বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে খরচের যেসব হিসাব করা জরুরি

· Prothom Alo

শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি নয়, আবাসন, খাবার, যাতায়াত, স্বাস্থ্যবিমা, ভিসা ও বিমান টিকিট—সব মিলিয়ে বিদেশে পড়াশোনার ব্যয় অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে। দেশ ও শহরভেদে এসব খরচের পার্থক্যও রয়েছে। তাই বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করার আগে সম্ভাব্য ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব তৈরি করা জরুরি। সঠিক আর্থিক পরিকল্পনা থাকলে অপ্রত্যাশিত খরচের চাপ কমানো এবং নিজের সামর্থ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উচ্চশিক্ষার গন্তব্য বেছে নেওয়া সহজ হয়।

টিউশন ফির বাইরেও যেসব খরচ রয়েছে—

বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ব্যয়গুলোর একটি হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি। তবে শুধু এই খরচ হিসাব করলেই হবে না। আবাসন, খাবার, স্থানীয় যাতায়াত, বইপত্র, ইন্টারনেট, স্বাস্থ্যবিমা এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনের জন্যও অর্থ রাখতে হবে। বড় শহর ও বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় বাসাভাড়া তুলনামূলক বেশি হতে পারে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের সময় শহরটির জীবনযাত্রার ব্যয় এবং শিক্ষার্থীদের আবাসনের সুবিধাও বিবেচনায় রাখা উচিত।

Visit afrikasportnews.co.za for more information.

বিদেশে যাওয়ার আগেই প্রাথমিক খরচের প্রস্তুতি—

বিদেশে পৌঁছানোর আগেই বেশ কিছু খরচ বহন করতে হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের ফি, প্রয়োজনীয় ভাষা পরীক্ষার ফি, ভিসা-সংক্রান্ত ব্যয়, স্বাস্থ্যপরীক্ষা এবং বিমান টিকিট। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আবাসনের অগ্রিম ভাড়া, জামানত বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত অর্থ জমা দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তাই শুধু প্রথম সেমিস্টারের টিউশন ফি নয়, যাত্রার আগে সব সম্ভাব্য ব্যয় হিসাব করে অর্থের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

দেশভেদে ব্যয়ের পার্থক্য বুঝে সিদ্ধান্ত—

একেক দেশে শিক্ষার খরচ ও জীবনযাত্রার ব্যয় একেক রকম। একই দেশের মধ্যেও শহরভেদে ব্যয়ের উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকতে পারে। তাই কয়েকটি সম্ভাব্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও শহরের টিউশন ফি, আবাসন এবং দৈনন্দিন খরচ তুলনা করে দেখা উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি তথ্য এবং শিক্ষার্থীদের জন্য প্রকাশিত জীবনযাত্রার ব্যয়ের নির্দেশিকা থেকে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়।

বিদেশে উচ্চশিক্ষার ব্যয় পরিকল্পনা, দেশভেদে জীবনযাত্রার খরচ এবং শিক্ষার্থীদের আর্থিক প্রস্তুতির বিষয়ে সিএইচএস এডুকেশন লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান রাজু প্রথম আলোকে বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষার বাজেটে টিউশন ফির পাশাপাশি ভিসা, পরীক্ষা, বিমা, বিমানভাড়া, বাসাভাড়া ও দৈনন্দিন খরচ হিসাব করে ১০–১৫ শতাংশ জরুরি তহবিল রাখা উচিত। দেশ ও শহরভেদে জীবনযাত্রার ব্যয়, প্রতিষ্ঠানের মান, কোর্স এবং কর্মজীবনের সুযোগ বিবেচনা করে গন্তব্য নির্বাচন করতে হবে।

নাজমুল হাসান আরও বলেন, বৃত্তির শর্ত ও নবায়ননীতি যাচাই করা জরুরি। খণ্ডকালীন কাজের আয়কে মূল অর্থায়ন না ধরে অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। বাস্তবসম্মত বাজেট ও হালনাগাদ ভিসা তথ্য যাচাই আর্থিক ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

বাজেট তৈরি ও অর্থের বিকল্প ব্যবস্থা—

বিদেশে পড়াশোনার জন্য মাসিক ও বার্ষিক বাজেট তৈরি করা কার্যকর পদক্ষেপ। সম্ভাব্য ব্যয়ের পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতির জন্য অতিরিক্ত অর্থও রাখতে হবে। সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক বৃত্তি, টিউশন ফি ছাড় এবং অন্যান্য আর্থিক সহায়তার সুযোগ খুঁজে দেখা যেতে পারে। শিক্ষার্থীদের খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ থাকলেও সেই আয় দিয়ে সব খরচ মেটানো যাবে—এমন ধারণার ওপর নির্ভর করে পরিকল্পনা করা ঠিক নয়। সংশ্লিষ্ট দেশের কাজের নিয়ম ও ভিসার শর্তও যাচাই করতে হবে।

বিদেশে উচ্চশিক্ষার আর্থিক প্রস্তুতি শুধু অর্থের পরিমাণ নির্ধারণে সীমাবদ্ধ নয়; কোথায় কত খরচ হবে, কোন ব্যয় আগে বহন করতে হবে এবং অর্থের বিকল্প উৎস কী—এসব বিষয়ও বুঝতে হবে। আগেভাগে পরিকল্পনা করলে অপ্রত্যাশিত আর্থিক চাপ কমিয়ে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়।

Read full story at source