক ব্যয়বহুল? বিস্তারিত বলুন।

গাজী জাহিদুল ইসলাম: পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণে কিছু ক্ষেত্রে প্রাথমিক বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। উন্নত মানের কাচ, জ্বালানিসাশ্রয়ী ব্যবস্থা, পানি ব্যবস্থাপনা, সবুজায়ন কিংবা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহারে অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে। তবে খরচ কিছুটা বেশি হলেও পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে আমরা আমাদের অঙ্গীকার থেকে সরে আসতে চাই না। কারণ, এটি শুধু বর্তমানের জন্য নয়, ভবিষ্যতের জন্যও একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ।

প্রথম আলো: ঢাকায় পরিবেশবান্ধব ও টেকসই আবাসন প্রকল্প করা কতটা কঠিন বলে মনে হয়? পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণ বাড়াতে সরকার কি কোনো নীতিসহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসতে পারে?

গাজী জাহিদুল ইসলাম: ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণ অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং। জমির মূল্য, নির্মাণ ব্যয়, বিদ্যমান অবকাঠামো এবং ক্রেতাদের মূল্যসংবেদনশীলতা—সবকিছু বিবেচনা করতে হয়। তবে চ্যালেঞ্জিং হলেও এটি সম্ভব। আমাদের অভিজ্ঞতা হলো, প্রকল্পের শুরু থেকেই পরিবেশবান্ধব নকশা ও প্রযুক্তিকে পরিকল্পনার অংশ করা গেলে অনেক কিছুই বাস্তবায়ন করা যায়।

সরকার চাইলে পরিবেশবান্ধব ভবনের জন্য করসুবিধা, কম সুদের অর্থায়ন, দ্রুত অনুমোদন, নির্দিষ্ট ফি-তে ছাড় বা অন্যান্য প্রণোদনা দিতে পারে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব ভবনের মানদণ্ড ও সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়াকে সহজ ও কার্যকর করা যেতে পারে। 

প্রথম আলো: আপনাদের প্রকল্পগুলো বেশ দৃষ্টিনন্দন, সুযোগ-সুবিধাও আধুনিক। শুরু থেকেই কি আপনারা এমন ধরনের প্রকল্প করছেন?

গাজী জাহিদুল ইসলাম: শুরু থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল এমন ভবন তৈরি করা, যেখানে নান্দনিকতা ও ব্যবহারিকতার মধ্যে একটি ভারসাম্য থাকবে। আমরা মনে করি, একটি ভবন শুধু বাইরে থেকে সুন্দর হলেই যথেষ্ট নয়; এর প্রতিটি স্থান কীভাবে ব্যবহৃত হবে, সেখানে আলো-বাতাস কেমন থাকবে, মানুষের চলাচল কতটা স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে—এসবও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই আমাদের নকশায় ফাংশনালিটি, প্রাকৃতিক আলো-বাতাস, খোলা জায়গা এবং উপকরণের নিজস্ব সৌন্দর্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তি ও মানুষের চাহিদা পরিবর্তিত হয়েছে, আমরাও আমাদের নকশা ও সুযোগ-সুবিধায় সেই পরিবর্তনগুলো গ্রহণ করেছি। আমাদের কাছে বিলাসিতা মানে শুধু বেশি সুযোগ-সুবিধা নয়; বরং ভালো পরিকল্পনা, স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপন, গুণগত মান এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারিক সুবিধার সমন্বয়।

প্রথম আলো: আগামী বছরগুলোতে আপনারা কী ধরনের প্রকল্প করার পরিকল্পনা করছেন? সেগুলো কাদের জন্য অর্থাৎ, কোন শ্রেণির মানুষের জন্য নির্মাণ করবেন?

গাজী জাহিদুল ইসলাম: বর্তমানে আমরা মূলত নির্দিষ্ট বাজারে একটি নির্দিষ্ট ক্রেতাশ্রেণিকে কেন্দ্র করে মানসম্মত আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রকল্প নিয়ে কাজ করছি। তবে ভবিষ্যতে আমাদের কার্যক্রম ও প্রকল্পের পরিধি আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য রয়েছে, যাতে আরও বৃহত্তর পরিসরে গ্রাহকের চাহিদা ও জীবনযাপনের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্প তৈরি করা যায়।

Read full story at source