কোয়ান্টাম কম্পিউটার কী, কী কাজে লাগবে 

· Prothom Alo

সাধারণ কম্পিউটারের সীমা যেখানে শেষ, ঠিক সেখান থেকেই শুরু হয় কোয়ান্টাম কম্পিউটারের পথচলা। কোয়ান্টাম কম্পিউটার হলো কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের নীতি মেনে চলা এক বিশেষ ধরনের শক্তিশালী যন্ত্র। আমাদের ব্যবহার করা সাধারণ কম্পিউটার, স্মার্টফোন বা বিশাল সুপারকম্পিউটার তথ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য ‘বিট’ ব্যবহার করে। অন্যদিকে কোয়ান্টাম কম্পিউটারে সাধারণ বিটের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয় ‘কোয়ান্টাম বিট’ বা ‘কিউবিট’। এই কিউবিটের বিশেষ আচরণই প্রচলিত কম্পিউটারের সঙ্গে কোয়ান্টাম কম্পিউটারের পার্থক্য গড়ে দেয়।

কোয়ান্টাম কম্পিউটারের কাজের পদ্ধতি প্রচলিত যন্ত্রের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। সাধারণ কম্পিউটারে প্রতিটি বিট একই সময়ে হয় ০ অথবা ১ অবস্থায় থাকে। কিন্তু কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের ‘সুপারপজিশন’ বৈশিষ্ট্যের কারণে একটি কিউবিট একই সঙ্গে ০ ও ১ উভয় অবস্থাতেই অবস্থান করতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় এনট্যাঙ্গলমেন্ট। এটি একাধিক কিউবিটের মধ্যে কোয়ান্টাম সম্পর্ক তৈরি করে।

Visit h-doctor.club for more information.

সাধারণ কম্পিউটারে দুটি বিট একসঙ্গে থাকলে তা ০০, ০১, ১০ বা ১১ এই চারটির যেকোনো একটি সমন্বয় নির্দেশ করে। তবে দুটি কিউবিট সুপারপজিশন ও এনট্যাঙ্গলমেন্টের মাধ্যমে এই চারটি অবস্থাকে একই সঙ্গে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। কিউবিটের সংখ্যা যত বাড়ে, কোয়ান্টাম কম্পিউটারের সম্ভাব্য সমন্বয়ের সংখ্যা ও হিসাব করার ক্ষমতা সূচকীয় হারে তত বৃদ্ধি পায়।

ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ ও শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটার বাস্তবায়িত হলে তা বৈজ্ঞানিক গবেষণা থেকে শুরু করে আধুনিক প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। এটি অণু ও পরমাণুর জটিল আচরণ নিখুঁতভাবে অনুকরণ বা সিমুলেট করতে সক্ষম।

যা নতুন ওষুধ উদ্ভাবন, উন্নত উপাদান তৈরি এবং পরিবেশবান্ধব রাসায়নিক প্রক্রিয়ার পথ উন্মোচন করবে। এ ছাড়া জটিল তথ্য বিশ্লেষণ ও সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এটি বড় পরিবর্তন আনবে। বর্তমানের এনক্রিপশন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা দূর করে কোয়ান্টাম-সুরক্ষিত নতুন তথ্যপ্রযুক্তি গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি মহাকাশ গবেষণা, শিল্পকারখানার জটিল অপটিমাইজেশন এবং পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক রহস্য উন্মোচনে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং আগামী দিনের প্রযুক্তিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

সূত্র: নিস্ট ডটওআরজি 

Read full story at source