জাহ্নবী নিজেই সেই ‘অপ্রত্যাশিত’ মুহূর্তের কথা তুলে ধরেছেন

· Prothom Alo

জাহ্নবী কাপুরের ক্যারিয়ারে ‘পেড্ডি’ এখন শুধু একটি বাণিজ্যিক সাফল্যের নাম নয়, বরং বিতর্ক, সমালোচনা এবং আত্মপক্ষ সমর্থনেরও এক বড় অধ্যায়। ছবিতে তাঁর চরিত্র আচিয়াম্মাকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা নিয়ে মুক্তির পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা চলছে। নারীকে যৌন আবেদনময়ী হিসেবে উপস্থাপন ও নায়িকার সীমিত উপস্থিতি—সব মিলিয়ে ছবিটি সমালোচকদের নিশানায়। ঠিক এমন সময়েই জাহ্নবী নিজেই ছবির একটি অপ্রত্যাশিত মুহূর্তের কথা তুলে ধরেছেন, যেটিকে তিনি ‘পুরো ছবির সবচেয়ে বাস্তব দৃশ্য’ বলে অভিহিত করেছেন।

Visit betsport.cv for more information.

বিতর্কের মধ্যেও ‘সবচেয়ে বাস্তব’ মুহূর্ত
ছবির প্রচারণার অংশ হিসেবে প্রকাশিত এক ভিডিওতে জাহ্নবী জানান, ‘হেল্লাল্লালো’ গানের শুটিংয়ের সময় একটি দৃশ্য একেবারেই পরিকল্পিত ছিল না। নাচের মাঝখানে সহশিল্পী রামচরণের শক্তি ও উপস্থিতিতে তিনি এতটাই মুগ্ধ হয়ে পড়েছিলেন যে কোরিওগ্রাফি ভুলে কিছুক্ষণ শুধু তাঁর দিকেই তাকিয়ে ছিলেন।

জাহ্নবীর ভাষায়, ‘আমি যেন মাঝপথে থেমে গিয়ে ভাবছিলাম, আমি আসলে কী করছি! সেই মুহূর্ত একেবারে স্বতঃস্ফূর্ত ছিল। পরে নির্মাতারা সেটি গানের মধ্যেই রেখে দেন।’ অভিনেত্রীর মতে, ক্যামেরার সামনে অভিনয় করতে গিয়ে অনেক সময় এমন কিছু মুহূর্ত তৈরি হয়, যা লেখা সংলাপ বা পরিকল্পিত অভিনয়ের চেয়ে বেশি সত্য ও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে। তাঁর কাছে সেই দৃশ্য ছিল তেমনই এক মুহূর্ত।

রামচরণের প্রতি মুগ্ধতা
শুধু ওই দৃশ্য নয়, পুরো ছবিতেই রামচরণের কাজের ধরন তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে বলেও জানান জাহ্নবী। বিশেষ করে একজন ক্রীড়াবিদের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য রামচরণ যে শারীরিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গেছেন, তা তাঁকে মুগ্ধ করেছে।
জাহ্নবী বলেন, অনেক অভিনেতা চরিত্রের প্রস্তুতি নিয়ে সেটে আলাদা গুরুত্ব পেতে চান। তাঁরা প্রায়ই জানান কী খেতে পারছেন না, কতটা কষ্ট করছেন বা কী ধরনের ত্যাগ স্বীকার করছেন। কিন্তু রামচরণ ছিলেন সম্পূর্ণ উল্টো। ‘তিনি কখনোই নিজের প্রস্তুতি নিয়ে বাড়াবাড়ি করেননি। তাঁর মনোভাব ছিল—আমি এই চরিত্রে অভিনয়ের দায়িত্ব নিয়েছি, তাই সর্বোচ্চটা দেব। তিনি চুপচাপ নিজের কাজ করেছেন,’ বলেন জাহ্নবী।  এই পেশাদারত্বই রামচরণকে অন্যদের থেকে আলাদা করে বলে মনে করেন জাহ্নবী।

