বৃষ্টি হলেই আমাদের ঘুম আসে কেন? দেখুন এর ৫টি জানা-অজানা কারণ

· Prothom Alo

বাইরে ঝমঝম বৃষ্টির শব্দে কেন আমাদের দুচোখ ঘুমে জড়িয়ে আসে, তা কি কখনো ভেবে দেখেছেন? এর পেছনে রয়েছে চমৎকার কিছু বৈজ্ঞানিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ, যা আমরা অনেকেই জানি না।

Visit afsport.lat for more information.

বৃষ্টির শব্দের কোনো তুলনা হয় না। অন্যরকম এক প্রশান্তি আসে বৃষ্টির শব্দে। আসলে বাঙালির আবেগের এক বড় অংশ জুড়ে আছে এই বৃষ্টির দিনা। কিন্তু বৃষ্টির দিনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ বোধহয় খিচুড়ি খেয়ে কাঁথামুড়ি দিয়ে আরামের একটা ঘুম। বাইরের ঝমঝম বৃষ্টির শব্দে কেন আমাদের দুচোখ ঘুমে জড়িয়ে আসে, তা কি কখনো ভেবে দেখেছেন? এর পেছনে রয়েছে চমৎকার কিছু বৈজ্ঞানিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ। চলুন দেখে নেওয়া যাক বৃষ্টির শব্দের এই জাদুকরী ঘুমের রহস্য।

অন্যরকম এক প্রশান্তি আসে বৃষ্টির শব্দে

বৃষ্টির ছন্দ ও ‘পিংক নয়েজ’-এর জাদু

বিজ্ঞানীদের মতে, বৃষ্টির শব্দ এক প্রকার পিংক নয়েজ। ঘুমের জন্য সহায়ক হিসেবে আমরা হোয়াইট নয়েজের (White Noise) কথা শুনলেও পিংক নয়েজ নিয়ে কথা কম হয়।হোয়াইট নয়েজ হচ্ছে একটানা বা নিরবচ্ছিন্ন এবং স্থির শব্দ যা আশেপাশের হঠাৎ আসা বিরক্তিকর শব্দ (যেমন—গাড়ির হর্ন বা কারো কথা বলা) ঢেকে ফেলে এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটা থেকে রক্ষা করে। কিন্তু পিংক নয়েজ এমন এক ধরনের শব্দ, যা তুলনামূলক বেশি প্রাকৃতিক এবং শ্রুতিমধুর। এই শব্দ মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়, কিছুটা অলসতা আনে এবং বাইরের অন্যান্য কর্কশ শব্দকে ঢেকে ফেলে। যখন বৃষ্টির একটানা ছন্দময় শব্দ আমাদের কানে আসে, তখন মস্তিষ্ক একে ‘নিরাপদ সংকেত’হিসেবে গ্রহণ করে। ফলে শরীরের স্নায়ুগুলো শিথিল হতে শুরু করে এবং আমরা দ্রুত গভীর ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে যাই।

হরমোনের খেলা ও অন্ধকার আকাশ

বৃষ্টির দিনে আকাশ মেঘলা থাকে, সূর্যের আলোর দেখা মেলে না বললেই চলে। আমাদের শরীরের ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ বা অভ্যন্তরীণ ঘড়ি সূর্যের আলোর ওপর নির্ভর করে। দিনের বেলা আলো কম থাকলে মস্তিষ্ক মনে করে রাত হয়ে গেছে। ফলে পিনিয়াল গ্ল্যান্ড থেকে ‘মেলাটোনিন’ নামক ঘুমের হরমোন নিঃসরণ বেড়ে যায়। এই হরমোনের প্রভাবে আমাদের শরীর অলস হয়ে পড়ে এবং বারবার হাই উঠতে থাকে। মূলত সূর্যের আলোর অনুপস্থিতিই শরীরকে জানান দেয় যে, এখন বিশ্রামের সময়।

সূর্যের আলোর অনুপস্থিতিই শরীরকে জানান দেয় যে, এখন বিশ্রামের সময়

শীতল আবহাওয়া ও শারীরিক প্রশান্তি

তাপমাত্রার সাথে ঘুমের এক গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বৃষ্টির ফলে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বেশ খানিকটা কমে আসে। মানুষের শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা যখন সামান্য কমে, তখনই গভীর ঘুম আসা সহজ হয়। বৃষ্টির শীতল বাতাস আর ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে। উত্তপ্ত দিনের পর বৃষ্টির এই শীতল স্পর্শ শরীরকে এতটাই আরাম দেয় যে, বিছানায় গা এলিয়ে দিলেই রাজ্যের ঘুম এসে ভিড় করে।

বাতাসের নেগেটিভ আয়ন ও মানসিক প্রশান্তি

বৃষ্টির সময় জলকণা ও বাতাসের ঘর্ষণে প্রচুর পরিমাণে ‘নেগেটিভ আয়ন’ বা ঋণাত্মক আয়ন উৎপন্ন হয়। এই আয়নগুলো রক্তের অক্সিজেন প্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করে এবং শরীরে ‘সেরোটোনিন’ নামক সুখী হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এটি একাধারে ক্লান্তি দূর করে এবং মনকে দুশ্চিন্তামুক্ত করে। একটি শান্ত ও দুশ্চিন্তামুক্ত মনই হলো ভালো ঘুমের প্রথম শর্ত।

টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ অনেককেই শৈশবের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়

শৈশবের নস্টালজিয়া

বিজ্ঞানের পাশাপাশি বৃষ্টির সাথে জড়িয়ে আছে আমাদের আবেগ। টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ অনেককেই শৈশবের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। ঘরের কোণে গুটিসুটি মেরে শুয়ে থাকার সেই নিরাপত্তা ও আরামের অনুভূতি আমাদের অবচেতন মনে এক ধরনের প্রশান্তি তৈরি করে। এই মনস্তাত্ত্বিক নির্ভরতাও বৃষ্টির দিনে দ্রুত ঘুম আসার একটি বড় কারণ।

বৃষ্টির শব্দের এই প্রাকৃতিক ঘুমপাড়ানি গান আমাদের ক্লান্ত মস্তিষ্ককে রিচার্জ করতে সাহায্য করে

বৃষ্টি কেবল প্রকৃতিকে সজীবই করে না, বরং আমাদের ব্যস্ত জীবনের যান্ত্রিকতা থেকে একটু বিরতি নেওয়ার সুযোগ করে দেয়। বৃষ্টির শব্দের এই প্রাকৃতিক ঘুমপাড়ানি গান আমাদের ক্লান্ত মস্তিষ্ককে রিচার্জ করতে সাহায্য করে। তাই পরের বার যখন বৃষ্টির শব্দে আপনার চোখে ঘুম নামবে, জানবেন প্রকৃতি আপনাকে আদর করে ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছে।

সূত্র: থট ক্যাটালগ

ছবি: এআই

Read full story at source