একই বাইক চলবে শহর বা পাহাড়ে
· Prothom Alo

যানজটে শহরের রাস্তা অথবা আঁকাবাঁকা বন্ধুর পথে পাহাড়ের রাস্তা ধরে মহাসড়ক ঘুরে আসার জন্য অ্যাডভেঞ্চার বাইকের আলাদা কদর রয়েছে। এসব বাইকে সাধারণত বড় আকারের অফরোড টায়ার থাকে। তবে অফরোড টায়ারের জায়গায় দ্বৈত সুবিধাসম্পন্ন টায়ার হলে যেকোনো রাস্তা মোটর সাইকেলে পাড়ি দিতে মেলে বাড়তি স্বাচ্ছন্দ্য। ১৯ ইঞ্চি সাইজের টায়ারসমৃদ্ধ নতুন একটি রাগেড অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরার বা এডিভি বাইক নিয়ে এসেছে সুজুকি বাংলাদেশ। বাইকটির মডেল সুজুকি ভিস্ট্রম এসএক্স ২৫০।
Visit saltysenoritaaz.com for more information.
সম্প্রতি সুজুকি ডে ২০২৬–এ ঢাকার পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে (বিসিএফইসি) জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন এই মোটর বাইকটিকে বিক্রির জন্য ছাড়া হয়।
দেখতে বেশ বড়সড় এই মোটরবাইকে রয়েছে প্রশস্ত আসন, সুনিয়ন্ত্রিত হ্যান্ডেল বার এবং ডিজিটাল স্পিডমিটার, যা ব্লুটুথ সংযোগের মাধ্যমে নেভিগেশন দেখাতে পারে। চালকের হাত নিরাপদে রাখতে হ্যান্ডেল বারে রয়েছে বিশেষ হাতমোজা (নাকল কভারস)। কিংবদন্তি ডিআর-জেড রেসার এবং ডিআর-বিগ অফ রোড মডেলের আদলে ভিস্ট্রম বাইকটিকে নতুন করে নকশা করা হয়েছে। এলইডি হেডলাইট এবং টেইল লাইটের কারণে গভীর অন্ধকারেও নির্বিঘ্নে পথ চলা যাবে।
মহাসড়কে বাইক চালাতে চালককে বাতাসের বিরুদ্ধে বেশ বেগ পেতে হয়। সুজুকি ভিস্ট্রম এসএক্সে রয়েছে উইন্ডস্ক্রিন, যা বিপরীত দিকের তীব্র গতির বাতাস থেকে চালককে স্বস্তি দেবে। ডুয়েল এক্সিট মাফলার, ইঞ্জিন আন্ডার কাওলিং এবং মনকাড়া গ্রাফিকসে মোটরবাইকটির চেহারা হয়েছে অনন্য। সুজুকি ইকো পারফরম্যান্স (এসইপি), অয়েল কুলিং সিস্টেম (এসওসিএস) প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মটোজিপি প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তিগুলোর কারণে ইঞ্জিন হালকা হওয়ার পাশাপাশি ফ্রিকশন লস কমাবে। এতে বাইকটি জ্বালানিসাশ্রয়ী হয়েও সর্বোচ্চ গতি দেবে। ১২ লিটার ধারণক্ষমতার ফুয়েল ট্যাংকের সঙ্গে ১৬৭ কেজি ওজনের এই বাইক দূরের যাত্রার জন্য নির্ভরযোগ্য নৈপুণ্য নিশ্চিত করে। নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এতে রাখা হয়েছে ডুয়াল-চ্যানেল এবিএসসহ সামনে ও পেছনে ডিস্ক ব্রেক। বাইকটির সামনে ১২০ মিলিমিটারের টেলিস্কোপিক এবং পেছনে সুইংআর্ম টাইপ অয়েল ড্যাম্পড সাসপেনশনের পাশাপাশি সামনে ১০০/৯০-১৯এম/সি এবং পেছনে ১৪০/৭০-১৭এম/সি সাইজের টিউবলেস টায়ার ব্যবহার করা হয়েছে।
সুজুকির নতুন বাইক ভিস্ট্রম এসএক্স ২৫০ভি-স্ট্রম এসএক্স ২৫০ মডেলটিতে ২৪৯ সিসির শক্তিশালী ৪-স্ট্রোক, ১-সিলিন্ডার, এসওএইচসি, ৪-ভালভ ইঞ্জিন দেওয়া হয়েছে। ৯ হাজার ৩০০ আরপিএমে বাইকটির সর্বোচ্চ শক্তি পাওয়া যায় ২৬.১ থেকে ২৬.৫ পিএস এবং ৭ হাজার ৩০০ আরপিএমে পাওয়া যায় ২২.২ এনএম টর্ক। মসৃণ শক্তি সরবরাহের জন্য এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে ৬ গতির কনস্ট্যান্ট মেস গিয়ারবক্স এবং আধুনিক ফুয়েল ইনজেকশন সিস্টেম, যা বাইকটিকে ঘণ্টায় প্রায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত সর্বোচ্চ গতি তুলতে সক্ষম করে।
রোমাঞ্চকর যাত্রার উপযোগী কাঠামোর এই বাইকটির দৈর্ঘ্য , প্রস্থ ও উচ্চতা যথাক্রমে ২১৮০, ৮৮০ ও ১৩৫৫ মিলিমিটার। কঠিন বা অসমতল রাস্তায় অনায়াসে যাতায়াতের জন্য ভিস্ট্রমের রয়েছে ২০৫ মিলিমিটার গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স, যা অনায়াসে যেকোনো খানাখন্দ পার করে যাবে। বাইকটির হুইলবেজ ১ হাজার ৪৪৫ মিমি এবং ভূমি থেকে আসনের উচ্চতা ৮৩৫ মিমি।
মোটরসাইকেল উন্মোচনের পাশাপাশি দিনব্যাপী আয়োজনে উপস্থিত রাইডার ও দর্শকদের উন্মাদনায় ভাসাতে ছিল উত্তেজনাপূর্ণ লাইভ স্টান্ট শো, ডার্ট রেস, ডিজে পারফরম্যান্স এবং মোটরসাইকেল যন্ত্রাংশের বিশেষ প্রদর্শনী। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জেমস, ওয়ারফেজ এবং কার্নিভালের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় রকব্যান্ডগুলোর চোখধাঁধানো কনসার্ট পুরো ‘সুজুকি নাইট’কে উদ্যাপনের এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। সুজুকি বাংলাদেশের পরিবেশক র্যাংকন মোটরবাইকস লিমিটেড। বাইকটির মূল্য নির্ধারণ করেছে ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫০ টাকা। তবে অগ্রিম ফরমাশ দেওয়া গ্রাহকদের জন্য মূল্য রাখা হয় ৪ লাখ ২৯ হাজার ৯৫০ টাকা।