‘পেড্ডি’ সিনেমায় জাহ্নবী ও রামচরণ। আইএমডিবি

বাবার শেখানো পাঠ
একই ভিডিওতে রামচরণও নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেন। তিনি জানান, তাঁর বাবা, দক্ষিণি তারকা চিরঞ্জীবী তাঁকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছিলেন।
রামের কথায়, ‘বাবা সব সময় বলেন, “একজন অসাধারণ অভিনেতা যদি শৃঙ্খলাহীন হন, তাহলে তাঁর পরবর্তী কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। কিন্তু একজন মাঝারি মানের অভিনেতা যদি খুব শৃঙ্খলাবদ্ধ হন, তাহলে তিনি আবারও কাজের সুযোগ পাবেন।”’

এই শিক্ষাই রামচরণ ক্যারিয়ারের প্রতিটি ধাপে অনুসরণ করার চেষ্টা করেছেন। পেড্ডি তাঁকে শুধু একজন অভিনেতা হিসেবেই নয়, ব্যক্তি হিসেবেও আরও পরিণত করেছে বলে মনে করেন তিনি।

জাহ্নবী কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

যে বিতর্ক থামছেই না
তবে ছবি নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অন্য একটি বিষয়। মুক্তির পর দর্শকদের একাংশ অভিযোগ তোলেন, ছবিতে জাহ্নবীর চরিত্রকে অত্যধিকভাবে যৌন আবেদনময়ী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে কয়েকটি দৃশ্যে নায়ক পেড্ডি আচিয়াম্মার প্রতি যে আচরণ করে, তা অনেকের কাছে রোমান্স নয়, বরং হয়রানি বা জবরদস্তি বলে মনে হয়েছে।

শ্রীদেবী–কন্যাকে যৌন আবেদনময়ীভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ, ক্ষমা চাইলেন নির্মাতা

সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয় এমন একটি দৃশ্য, যেখানে নায়ক জোরপূর্বক নায়িকাকে চুম্বন করে। সমালোচকদের অভিযোগ, নির্মাতারা সেই দৃশ্যকে প্রেমের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যা আধুনিক দর্শকের কাছে অস্বস্তিকর।
বিতর্ক বাড়তে থাকলে পরিচালক বুচি বাবু সানা প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। তিনি স্বীকার করেন, কিছু দৃশ্য দর্শকদের আহত করেছে এবং সেগুলো সংশোধন বা বাদ দেওয়ার আশ্বাস দেন।

জাহ্নবীর অবস্থান
বিতর্কের মধ্যেই জাহ্নবী এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছিলেন যে ছবিতে তাঁর চরিত্রের উপস্থাপন নিয়ে দর্শকদের অনেক অভিযোগ যৌক্তিক। তিনি এটিকে নিজের প্রতি অসম্মান হিসেবে দেখেন কি না, সে প্রশ্নে সরাসরি কিছু না বললেও, আলোচনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, তিনি একদিকে ছবির সাফল্য উদ্‌যাপন করছেন, অন্যদিকে দর্শকদের উদ্বেগও অস্বীকার করছেন না।

বক্স অফিসে ঝড়
সমালোচনা সত্ত্বেও ‘পেড্ডি’ বক্স অফিসে দুর্দান্ত সাফল্য পেয়েছে। নির্মাতাদের দাবি অনুযায়ী, মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই ছবিটি বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩৪৫ কোটি রুপি আয় করেছে। দক্ষিণ ভারতের পাশাপাশি উত্তর ভারত ও আন্তর্জাতিক বাজারেও ছবিটি ভালো ব্যবসা করছে।

এই সাফল্য দেখিয়ে দিয়েছে, বিতর্ক কখনো কখনো একটি ছবির প্রতি দর্শকের কৌতূহলও বাড়িয়ে দেয়। তবে দীর্ঘ মেয়াদে একটি ছবির মূল্যায়ন হয় তার গল্প, চরিত্র এবং সামাজিক বার্তার ভিত্তিতে—এ কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন সমালোচকেরা।

হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

Read full story at source