বাধার মুখে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত, মালামাল সরাতে প্রশাসনের সময়সীমা

· Prothom Alo

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদের তৃতীয় দিনে বাধার মুখে পড়েছে জেলা প্রশাসন। দখলদার ও ব্যবসায়ীদের বাধার মুখে আজ শনিবার তৃতীয় দিনের উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করেছে প্রশাসন। তবে দোকানের মালামাল ও স্থাপনা নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নিতে ব্যবসায়ীদের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

Visit cat-cross.com for more information.

আজ দুপুরে পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একাধিক খননযন্ত্র (এক্সক্যাভেটর) ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানে যান। এ সময় কয়েক শ নারী–পুরুষ ব্যবসায়ী অভিযানের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন এবং দোকানের সামনে অবস্থান নেন। শুরুতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে বালিয়াড়ি থেকে অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হলেও ব্যবসায়ীরা তা মানেননি।

ব্যবসায়ীদের দাবি, তাঁরা বৈধভাবে বালিয়াড়িতে ব্যবসা করছেন। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে তাঁদের দোকান উচ্ছেদ করা যাবে না।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশনার পর গত বৃহস্পতিবার থেকে সৈকতে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। প্রথম দিন সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকা থেকে ৩৩টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়। দ্বিতীয় দিন শুক্রবার একই এলাকা থেকে আরও ৮০টির বেশি অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হয়।

প্রশাসনের নির্দেশনা ছিল বালিয়াড়িতে স্থাপিত দোকানপাট সরিয়ে নেওয়ার। তা না করে দোকানিরা নিজ দোকানের সামনে অবস্থান নেন। আজ দুপুরে

আজ বেলা একটার দিকে তৃতীয় দিনের অভিযানে নামলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রশাসনের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়। এ সময় দোকানগুলোর বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে বিকেল চারটার দিকে অভিযান স্থগিত করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনজু বিন আফনান, আজিম খান, মো. নাজমুল হাসান নাঈম, মো. তরিকুল ইসলাম ও দীপ্ত সাহা। তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে সুগন্ধা পয়েন্টের তথ্য ও অভিযোগ কেন্দ্রে অবস্থান নেন।

পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামীকাল রোববার সকাল ১০টার মধ্যে বালিয়াড়ির সব দোকানপাট ও স্থাপনা নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নিতে ব্যবসায়ীদের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।

সুগন্ধা পয়েন্টের আচার বিক্রেতা রশিদ আহমদ বলেন, প্রতিবছর টাকার বিনিময়ে কার্ড সংগ্রহ করে তাঁরা কয়েকজন ব্যবসা করে আসছেন। আসন্ন ঈদ সামনে রেখে দাদন ও ঋণ নিয়ে কয়েক লাখ টাকার মালামাল দোকানে তুলেছেন। এখন দোকান উচ্ছেদ করা হলে তাঁরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পর্যটন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজু বিন আফনান বলেন, ব্যবসায়ীদের অনুরোধে দোকানের মালামাল ও স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য আগামীকাল সকাল ১০টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে না সরালে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। গত দুই দিনে সৈকতের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ১৩০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

Read full story at source